বিটিআরসির এক কর্মকর্তার কক্ষ ১০ দিন ধরে ‘সিলগালা’

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:২৮:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮৩ বার পঠিত হয়েছে

বিটিআরসি বলছে, এটি প্রশাসনিক কার্যক্রম। তবে ওএসডি হওয়া কর্মকর্তা সনজিব কুমার সিংহের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, তদন্ত বা বিভাগীয় কার্যক্রম না থাকলেও এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিষয়টি অভ্যন্তরীণ ও প্রশাসনিক বিষয়। তাঁর বিরুদ্ধে কিছু এলিগেশন (অভিযোগ) আছে।’

এরপর ৩১ মার্চ বিটিআরসি সনজিব কুমার সিংহকে রংপুর স্পেকট্রাম মনিটরিং স্টেশনে এবং আরেক উপপরিচালক এস এম আফজাল রেজাকে সিলেট মনিটরিং স্টেশনে সংযুক্ত করে। তাঁদের অবিলম্বে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিটিআরসি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপপরিচালক সনজিব কুমার সিংহকে এক বছরে একাধিকবার বিভাগ পরিবর্তন করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্টদের মতে হয়রানিমূলক পদক্ষেপের অংশ হতে পারে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি তাঁকে লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগ থেকে অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব বিভাগে বদলি করা হয়। মাত্র চার মাস পর ২১ মে তাঁকে অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব বিভাগ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগে বদলি করা হয়। সেখানে কোনো কাজ না দিয়ে নিষ্ক্রিয় করে রেখে তিন মাস ১০ দিন পর ৩১ আগস্ট পুনরায় বদলি করে এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড ইন্সপেকশন ডাইরেক্টরেট এ দেওয়া হয়। ঠিক সাত মাস পর ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ তাঁকে রংপুর মনিটরিং স্টেশনে নিম্নস্তরের পদে বদলি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

৩১ মার্চের বদলি আদেশের বিরুদ্ধে সনজিব কুমার সিংহ ও এস এম আফজাল রেজা পুনরায় উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। এই রিটের প্রেক্ষিতে আদালত গত ২৩ এপ্রিল প্রথমে দুই মাসের জন্য এবং পরবর্তীতে ৯ জুন ছয় মাসের জন্য বদলি আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন।

স্থগিতাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বদলি আদেশ কার্যকর না করে ওই দুই কর্মকর্তাকে প্রশাসন বিভাগে সংযুক্ত করে। তবে বদলি ও সংযুক্তি আদেশের সময় থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাস তাঁদের কোনো ধরনের দাপ্তরিক কাজ দেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁদের ডি-নথি অ্যাকাউন্টও বন্ধ করা হয়েছে। বিভাগের রেজিস্ট্রার খাতায় তাঁদের স্বাক্ষরের জন্য নাম অন্তর্ভুক্ত না করা এবং বিভিন্ন ধরনের সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণ, অফিস আদেশে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সনজিব কুমার সিংহ জানান, ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁর কক্ষে তিনি ও আরও তিন সহকর্মী কাজী আরসানুল হাবিব মিথুন, জাকির হোসেন খান ও এস এম আফজাল রেজা ছিলেন। দুপুরের খাবার খেতে যাওয়ার আগে তাঁরা কয়েক মিনিটের জন্য সেখানে বসেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও কমিশন সচিব তাঁর কক্ষে আসেন। তাঁরা কক্ষে কী হচ্ছে, কী নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে এবং কোনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্ন করেন। প্রায় পাঁচ থেকে ১০ মিনিট কথা বলার পর তাঁরা চলে যান।

সনজিব বলেন, ‘আমরা কোনো ষড়যন্ত্র করছিলাম না। ওই সময় কক্ষে যে চারজন ছিলেন, তাঁদের মধ্যে শুধু আমাকেই ওএসডি করা হয়েছে।’ তাঁর দাবি, সেদিন বেলা সাড়ে ৩টা থেকে পৌনে ৪টার দিকে তিনি ওএসডির আদেশ পান। পরদিন তাঁর কক্ষ সিলগালা করা হয়েছে বলে জানতে পারেন।

কক্ষ সিলগালা প্রসঙ্গে সনজিব কুমার বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও ওই কক্ষে রয়েছে। আমার জানা মতে, এভাবে কক্ষ সিলগালা করারও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সেই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’ তাঁর দাবি, এর আগে বিটিআরসিতে বিভিন্ন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হলেও তাঁদের কক্ষ এভাবে সিলগালা করা হয়নি।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান এ বিষয়ে বলেন, ‘তাঁকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করা হয়েছে। তাঁকে কোনো নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের আগে এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’

বাংলাদেশে ফ্রি ট্রেড জোন, রেলভিত্তিক ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনালের ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি, বন্দর আধুনিকায়ন ও লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়।

