মার্কিন ওয়ার অন টেররের ২৫ বছর: ৪৭ লাখ প্রাণহানি ও ৮ ট্রিলিয়ন ডলার অপচয়

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০১:০২:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯ বার পঠিত হয়েছে

এর পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একের পর এক যুদ্ধ শুরু হয়। এসব যুদ্ধ অন্তত এক প্রজন্মের জন্য ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতিকে বদলে দেয়। ২০০১ সালের পর থেকে এমন কোনো বছর যায়নি, যখন বিশ্বের কোনো না কোনো দেশে মার্কিন বাহিনী বোমা হামলা চালায়নি। এসব যুদ্ধ ও সামরিক অভিযানে লাখো মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে।

২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের সময় ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ছিলেন ওমর। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, মার্কিন আগ্রাসনের কারণে ‘সবকিছু বদলে গিয়েছিল।’ তিনি স্মরণ করেন, ইরাকে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র বা উইপনস অব মাস ডেস্ট্রাকশন রয়েছে—এমন মিথ্যা দাবির ভিত্তিতে যুদ্ধটি শুরু করা হয়েছিল।

৯/১১ হামলার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আফগানিস্তানে আগ্রাসন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ এই অভিযানকে ‘ওয়ার অন টেরর’ বা ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেন। এরপর শুরু হয় যেন শেষ না হওয়া একের পর এক যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান। আফগানিস্তান, ইরাক এবং মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ এসব অভিযানের আওতায় আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের ‘কস্ট অব ওয়ার’ প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, ২০০১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত যুদ্ধগুলোতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আনুমানিক ৪৫ লাখ থেকে ৪৭ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সরাসরি নিহত হয়েছেন প্রায় ৯ লাখ ৪০ হাজার মানুষ। আর রোগ, অপুষ্টি ও স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে পরোক্ষভাবে মারা গেছেন ৩৬ লাখ থেকে ৩৮ লাখ মানুষ।

২০০১ সালের ৭ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এনডিউরিং ফ্রিডম’ শুরু করে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তালেবান সরকারের পতন ঘটে। কিন্তু যুদ্ধ চলতে থাকে প্রায় ২০ বছর ধরে। যুক্তরাষ্ট্রের চার প্রেসিডেন্টের আমলে চলা এই যুদ্ধ ছিল দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সামরিক সংঘাত।

কস্টস অব ওয়ার প্রকল্পের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধের সরাসরি কারণে আনুমানিক ১ লাখ ৭৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এর বাইরে ক্ষুধা, রোগ এবং চিকিৎসাবিহীন আঘাতের কারণে আরও কয়েক লাখ মানুষ মারা যান। যুদ্ধের আগে আফগানিস্তানে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন ৬২ শতাংশ মানুষ। যুদ্ধের পর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯২ শতাংশে। বিস্ফোরিত না হওয়া গোলাবারুদ ও স্থলমাইন এখনো বেসামরিক মানুষকে হত্যা ও পঙ্গু করে চলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী চলে যাওয়ার পর সেই তালেবানই ২০২১ সালে আবার আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

এর দুই বছরেরও কম সময় পর, ২০০৩ সালের ১৯ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে আগ্রাসন শুরু করে। ইরাক যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় ওমরের বয়স ছিল ১৮ বছর। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা বোমার শব্দ স্মরণ করতে পারি। আমরা খুব ভয় পেয়েছিলাম।’ ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের সময় সরাসরি যুদ্ধের কারণে অন্তত ৩ লাখ ১৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়।

বাগদাদে যুদ্ধ পৌঁছে যাওয়ার পর কী ঘটছে তা দেখতে তার কয়েকজন বন্ধু বেরিয়ে যাওয়ার কথা স্মরণ করেন ওমর। তাদের সতর্ক করা হয়েছিল যে বাইরে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। ওমর বলেন, ‘আমি তাদের বলেছিলাম, তোমরা কেন যাচ্ছ? তারপর তারা গেল, কিন্তু আর ফিরে আসেনি। আমরা যখন এসব মনে করি, তখন খুব কষ্ট হয়।’

