দৈনিক টার্গেট

দেশের চেতনায়

পুলিশ হেফাজতে আসামির বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা, আদালতের কঠোর নির্দেশ

পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামিদের বক্তব্য প্রকাশ বা প্রচারের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন আদালত। বিচারিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এমন বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে এক মামলার শুনানিকালে এ নির্দেশনা আসে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর বিচারক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্টদের।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বিচারকের সম্মুখে ছাড়া পুলিশ হেফাজতে থাকা কোনো আসামির বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। বিদ্যমান আইন ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী হেফাজতে থাকা বা সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির বক্তব্য প্রচার বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। এ কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে এবং এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রদান করেন।

এদিকে রাজধানীর পল্লবীতে এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত মামলার সাক্ষ্যগ্রহণও শুরু হয়েছে। মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেন নিহত শিশুর বাবা। পরবর্তীতে সাক্ষ্য দেন শিশুটির মা। তাদের বক্তব্যের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী জেরা পরিচালনা করেন।

এ ছাড়া আদালত বিশেষ পদ্ধতিতে নিহত শিশুর বড় বোনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। মামলার পরবর্তী ধাপে চিকিৎসক, তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আলামত সংগ্রহকারী সদস্য এবং স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীর বক্তব্য গ্রহণের কথা রয়েছে।

মামলার দুই আসামিকে সকালে পৃথক কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। শুনানির সময় তাদের আদালতের এজলাসে উপস্থিত রাখা হয়। এর আগে আদালত তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

তদন্ত সংস্থা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এক শিশু গত মে মাসে নিজ বাসার এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় একটি কক্ষের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই একজন আসামিকে আটক করা হয় এবং অপর আসামিকে প্রযুক্তিগত সহায়তায় অন্য এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ঘটনার পর ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।