২০০১ সালে ‘পায়াক্ট বাংলাদেশ’ নামের একটি সামাজিক সংগঠনে পিয়ার এডুকেটর হিসেবে কাজ শুরু করার মধ্য দিয়ে ফরিদার জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করে। যৌনপল্লির নারীদের স্বাস্থ্যসেবা, সচেতনতা বৃদ্ধি ও অধিকার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেন, তাঁর মতো আরও কতশত নারী প্রতিদিন নিঃশব্দে পোহাচ্ছেন অকথ্য যন্ত্রণা। সেই তাগিদ থেকেই অন্য ১০ জনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ‘অবহেলিত মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা’। বর্তমানে এই সংগঠনের সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করে তিনি দৌলতদিয়া যৌনপল্লির অবহেলিত নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
অর্ধশত নারীর সংসার ও মানবাধিকারের লড়াই
ফরিদার এই লড়াই কেবল নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাঁর দূরদর্শী পরামর্শ ও সাহচর্যে দৌলতদিয়া যৌনপল্লির অন্ধকার ছেড়ে নতুন জীবন শুরু করেছেন প্রায় অর্ধশত নারী। তাঁদের কেউ বেছে নিয়েছেন স্বাভাবিক সংসারজীবন, কেউ আবার যুক্ত হয়েছেন মানবাধিকার ও সেবামূলক কাজে। জেলী আক্তার কিংবা দেবীর মতো নারীরা আজ সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আত্মবিশ্বাসী জীবন কাটাচ্ছেন। বর্তমানে ফরিদার গড়া এই সংগঠনের সঙ্গেই যুক্ত হয়ে বিভিন্ন এনজিও ও মানবাধিকার সংস্থায় কাজ করছেন প্রায় ৩০ জন নারী-পুরুষ, যা অবহেলিত মানুষের জীবনে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চ
দৌলতদিয়ার নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো, সচেতনতা তৈরি এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু থেকেই উদ্বিগ্ন ফরিদা। শিশুদের জন্মপরিচয় বা পারিবারিক বাস্তবতার কারণে তারা যেন কোনোভাবেই শিক্ষা ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লড়াইও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। প্রান্তিক এই নারীদের অধিকার ও স্বাস্থ্যসেবার দাবি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে তিনি ইতিমধ্যে চারটি দেশে ১০ বার বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অংশ নিয়েছেন। ফরিদার এই পথচলা তাই আজ কেবল একটি স্থানীয় উদ্যোগ নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে অবহেলিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক দীপ্ত প্রতীক।

দৈনিক টার্গেট 




















