আজ রোববার সংসদ ভবনে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
কমিটির সভাপতি নাসের রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য ও ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, জয়নাল আবদিন, সুলতানা আহমেদ, মো. মাহবুবুর রহমান (বেলাল) এবং মুহাম্মদুল্লাহ।
বাংলাদেশে সাব-রেজিস্ট্রাররা আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীন। তাঁদের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন অধিদপ্তর। দীর্ঘদিন ধরেই নিবন্ধন কার্যক্রম ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকের আগে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনির্ধারিত আলোচনা করেন ভূমিমন্ত্রী ও ভূমি সচিব। ওই আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী সাব-রেজিস্ট্রারদের ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
সাব-রেজিস্ট্রারদের ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে সংসদীয় কমিটির সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অনেক দলিল হয়। মূলত দলিলটা হলো জমির। জমির দলিলের সঙ্গে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্পর্ক, আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নয়। এ জন্য তারা (সরকার) চাচ্ছে সবকিছু এক ছাতার নিচে আনতে, যাতে গ্রাহকেরা এক জায়গা থেকেই সব সেবা পান। এটাই মূল কথা।’
কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি সভাপতি নাসের রহমান দিয়েছেন বলে জানান মুহাম্মদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘সভাপতির প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠকে অনেক আলোচনা হয়েছে। আমরা এতে সমর্থন জানিয়ে বলেছি, এক ছাতার নিচে যদি গ্রাহকেরা সব সুবিধা পান, সেটি ভালো হয়। আমরা একে কল্যাণকর মনে করি। তাই সমর্থন করেছি।’
বৈঠকে সর্বস্তরের বৈষম্য, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি দূর করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা নির্মাণে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ভূমি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে অবৈধ দখলকারীদের অবস্থান নিশ্চিত করতে জেলাওয়ারি অর্পিত সম্পত্তির পরিমাণ ও সম্ভাব্য মৌজা মূল্য নির্ধারণ এবং দীর্ঘদিন ধরে চলমান মামলা নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
এ বিষয়ে কমিটির সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, ‘সরকারি অনেক সম্পদ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে (ক শ্রেণির) আছে। এগুলোর তদারকি হচ্ছে না। এসব সম্পদ হিসাবের মধ্যে নিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোন জেলায় কতটুকু জমি আছে, সেগুলোর বাজারমূল্য কত, সেই তথ্য বের করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যারা সরকারি জমিতে বসবাস করে, বিহারি ও উদ্বাস্তুরা রয়েছেন, যারা খুবই ঘিঞ্জি পরিবেশে বসবাস করেন, তাঁদের বন্দোবস্ত দিয়ে ভালোভাবে জীবনযাপনের ব্যবস্থা করাই মূল উদ্দেশ্য।’
একই জমির দলিল জামানত হিসেবে ব্যবহার করে একাধিক ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের মতো অনিয়ম প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যাংকিং সিস্টেমে তথ্যের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিশ্চিত করার সুপারিশ করে কমিটি। এ ছাড়া উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকার ভূমির প্রকৃত বাজারমূল্য নির্ধারণ, স্থাবর সম্পত্তির হস্তান্তর মূল্য বাজারমূল্যের সঙ্গে যৌক্তিকীকরণ এবং জমি হস্তান্তর সংক্রান্ত বিভিন্ন ফির পাশাপাশি গেইন ট্যাক্স যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসার সুপারিশ করা হয়।
ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত গুরুতর সামাজিক সংঘাত নিরসন, ন্যায্য ও স্বচ্ছ ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিকবান্ধব ভূমি সেবা সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে বিদ্যমান ভূমি প্রশাসন ব্যবস্থাপনাকে সমন্বিত ডিজিটাল ভূমি প্রশাসন ব্যবস্থায় রূপান্তরের সুপারিশ করা হয়।
‘বাংলাদেশ সার্ভে অ্যান্ড সেটেলমেন্ট ও ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ভূমি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের জন্য আধুনিক ও স্থায়ী প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপনে খাসজমি নির্বাচনের কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়।
এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ, এসি ল্যান্ড, এলএ শাখা ও কানুনগো অফিসে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধ এবং দালালমুক্ত ভূমি সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে কমিটি।

দৈনিক টার্গেট 
























