দণ্ড ও যুবদল নেতা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৭:৪০:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত হয়েছে

কিন্তু বেরসিক সাংবাদিকেরা কেন যে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর যুব আহ্বায়ককে ‘টার্গেট’ করলেন, তা নিয়ে শাহীন আলম অভিযোগ করতেই পারেন। তিনি বলতে পারেন, ‘কেন রে বাবা! এই দুনিয়ায় কি আমার মতো আর কোনো সাজাপ্রাপ্ত নেতা নেই? আর কারও কি পাঁচটা মামলায় সাজা হয়নি? আর কারও ওপর কি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি নেই? তাহলে আমাকে নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া কেন?’

শাহীন আলম বলতেই পারেন, ‘আমাদের দল সরকারে আছে না? সরকারি দলের একজন নেতা হিসেবে আমার কিছু অগ্রাধিকার থাকবে না? ঋণ পরিশোধ না করার কারণে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমার নামে কয়েকটি মামলা করতে পারে। তারই একটি মামলায় রাজশাহীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বিচারক আমাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিতে পারেন। এর সঙ্গে আবার ২১ লাখ ৮৬ হাজার ২৪১ টাকা অর্থদণ্ডও দিতে পারেন। অন্য আরেকটি মামলায় যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের মামলায়ও আমি এক বছরের কারাদণ্ড আর ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড পেতে পারি। একজন সরকারি দলের নেতার কি সামান্য বাড়তি সুযোগ-সুবিধা থাকবে না?’

আরও যে মামলা ও সাজা আছে তাঁর বিরুদ্ধে, সেটা আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেই জেনে নেওয়া যাবে। শাহীন আলম গুণে গুণমণি। রাজহাঁসের মতো পানিতে ভাসছেন। এক ফোঁটা পানিও তাঁর শরীর স্পর্শ করছে না!

থানার ওসি শাহীন আলমের ‘মর্যাদা’ বুঝতে পারেন। তিনি যখন মাঝে মাঝে মোহনপুর থানায় যান, তখন থানার ওসি তাঁর সঙ্গে আড্ডা দেন বলে প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে। আর চা দিয়ে আপ্যায়ন তো আমাদের বাঙালি শিষ্টাচারের প্রকাশ। সুতরাং সামনে এক কাপ চা-ও চলে আসে। তাতে আড্ডাটা জম্পেশ হয়। এক আড্ডায় মিলিত হলেও তাঁর কাছে শাহীন আলমের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি দৃঢ় চিত্তে বলেন, ‘আমরা শাহীনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।’ তিনি হয়তো ঠিকই বলেছেন। চায়ের আসর থেকে তো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায় না। গ্রেপ্তার করতে হবে ‘ফোর্স’ নিয়ে গিয়ে কোনো গোপন আস্তানা থেকে!

শুধু শান্তির ললিতবাণী আওড়ে কি এ ধরনের অরাজকতা থামানো যাবে? এই লোককে গ্রেপ্তার করে, তাঁর বিচার করে একই ধরনের দুষ্টগ্রহগুলোকে বার্তা দিন, ‘সাবধান। সরকারি দলে থাকলেই ধরাকে সরা ভাবার কোনো সুযোগ নেই।’ পারবে সরকার সে অবস্থানে দৃঢ় হতে? এটা কোটি টাকার প্রশ্ন। উত্তর ইতিবাচক না হলে এ প্রশ্নের এক পয়সাও দাম নেই!

আমাদের এই সমাজেই একশ্রেণির মানুষ আছে, যারা বছরের পর বছর নীরবে কাজ করে চলে। তাদের শ্রমে-ঘামে আমাদের দেশের অর্থনীতি চলে, আমাদের খাওয়া-পরার ব্যবস্থা হয়। কিন্তু তাদের দুঃখ দেখার কেউ নেই। তারা সংঘটিত নয়, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে সারা বাংলার গ্রামেগঞ্জে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আলোচনা হলেই হাসপাতালের শয্যা, চিকিৎসকের সংখ্যা, ওষুধের দাম কিংবা যন্ত্রপাতির সংকট সামনে আসে। এগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু চিকিৎসা ব্যবস্থার সবচেয়ে মৌলিক, অথচ তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত ভিত্তি হলো রোগ নির্ণয় বা পরীক্ষাগার সেবা।