জনপ্রিয় টার্গেট

বিটিআরসির এক কর্মকর্তার কক্ষ ১০ দিন ধরে ‘সিলগালা’

প্রকাশ: ১২:২৮:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

বিটিআরসি বলছে, এটি প্রশাসনিক কার্যক্রম। তবে ওএসডি হওয়া কর্মকর্তা সনজিব কুমার সিংহের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, তদন্ত বা বিভাগীয় কার্যক্রম না থাকলেও এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিষয়টি অভ্যন্তরীণ ও প্রশাসনিক বিষয়। তাঁর বিরুদ্ধে কিছু এলিগেশন (অভিযোগ) আছে।’

এরপর ৩১ মার্চ বিটিআরসি সনজিব কুমার সিংহকে রংপুর স্পেকট্রাম মনিটরিং স্টেশনে এবং আরেক উপপরিচালক এস এম আফজাল রেজাকে সিলেট মনিটরিং স্টেশনে সংযুক্ত করে। তাঁদের অবিলম্বে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিটিআরসি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপপরিচালক সনজিব কুমার সিংহকে এক বছরে একাধিকবার বিভাগ পরিবর্তন করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্টদের মতে হয়রানিমূলক পদক্ষেপের অংশ হতে পারে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি তাঁকে লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগ থেকে অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব বিভাগে বদলি করা হয়। মাত্র চার মাস পর ২১ মে তাঁকে অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব বিভাগ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগে বদলি করা হয়। সেখানে কোনো কাজ না দিয়ে নিষ্ক্রিয় করে রেখে তিন মাস ১০ দিন পর ৩১ আগস্ট পুনরায় বদলি করে এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড ইন্সপেকশন ডাইরেক্টরেট এ দেওয়া হয়। ঠিক সাত মাস পর ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ তাঁকে রংপুর মনিটরিং স্টেশনে নিম্নস্তরের পদে বদলি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

৩১ মার্চের বদলি আদেশের বিরুদ্ধে সনজিব কুমার সিংহ ও এস এম আফজাল রেজা পুনরায় উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। এই রিটের প্রেক্ষিতে আদালত গত ২৩ এপ্রিল প্রথমে দুই মাসের জন্য এবং পরবর্তীতে ৯ জুন ছয় মাসের জন্য বদলি আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন।

স্থগিতাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বদলি আদেশ কার্যকর না করে ওই দুই কর্মকর্তাকে প্রশাসন বিভাগে সংযুক্ত করে। তবে বদলি ও সংযুক্তি আদেশের সময় থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাস তাঁদের কোনো ধরনের দাপ্তরিক কাজ দেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁদের ডি-নথি অ্যাকাউন্টও বন্ধ করা হয়েছে। বিভাগের রেজিস্ট্রার খাতায় তাঁদের স্বাক্ষরের জন্য নাম অন্তর্ভুক্ত না করা এবং বিভিন্ন ধরনের সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণ, অফিস আদেশে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সনজিব কুমার সিংহ জানান, ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁর কক্ষে তিনি ও আরও তিন সহকর্মী কাজী আরসানুল হাবিব মিথুন, জাকির হোসেন খান ও এস এম আফজাল রেজা ছিলেন। দুপুরের খাবার খেতে যাওয়ার আগে তাঁরা কয়েক মিনিটের জন্য সেখানে বসেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও কমিশন সচিব তাঁর কক্ষে আসেন। তাঁরা কক্ষে কী হচ্ছে, কী নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে এবং কোনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্ন করেন। প্রায় পাঁচ থেকে ১০ মিনিট কথা বলার পর তাঁরা চলে যান।

সনজিব বলেন, ‘আমরা কোনো ষড়যন্ত্র করছিলাম না। ওই সময় কক্ষে যে চারজন ছিলেন, তাঁদের মধ্যে শুধু আমাকেই ওএসডি করা হয়েছে।’ তাঁর দাবি, সেদিন বেলা সাড়ে ৩টা থেকে পৌনে ৪টার দিকে তিনি ওএসডির আদেশ পান। পরদিন তাঁর কক্ষ সিলগালা করা হয়েছে বলে জানতে পারেন।

কক্ষ সিলগালা প্রসঙ্গে সনজিব কুমার বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও ওই কক্ষে রয়েছে। আমার জানা মতে, এভাবে কক্ষ সিলগালা করারও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সেই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’ তাঁর দাবি, এর আগে বিটিআরসিতে বিভিন্ন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হলেও তাঁদের কক্ষ এভাবে সিলগালা করা হয়নি।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান এ বিষয়ে বলেন, ‘তাঁকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করা হয়েছে। তাঁকে কোনো নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের আগে এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’

বাংলাদেশে ফ্রি ট্রেড জোন, রেলভিত্তিক ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনালের ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি, বন্দর আধুনিকায়ন ও লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়।