সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের প্রায়ই বোঝাতে চায়, সুখ জনসমক্ষে প্রকাশ করা জরুরি। কিন্তু বাস্তবে সুখের জন্য কোনো দর্শকের প্রয়োজন হয় না। এই ক্লান্তি থেকে এখন অনেকে বেছে নিচ্ছেন জেওএমও। অর্থাৎ জয় অব মিসিং আউট বা কিছু না জানার আনন্দ। এফওএমওর যুগে যেখানে সবকিছু জানার বা দেখানোর একটা অদৃশ্য চাপ থাকে, সেখানে জেওএমও আমাদের শেখায় অন্যের দৈনন্দিন জীবনের হিসাব না রেখে নিজের ভেতরের শান্তিতে মনোযোগ দিতে। দুই হাজার বছর আগে গ্রিক দার্শনিক এপিপ্টেটাসও বলে গেছেন, প্রশিক্ষণ বা সাধনা নিজের জন্য হওয়া উচিত, অন্যকে দেখানোর জন্য নয়। একটি সুন্দর ভ্রমণ বা বড় কোনো অর্জনের সৌন্দর্য কেউ দেখল কি না, তাতে তার প্রকৃত মূল্য কমে যায় না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক সময় দেখা যায়, সুখ একটি পছন্দ। কথাটি ভালো উদ্দেশ্যে বলা হলেও এটি সব বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। সুখ কোনো স্থায়ী বা ইচ্ছেমতো সুইচ অন করার বিষয় নয়। এটি একটি অস্থায়ী আবেগ, যা বিভিন্ন জটিল উপাদানের ওপর নির্ভর করে। বিশেষ করে যাঁরা মেজর ডিপ্রেশন, বাইপোলার ডিসঅর্ডারের মতো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য জোর করে খুশি থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া অসম্ভব ও অবাস্তব। আর্থসামাজিক অবস্থা, শারীরিক স্বাস্থ্য, জিনগত কারণ কিংবা পারিপার্শ্বিক চাপ মানুষের সুখানুভূতির ওপর বড় প্রভাব ফেলে। তাই কাউকে বলা যে তুমি চাইলেই খুশি থাকতে পারো, ওটা ঠিক নয়। কথাটি উল্টো তাঁকে আরও অপরাধবোধে ভোগাতে পারে এবং মানসিক সমস্যার সঠিক চিকিৎসায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সবার সামনে জাহির করার জন্য জীবন নয়। নিজের ভেতরের প্রশান্তির জন্য বাঁচাটাই আসল। আপনার প্রতিটি মুহূর্ত সুন্দর হতে পারে, এমনকি তার কোনো সাক্ষী বা দর্শক না থাকলেও। সুখ যদি হুট করে বেছে নেওয়া না যায়, তবে ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে এটিকে নিজের জীবনে চাষ করে নেওয়া সম্ভব। যেমন—
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন: প্রতিদিন নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া ছোট ছোট ভালো বিষয়গুলোর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার অভ্যাস করুন।
মনোযোগ বা মাইন্ডফুলনেস বাড়ান: বর্তমান মুহূর্তে বেঁচে থাকা এবং গভীরভাবে চারপাশ অনুভব করা মনের শান্তি বাড়ায়।
স্ক্রিন টাইম কমান: সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় কাটানো বিষণ্নতা ও একাকিত্ব বাড়াতে পারে। তাই অনলাইন দুনিয়া থেকে মাঝেমধ্যে বিরতি নিন।
নিজের যত্ন ও থেরাপি: পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং প্রয়োজনে পেশাদার চিকিৎসকের সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না।
সূত্র: মিডিয়াম, বেটার হেল্প, দ্য চোসুনিলবো

দৈনিক টার্গেট 

