স্থলভিত্তিক যুদ্ধের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া ও আফগানিস্তানে এবং ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসআইএলের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে অঘোষিত বিমান ও ড্রোন অভিযান চালায়। এসব দেশে ২০০৪ সাল থেকে ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের হিসাব অনুযায়ী—

পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ৪২৩টি হামলা চালিয়েছে। এতে আনুমানিক ২ হাজার ৪৯৯ থেকে ৪ হাজার ১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪২৪ থেকে ৯৬৬ জন বেসামরিক নাগরিক।

ইয়েমেনে অন্তত ১৮৬টি হামলা ও অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে অন্তত ৮৫৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ১৫৮ জন বেসামরিক নাগরিক।

সোমালিয়ায় ২০০১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ১৯ থেকে ২৩টি হামলায় ১৮৮ থেকে ২৭৬ জন নিহত হয়েছেন।

এরপর, ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির শাসনে লিবিয়ায় বিক্ষোভ দমনের সময় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য জাতিসংঘের অনুমোদনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নেতৃত্বে বিমান অভিযান চালানো হয়। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, সাত মাসে লিবিয়ায় প্রায় ৯ হাজার ৭০০টি হামলা চালানো হয়। পরে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের হাতে গাদ্দাফি আটক ও নিহত হন।

লিবিয়ার পর, ২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ত বা আইএসআইএলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়। ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’—নামে পরিচিত এই অভিযানে শক্তিশালী বিমান ও স্থল অভিযান চালানো হয়। এতে কয়েক হাজার নয়, বরং কয়েক লাখ বোমা ব্যবহার করা হয়। ২০১৮ সালের মধ্যে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি ঘটে। মার্কিন কর্মকর্তারা ১ হাজার ৪১৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণকারী লন্ডনভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা এয়ারওয়ার্সের হিসাব অনুযায়ী, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ৮ হাজার ২৬৪ থেকে ১৩ হাজার ৩৬০ জনের মধ্যে।

কস্টস অব ওয়ারের হিসাব অনুযায়ী, আফগানিস্তান, ইরাক, পাকিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া, ফিলিপাইন, লিবিয়া ও সিরিয়ায় ৯/১১-পরবর্তী যুদ্ধের কারণে ৩ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। কেউ দেশের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন, আবার কেউ নিজ দেশের মধ্যেই ঘরবাড়ি হারিয়েছেন।

দুই দশকেরও বেশি সময় পরও মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। গত বছর ইরান ও পাকিস্তান প্রায় ২৯ লাখ আফগানকে সীমান্ত পার করে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠিয়েছে। ইরাকে আগ্রাসনের দুই দশক পরও ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন।

৪০ বছর বয়সী আফগান মা আয়েশা জীবনের বড় একটি সময় আফগানিস্তান ও ইরানের মধ্যে যাতায়াত করে কাটিয়েছেন। বারবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার কারণে তাকে এমন জীবন বেছে নিতে হয়েছে। ১৯৯৪ সালে তাঁর পরিবার প্রথমবার আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে যায়। ২০০০ সালে তারা ফিরে আসে। কিন্তু ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর আবার পালিয়ে যায়। ইরানে ১১ বছর থাকার পর আয়েশা ও তার সন্তানদের বহিষ্কার করা হয় এবং তাদের আফগানিস্তানে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।

আয়েশা বলেন, ‘আমি বহুবার গিয়েছি এবং ফিরে এসেছি। এবার আমরা সেখানে ১১ বছর ছিলাম। কিন্তু পরে ইরানিরা আমাদের বের করে দেয় এবং আমার সন্তানদের স্কুল থেকেও বহিষ্কার করে।’

ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, ইরাক যুদ্ধে ৩ হাজার ৪৮১ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন এবং ৩১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।

যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি খরচও বিপুল। কস্টস অব ওয়ার প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১-পরবর্তী যুদ্ধের সাবেক সেনাদের চিকিৎসা ও যত্নে ২০৫০ সাল নাগাদ ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন থেকে ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। এই অর্থের বড় একটি অংশ এখনো পরিশোধ করা হয়নি।

অনেক সাবেক সেনা এখনো মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। কস্টস অব ওয়ার প্রকল্পের পরিচালক স্টেফানি স্যাভেল বলেন, ‘৯/১১-পরবর্তী যুদ্ধগুলোতে যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের তুলনায় চার গুণ বেশি মার্কিন সেনা ও সাবেক সেনা আত্মহত্যায় মারা গেছেন।’ তিনি বলেন, ‘অনেক মানুষ ফিরে আসছেন পিটিএসডি ও গুরুতর আঘাতের উচ্চ হার নিয়ে। এরপর তাদের অতীতের তুলনায় আরও বেশি সময়ের জন্য আবারও যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে। ফলে আপনি দেখতে পাচ্ছেন, যুদ্ধের মূল্য শুধু সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর ওপর নয়, বরং সমাজের নির্দিষ্ট অংশ, বিশেষ করে সেনা ও সাবেক সেনাদের ওপরও পড়ছে।’

যুক্তরাষ্ট্র দুই দশকের যুদ্ধে আনুমানিক ৫ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। এর সঙ্গে আগামী কয়েক দশকে সাবেক সেনাদের যত্নের জন্য আরও ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট খরচ দাঁড়াবে অন্তত ৮ ট্রিলিয়ন ডলার।

২০৩০ সালের মধ্যে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য যে অর্থ খরচ করা হয়েছে, তার সমপরিমাণ অর্থ সুদ হিসেবে পরিশোধ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঋণের বোঝা পরিশোধে আজকের ২৫ বছরের কম বয়সী মার্কিন নাগরিকদেরও অংশ নিতে হবে।

জনমত জরিপগুলো দেখাচ্ছে, বিদেশে আগ্রাসী যুদ্ধ চালানোর বিষয়ে মার্কিন জনগণের আগ্রহ খুবই কম। ইরানে চলমান যুদ্ধও জনগণের মধ্যে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয়। স্যাভেল বলেন, ট্রাম্পকে যারা ভোট দিয়েছিলেন, তাদের কেউ কেউ আংশিকভাবে এই কারণে ভোট দিয়েছিলেন যে তিনি ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ বা ‘ফরএভার ওয়ারস’ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং শান্তির কথা বলেছিলেন।

কিন্তু তিনি ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি ‘এর সম্পূর্ণ বিপরীত’ হয়েছে বলে স্যাভেল মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সোমালিয়া ও ইয়েমেনে বিমান হামলা আরও বেড়েছে, সামরিক বাহিনীর জন্য সংঘর্ষের নিয়ম শিথিল করা হয়েছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার ব্যবস্থা পেছনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে ইরানে এই যুদ্ধ শুরু করা, ক্যারিবীয় অঞ্চলে নৌযানগুলোতে হামলা…সব মিলিয়ে প্রায় সব ক্ষেত্রেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সহিংসতা আরও বাড়িয়ে তুলছেন।’

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ধরে হুতিদের সাম্প্রতিক দ্রুত অগ্রযাত্রার পেছনে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী কর্পসের (আইআরজিসি) সরাসরি নির্দেশনা ছিল বলে দাবি করেছে ইয়েমেনের সরকারি, ইরানি ও আঞ্চলিক বিভিন্ন সূত্র। তাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে নতুন একটি যুদ্ধফ্রন্ট…

