১৯৯০ সালে গঠিত আইসা ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের বিভিন্ন ধারার ভাঙন ও পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা একটি বামপন্থী ছাত্রসংগঠন। এটি কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশন বা সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ছাত্রসংগঠন।
ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের ইতিহাসে ১৯২৫ সালে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই) গঠনের পর ১৯৩৬ সালে এর ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এআইএসএফ) গঠিত হয়। ১৯৬৪ সালে সিপিআই ভেঙে সিপিআই(এম) গঠিত হলে ১৯৭০ সালের ছাত্রসংগঠন স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) গড়ে ওঠে।
তবে আইসার রাজনৈতিক শিকড় আরও গভীরে যুক্ত নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে।
১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে পশ্চিমবঙ্গে নকশালবাড়ি কৃষক বিদ্রোহের সূত্র ধরে চারু মজুমদার ও কানু সান্যালের নেতৃত্বে সিপিআই(এম)-এর বিদ্রোহী কর্মীরা সশস্ত্র আন্দোলনের পথে এগিয়ে যান। ১৯৬৯ সালের মে মাসে চারু মজুমদারের আদর্শিক নেতৃত্বে সিপিআই(এমএল) গঠিত হয়। পরে আন্দোলনটি পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও অন্ধ্র প্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
সরকারি দমন-পীড়নের মধ্যে ১৯৭০-এর দশকে নকশাল আন্দোলনে বিভাজন দেখা দেয়। চারটি প্রধান ধারার মধ্যে ছিল দক্ষিণ দেশ, পিপলস ওয়ার গ্রুপ (পিডব্লিউজি), পার্টি ইউনিটি এবং সিপিআই(এমএল) লিবারেশন।
প্রথম তিনটি ধারা সশস্ত্র সংগ্রামের পথ ধরে এগিয়ে যায়। তাদের লক্ষ্য ছিল গ্রামাঞ্চলে ঘাঁটি গড়ে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ধীরে ধীরে শহর ঘেরাও করে ভারতীয় রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা।
অন্যদিকে সিপিআই(এমএল) লিবারেশন ১৯৭৭ সালে সশস্ত্র সংগ্রামের পথ পরিত্যাগ করে গণভিত্তিক কৃষক আন্দোলন গড়ে তোলার দিকে যায়।
১৯৮২ সালে দলটি ইন্ডিয়ান পিপলস ফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেওয়া শুরু করে। ১৯৮৯ সালে বিহারের আরা আসন থেকে রামেশ্বর প্রসাদ প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে দলটি বিহারে ইন্ডিয়া জোটের একটি শরিক।
১৯৯০ সালে প্রগ্রেসিভ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (পিএসও), অল বেঙ্গল স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং অল বিহার স্টুডেন্ট ইউনিয়নসহ কয়েকটি বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের একীভবনের মাধ্যমে আইসা গড়ে ওঠে।
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়সহ (জেএনইউ) উত্তর ভারতের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগঠনটি দ্রুত প্রভাব বিস্তার করে। ১৯৯১ সালে জেএনইউ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আইসার প্রথম প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন গোপাল প্রধান।
১৯৯৩ সালে আনন্দ প্রধান বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে আইসার প্রার্থী হিসেবে ছাত্র সংসদের সভাপতি নির্বাচিত হন। একই বছর এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমায়ুন বিশ্ববিদ্যালয় ও জেএনইউতেও আইসার প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ পদে জয় পান।
আইসা নিজেকে একটি বামপন্থী ছাত্রসংগঠন হিসেবে তুলে ধরে। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, তারা শিক্ষার্থীবিরোধী ও জনবিরোধী ডানপন্থী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। একই সঙ্গে বামপন্থী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ভেতরের ‘সুবিধাবাদী’ ও ‘আধা-নৈরাজ্যবাদী’ প্রবণতারও সমালোচনা করে।
ভারতের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইসার দীর্ঘদিনের উপস্থিতি রয়েছে। জেএনইউতে ২০০৩ সালের পর ১১ জন ছাত্র সংসদ সভাপতি আইসা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের কয়েকজন পরে কংগ্রেসে যোগ দেন।
১৯৯৭ সালে বিহারের সিওয়ানে নিহত সাবেক জেএনইউ ছাত্র সংসদ সভাপতি চন্দ্রশেখর প্রসাদও আইসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বিহারে আইসার ওবিসি নেতৃত্বের উপস্থিতিও সংগঠনটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, এসএফআইয়ের নেতৃত্ব দীর্ঘ সময় মূলত কেরালা ও পশ্চিমবঙ্গের উচ্চবর্ণের নেতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল বলে আইসার নেতারা দাবি করেন।
২০২৫ ও ২০২৬ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আইসা-এসএফআই জোটের সভাপতি প্রার্থীরা ৫ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন। তবে তা প্রভাবশালী এবিভিপি ও এনএসইউআই প্রার্থীদের ভোটের তুলনায় অনেক কম।
দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে অনূদিত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতির চুক্তি হয়েছে। সেই চুক্তির এক বছর হয়েছে। চুক্তির আলোকে গাজায় প্রাথমিকভাবে শাসনকার্য পরিচালনার জন্য গঠিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি এখনো দায়িত্ব গ্রহণ করেনি। তারা কায়রোতেই অবস্থান করছে এবং গাজায় প্রবেশে ইসরায়েলের অনুমতির…
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের জাঁতাকল, চড়া সুদহার, শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বৈরী আবহাওয়ার নানা বাধা সত্ত্বেও ভারত সাড়ে ৭ শতাংশের বেশি ঈর্ষণীয় গতিতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের দাবি করছে। যদিও ভারতের বিরোধীদের মধ্যে এই হার নিয়ে তীব্র দ্বিমত রয়েছে।
দৈনিক টার্গেট 