জনপ্রিয় টার্গেট

দণ্ড ও যুবদল নেতা

প্রকাশ: ০৭:৪০:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কিন্তু বেরসিক সাংবাদিকেরা কেন যে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর যুব আহ্বায়ককে ‘টার্গেট’ করলেন, তা নিয়ে শাহীন আলম অভিযোগ করতেই পারেন। তিনি বলতে পারেন, ‘কেন রে বাবা! এই দুনিয়ায় কি আমার মতো আর কোনো সাজাপ্রাপ্ত নেতা নেই? আর কারও কি পাঁচটা মামলায় সাজা হয়নি? আর কারও ওপর কি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি নেই? তাহলে আমাকে নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া কেন?’

শাহীন আলম বলতেই পারেন, ‘আমাদের দল সরকারে আছে না? সরকারি দলের একজন নেতা হিসেবে আমার কিছু অগ্রাধিকার থাকবে না? ঋণ পরিশোধ না করার কারণে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমার নামে কয়েকটি মামলা করতে পারে। তারই একটি মামলায় রাজশাহীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বিচারক আমাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিতে পারেন। এর সঙ্গে আবার ২১ লাখ ৮৬ হাজার ২৪১ টাকা অর্থদণ্ডও দিতে পারেন। অন্য আরেকটি মামলায় যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের মামলায়ও আমি এক বছরের কারাদণ্ড আর ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড পেতে পারি। একজন সরকারি দলের নেতার কি সামান্য বাড়তি সুযোগ-সুবিধা থাকবে না?’

আরও যে মামলা ও সাজা আছে তাঁর বিরুদ্ধে, সেটা আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেই জেনে নেওয়া যাবে। শাহীন আলম গুণে গুণমণি। রাজহাঁসের মতো পানিতে ভাসছেন। এক ফোঁটা পানিও তাঁর শরীর স্পর্শ করছে না!

থানার ওসি শাহীন আলমের ‘মর্যাদা’ বুঝতে পারেন। তিনি যখন মাঝে মাঝে মোহনপুর থানায় যান, তখন থানার ওসি তাঁর সঙ্গে আড্ডা দেন বলে প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে। আর চা দিয়ে আপ্যায়ন তো আমাদের বাঙালি শিষ্টাচারের প্রকাশ। সুতরাং সামনে এক কাপ চা-ও চলে আসে। তাতে আড্ডাটা জম্পেশ হয়। এক আড্ডায় মিলিত হলেও তাঁর কাছে শাহীন আলমের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি দৃঢ় চিত্তে বলেন, ‘আমরা শাহীনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।’ তিনি হয়তো ঠিকই বলেছেন। চায়ের আসর থেকে তো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায় না। গ্রেপ্তার করতে হবে ‘ফোর্স’ নিয়ে গিয়ে কোনো গোপন আস্তানা থেকে!

শুধু শান্তির ললিতবাণী আওড়ে কি এ ধরনের অরাজকতা থামানো যাবে? এই লোককে গ্রেপ্তার করে, তাঁর বিচার করে একই ধরনের দুষ্টগ্রহগুলোকে বার্তা দিন, ‘সাবধান। সরকারি দলে থাকলেই ধরাকে সরা ভাবার কোনো সুযোগ নেই।’ পারবে সরকার সে অবস্থানে দৃঢ় হতে? এটা কোটি টাকার প্রশ্ন। উত্তর ইতিবাচক না হলে এ প্রশ্নের এক পয়সাও দাম নেই!

আমাদের এই সমাজেই একশ্রেণির মানুষ আছে, যারা বছরের পর বছর নীরবে কাজ করে চলে। তাদের শ্রমে-ঘামে আমাদের দেশের অর্থনীতি চলে, আমাদের খাওয়া-পরার ব্যবস্থা হয়। কিন্তু তাদের দুঃখ দেখার কেউ নেই। তারা সংঘটিত নয়, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে সারা বাংলার গ্রামেগঞ্জে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আলোচনা হলেই হাসপাতালের শয্যা, চিকিৎসকের সংখ্যা, ওষুধের দাম কিংবা যন্ত্রপাতির সংকট সামনে আসে। এগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু চিকিৎসা ব্যবস্থার সবচেয়ে মৌলিক, অথচ তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত ভিত্তি হলো রোগ নির্ণয় বা পরীক্ষাগার সেবা।