ব্রেক্সিটের এক দশক পর কঠিন ও বিপজ্জনক এক বিশ্বে ব্রিটেনের নেতৃত্ব দেওয়ার এবং নিজের মূল্যবোধের পক্ষে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আমি তা কোনোভাবেই হতে দিতে প্রস্তুত নই। ব্রিটেন কোনো বিষয়ে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিক—এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে।

ইউরোপের দেশগুলো বেশ কিছুদিন ধরে অভিযোগ করছে, রাশিয়া তাদের বিরুদ্ধে এক ধরনের ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ চালাচ্ছে। রাশিয়া এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে। কিন্তু, যে ইউরোপ এই অভিযোগ করছে তারাই রাশিয়ার এই তথাকথিত ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে। এমনটাই সতর্ক করেছেন ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

জনপ্রিয় টার্গেট

কে কার সঙ্গে আঁতাত করছে, জনগণ জানে: রিজভী

মার্কিন ওয়ার অন টেররের ২৫ বছর: ৪৭ লাখ প্রাণহানি ও ৮ ট্রিলিয়ন ডলার অপচয়

প্রকাশ: ০১:০২:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এর পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একের পর এক যুদ্ধ শুরু হয়। এসব যুদ্ধ অন্তত এক প্রজন্মের জন্য ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতিকে বদলে দেয়। ২০০১ সালের পর থেকে এমন কোনো বছর যায়নি, যখন বিশ্বের কোনো না কোনো দেশে মার্কিন বাহিনী বোমা হামলা চালায়নি। এসব যুদ্ধ ও সামরিক অভিযানে লাখো মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে।

২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের সময় ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ছিলেন ওমর। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, মার্কিন আগ্রাসনের কারণে ‘সবকিছু বদলে গিয়েছিল।’ তিনি স্মরণ করেন, ইরাকে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র বা উইপনস অব মাস ডেস্ট্রাকশন রয়েছে—এমন মিথ্যা দাবির ভিত্তিতে যুদ্ধটি শুরু করা হয়েছিল।

৯/১১ হামলার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আফগানিস্তানে আগ্রাসন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ এই অভিযানকে ‘ওয়ার অন টেরর’ বা ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেন। এরপর শুরু হয় যেন শেষ না হওয়া একের পর এক যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান। আফগানিস্তান, ইরাক এবং মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ এসব অভিযানের আওতায় আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের ‘কস্ট অব ওয়ার’ প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, ২০০১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত যুদ্ধগুলোতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আনুমানিক ৪৫ লাখ থেকে ৪৭ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সরাসরি নিহত হয়েছেন প্রায় ৯ লাখ ৪০ হাজার মানুষ। আর রোগ, অপুষ্টি ও স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে পরোক্ষভাবে মারা গেছেন ৩৬ লাখ থেকে ৩৮ লাখ মানুষ।

২০০১ সালের ৭ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এনডিউরিং ফ্রিডম’ শুরু করে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তালেবান সরকারের পতন ঘটে। কিন্তু যুদ্ধ চলতে থাকে প্রায় ২০ বছর ধরে। যুক্তরাষ্ট্রের চার প্রেসিডেন্টের আমলে চলা এই যুদ্ধ ছিল দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সামরিক সংঘাত।

কস্টস অব ওয়ার প্রকল্পের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধের সরাসরি কারণে আনুমানিক ১ লাখ ৭৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এর বাইরে ক্ষুধা, রোগ এবং চিকিৎসাবিহীন আঘাতের কারণে আরও কয়েক লাখ মানুষ মারা যান। যুদ্ধের আগে আফগানিস্তানে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন ৬২ শতাংশ মানুষ। যুদ্ধের পর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯২ শতাংশে। বিস্ফোরিত না হওয়া গোলাবারুদ ও স্থলমাইন এখনো বেসামরিক মানুষকে হত্যা ও পঙ্গু করে চলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী চলে যাওয়ার পর সেই তালেবানই ২০২১ সালে আবার আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

