বাংলাদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বিরল প্রজাতির অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে আর কুরবানি করা হচ্ছে না।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাণীটিকে সংরক্ষণ করে রাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় রাখা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
ঈদের আগ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরল রঙ ও ব্যতিক্রমী চেহারার কারণে মহিষটি আগেই মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল।
পুলিশি তৎপরতায় উদ্ধার
বুধবার বিকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকায় মহিষটির বর্তমান মালিক মনিরুজ্জামানের বাড়ি থেকে সেটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে প্রাণীটিকে নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় নেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুরবানির জন্য কেনা হলেও বিরল প্রাণী হিসেবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত আসায় মালিকও সরকারের সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন।
কেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নাম?
চার বছর বয়সি মহিষটির ওজন প্রায় ৬৮০ কেজি। এর শরীরের গোলাপি আভাযুক্ত ত্বক ও মাথার সোনালি ঢেউখেলানো লোম অনেকের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুলের স্টাইলের কথা মনে করিয়ে দেয়। সেই কারণেই নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার একটি খামারে প্রাণীটির নাম রাখা হয়েছিল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
খামার মালিকের পরিবারের সদস্যরাই প্রথমে মজার ছলে নামটি ব্যবহার করলেও পরে সেটিই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আলোচনায়
বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর মহিষটি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পরিচিতি পায়। বিশ্বের বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম প্রাণীটিকে নিয়ে আলাদা ফিচার ও ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এর ব্যতিক্রমী রঙ, বিরল জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং নাম সব মিলিয়ে এটি বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
রাজকীয় আয়োজনে বাড়িতে আনা হয়েছিল
গত সোমবার মহিষটিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে কেরানীগঞ্জে নিয়ে আসা হয় বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে। লালগালিচা, রঙিন ধোঁয়া ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রাণীটিকে বরণ করে নেওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় মানুষজনও ভিড় করে একনজর দেখার জন্য।
সরকার যেভাবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিল
সরকারের একাধিক সূত্র জানায়, প্রাণীটির বিরলতা এবং জনসাধারণের আগ্রহ বিবেচনায় এটিকে বাঁচিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এটি শুধু একটি কুরবানির পশু নয়; বরং গবেষণা ও সংরক্ষণের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি উদ্যোগে প্রাণীটির বর্তমান মালিককে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে অথবা বিকল্প কুরবানির পশুর ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
চিড়িয়াখানায় বিশেষ ব্যবস্থাপনা
মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে মহিষটিকে গ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। চিড়িয়াখানার একটি বড় শেডে প্রাণীটিকে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তবে সরাসরি প্রদর্শনীতে না এনে প্রথমে দুই সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। এ সময় স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জীবাণুমুক্তকরণ এবং শারীরিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।
কেন এমন রঙ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মহিষটির এই অস্বাভাবিক রঙের পেছনে রয়েছে জিনগত পরিবর্তন। প্রাণীর শরীরে মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থ কম থাকলে ত্বক ও লোমে সাদা বা গোলাপি আভা দেখা দিতে পারে। একই বংশের মধ্যে প্রজননের কারণেও এমন বৈশিষ্ট্য তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রতি কয়েক হাজার মহিষের মধ্যে খুব কম সংখ্যক প্রাণীর ক্ষেত্রে এমন বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, যা এটিকে আরও বিরল করে তুলেছে।
কৌতূহলের কেন্দ্রে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’
বর্তমানে মহিষটিকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ কমছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে এটিকে “বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত মহিষ” বলেও উল্লেখ করছেন।
চিড়িয়াখানায় নেওয়া হলে দর্শনার্থীদের জন্য এটি বড় আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।















Leave a Reply