আজ সোমবার শীর্ষ আদালত এক নির্দেশনায় জানান, আগামী ৭ ও ৮ নভেম্বর দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে (এনসিআর) নির্দিষ্ট শর্ত মেনে পরিবেশবান্ধব আতশবাজি পোড়ানো যাবে। তবে ৯ নভেম্বর থেকে আবারও আতশবাজির ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
আদালত সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দিয়ে জানিয়েছেন, উৎসবের আগের দিন ও দীপাবলির দিন (৭ ও ৮ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে ৭টা এবং রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বাজি ফোটানো যাবে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাসপাতাল, নার্সিং হোম, প্রাথমিক ও জেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম এবং যেকোনো নীরব এলাকা (সাইলেন্স জোন)-র ৩০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনো বাজি ফোটানো যাবে না।
আদালত এই এলাকাগুলোকে ‘নো-ক্র্যাকার জোন’ হিসেবে ঘোষণা করে সেখানে সীমানা চিহ্নিত করা এবং তা প্রকাশ্যে প্রচার করার আদেশ দিয়েছেন। একই নিষেধাজ্ঞা সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা বনাম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেন, ‘একবারে পুরো নিষেধাজ্ঞা জারি করাই হয়তো আদর্শ সমাধান বলে মনে হতে পারে, কিন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আসলেই সেরা উপায় কি না তা বিচারের জন্য আদালতের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।’
আদালত উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে দিল্লি-এনসিআরে পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বাতাসের মানের কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। ফলে সেই নিষেধাজ্ঞা কতটুকু সফল হয়েছে তার স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
উৎসবের ধর্মীয় ও মানসিক দিক স্মরণ করিয়ে বিচারকেরা বলেন, ‘মানুষের আশা, কল্যাণ ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে দীপাবলির একটি সামাজিক ও আবেগগত গুরুত্ব রয়েছে। তবে উৎসবের নামে পরিবেশের ক্ষতি করে সর্বসাধারণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করা উৎসবের মূল উদ্দেশ্যকেই বিনষ্ট করে।’
‘সবুজ বাজি’ কী, কীভাবে চেনা যাবে?
ভারতের সরকারের পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা সংস্থা ‘সিএসআইআর-নিরি’ (CSIR-NEERI) পরিবেশবান্ধব আতশবাজি উদ্ভাবন করেছে। সংস্থার দাবি, এটি সাধারণ বাজির তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম দূষণ সৃষ্টি করে। এতে ব্যারিয়াম ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো ক্ষতিকারক রাসায়নিকের পরিমাণ কম থাকে এবং ধোঁয়া ও ধূলা কমানোর বিশেষ উপাদান যুক্ত থাকে। এ ছাড়া এই বাজিগুলো তুলনামূলক কম শব্দ তৈরি করে এবং কম সময় ধরে জ্বলে।
বাইরের এলাকা থেকে দিল্লিতে অবৈধ ও নিষিদ্ধ বাজি প্রবেশ রোধ করতে সীমানাগুলোতে যানবাহন তল্লাশি জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার বিরাট কোহলিদের মতো তারকাদের প্রচারণায় নামানোর পরামর্শ দিয়েছেন আদালত।
নির্দেশনা অমান্য করলে বাজি প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতাদের জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাদের লাইসেন্স বাতিল করার কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন শীর্ষ আদালত।

দৈনিক টার্গেট 