এর দুই বছরেরও কম সময় পর, ২০০৩ সালের ১৯ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে আগ্রাসন শুরু করে। ইরাক যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় ওমরের বয়স ছিল ১৮ বছর। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা বোমার শব্দ স্মরণ করতে পারি। আমরা খুব ভয় পেয়েছিলাম।’ ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের সময় সরাসরি যুদ্ধের কারণে অন্তত ৩ লাখ ১৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়।

বাগদাদে যুদ্ধ পৌঁছে যাওয়ার পর কী ঘটছে তা দেখতে তার কয়েকজন বন্ধু বেরিয়ে যাওয়ার কথা স্মরণ করেন ওমর। তাদের সতর্ক করা হয়েছিল যে বাইরে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। ওমর বলেন, ‘আমি তাদের বলেছিলাম, তোমরা কেন যাচ্ছ? তারপর তারা গেল, কিন্তু আর ফিরে আসেনি। আমরা যখন এসব মনে করি, তখন খুব কষ্ট হয়।’

স্থলভিত্তিক যুদ্ধের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া ও আফগানিস্তানে এবং ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসআইএলের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে অঘোষিত বিমান ও ড্রোন অভিযান চালায়। এসব দেশে ২০০৪ সাল থেকে ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের হিসাব অনুযায়ী—

পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ৪২৩টি হামলা চালিয়েছে। এতে আনুমানিক ২ হাজার ৪৯৯ থেকে ৪ হাজার ১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪২৪ থেকে ৯৬৬ জন বেসামরিক নাগরিক।

ইয়েমেনে অন্তত ১৮৬টি হামলা ও অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে অন্তত ৮৫৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ১৫৮ জন বেসামরিক নাগরিক।

সোমালিয়ায় ২০০১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ১৯ থেকে ২৩টি হামলায় ১৮৮ থেকে ২৭৬ জন নিহত হয়েছেন।

এরপর, ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির শাসনে লিবিয়ায় বিক্ষোভ দমনের সময় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য জাতিসংঘের অনুমোদনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নেতৃত্বে বিমান অভিযান চালানো হয়। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, সাত মাসে লিবিয়ায় প্রায় ৯ হাজার ৭০০টি হামলা চালানো হয়। পরে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের হাতে গাদ্দাফি আটক ও নিহত হন।

লিবিয়ার পর, ২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ত বা আইএসআইএলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়। ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’—নামে পরিচিত এই অভিযানে শক্তিশালী বিমান ও স্থল অভিযান চালানো হয়। এতে কয়েক হাজার নয়, বরং কয়েক লাখ বোমা ব্যবহার করা হয়। ২০১৮ সালের মধ্যে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি ঘটে। মার্কিন কর্মকর্তারা ১ হাজার ৪১৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণকারী লন্ডনভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা এয়ারওয়ার্সের হিসাব অনুযায়ী, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ৮ হাজার ২৬৪ থেকে ১৩ হাজার ৩৬০ জনের মধ্যে।

কস্টস অব ওয়ারের হিসাব অনুযায়ী, আফগানিস্তান, ইরাক, পাকিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া, ফিলিপাইন, লিবিয়া ও সিরিয়ায় ৯/১১-পরবর্তী যুদ্ধের কারণে ৩ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। কেউ দেশের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন, আবার কেউ নিজ দেশের মধ্যেই ঘরবাড়ি হারিয়েছেন।

দুই দশকেরও বেশি সময় পরও মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। গত বছর ইরান ও পাকিস্তান প্রায় ২৯ লাখ আফগানকে সীমান্ত পার করে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠিয়েছে। ইরাকে আগ্রাসনের দুই দশক পরও ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন।

