প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সংঘাতে ৩৭ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রতি চারজনে একজন অর্থাৎ প্রায় এক-চতুর্থাংশই ছিল নারী ও কন্যাশিশু, যা ২০২১ সালের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।
বর্তমানে প্রায় ৭৫ কোটি নারী ও কন্যাশিশু কোনো না কোনো সক্রিয় সংঘাতের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৪ কোটির বেশি এবং ১৯৯০ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ।
তবে যুদ্ধকবলিত এলাকায় শুধু বোমা বা অস্ত্রই নারীদের জন্য হুমকি নয়। জাতিসংঘের যাচাই করা সংঘাত-সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার ঘটনা ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় চার গুণ বেড়েছে।
সেই সঙ্গে যুদ্ধ নারীদের চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল ও চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসকারী নারীর সংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি, যারা দৈনিক ৩ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করছে। এ ছাড়া যুদ্ধপীড়িত দেশগুলোতে নারীরা পুরুষদের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি সময় অবৈতনিক গৃহস্থালি ও সেবামূলক কাজে ব্যয় করে, যা বিশ্ব গড়ের দ্বিগুণ।
জনবহুল এলাকায় ড্রোন ও দূরপাল্লার অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ায় এবং স্কুল, বাজার, হাসপাতালের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলার কারণে নারীদের নিরাপত্তা আরও বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক সামরিক প্রযুক্তির ব্যবহার সহিংসতার ঝুঁকি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মধ্যেও নারীরা শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ৫৭টি শান্তি প্রক্রিয়ায় মাত্র ৫ শতাংশ আলোচক ছিলেন নারী, যা আগের বছর ছিল ৭ শতাংশ।
অন্যদিকে, বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় ২০২৫ সালে রেকর্ড ২ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও তীব্র তহবিল সংকটের কারণে সংকটপীড়িত এলাকার ৪০ শতাংশ নারী সংগঠন আগামী এক বছরের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ নারী ও কন্যাশিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, শান্তি প্রক্রিয়ায় তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ এবং নারী-নেতৃত্বাধীন শান্তি উদ্যোগে টেকসই বিনিয়োগের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।
-dd793f-256x144.webp)
দৈনিক টার্গেট 

-e737cb-256x144.webp)

