৪০ বছর বয়সী আফগান মা আয়েশা জীবনের বড় একটি সময় আফগানিস্তান ও ইরানের মধ্যে যাতায়াত করে কাটিয়েছেন। বারবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার কারণে তাকে এমন জীবন বেছে নিতে হয়েছে। ১৯৯৪ সালে তাঁর পরিবার প্রথমবার আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে যায়। ২০০০ সালে তারা ফিরে আসে। কিন্তু ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর আবার পালিয়ে যায়। ইরানে ১১ বছর থাকার পর আয়েশা ও তার সন্তানদের বহিষ্কার করা হয় এবং তাদের আফগানিস্তানে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।

আয়েশা বলেন, ‘আমি বহুবার গিয়েছি এবং ফিরে এসেছি। এবার আমরা সেখানে ১১ বছর ছিলাম। কিন্তু পরে ইরানিরা আমাদের বের করে দেয় এবং আমার সন্তানদের স্কুল থেকেও বহিষ্কার করে।’

ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, ইরাক যুদ্ধে ৩ হাজার ৪৮১ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন এবং ৩১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।

যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি খরচও বিপুল। কস্টস অব ওয়ার প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১-পরবর্তী যুদ্ধের সাবেক সেনাদের চিকিৎসা ও যত্নে ২০৫০ সাল নাগাদ ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন থেকে ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। এই অর্থের বড় একটি অংশ এখনো পরিশোধ করা হয়নি।

অনেক সাবেক সেনা এখনো মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। কস্টস অব ওয়ার প্রকল্পের পরিচালক স্টেফানি স্যাভেল বলেন, ‘৯/১১-পরবর্তী যুদ্ধগুলোতে যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের তুলনায় চার গুণ বেশি মার্কিন সেনা ও সাবেক সেনা আত্মহত্যায় মারা গেছেন।’ তিনি বলেন, ‘অনেক মানুষ ফিরে আসছেন পিটিএসডি ও গুরুতর আঘাতের উচ্চ হার নিয়ে। এরপর তাদের অতীতের তুলনায় আরও বেশি সময়ের জন্য আবারও যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে। ফলে আপনি দেখতে পাচ্ছেন, যুদ্ধের মূল্য শুধু সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর ওপর নয়, বরং সমাজের নির্দিষ্ট অংশ, বিশেষ করে সেনা ও সাবেক সেনাদের ওপরও পড়ছে।’

যুক্তরাষ্ট্র দুই দশকের যুদ্ধে আনুমানিক ৫ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। এর সঙ্গে আগামী কয়েক দশকে সাবেক সেনাদের যত্নের জন্য আরও ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট খরচ দাঁড়াবে অন্তত ৮ ট্রিলিয়ন ডলার।

২০৩০ সালের মধ্যে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য যে অর্থ খরচ করা হয়েছে, তার সমপরিমাণ অর্থ সুদ হিসেবে পরিশোধ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঋণের বোঝা পরিশোধে আজকের ২৫ বছরের কম বয়সী মার্কিন নাগরিকদেরও অংশ নিতে হবে।

জনমত জরিপগুলো দেখাচ্ছে, বিদেশে আগ্রাসী যুদ্ধ চালানোর বিষয়ে মার্কিন জনগণের আগ্রহ খুবই কম। ইরানে চলমান যুদ্ধও জনগণের মধ্যে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয়। স্যাভেল বলেন, ট্রাম্পকে যারা ভোট দিয়েছিলেন, তাদের কেউ কেউ আংশিকভাবে এই কারণে ভোট দিয়েছিলেন যে তিনি ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ বা ‘ফরএভার ওয়ারস’ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং শান্তির কথা বলেছিলেন।

কিন্তু তিনি ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি ‘এর সম্পূর্ণ বিপরীত’ হয়েছে বলে স্যাভেল মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সোমালিয়া ও ইয়েমেনে বিমান হামলা আরও বেড়েছে, সামরিক বাহিনীর জন্য সংঘর্ষের নিয়ম শিথিল করা হয়েছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার ব্যবস্থা পেছনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে ইরানে এই যুদ্ধ শুরু করা, ক্যারিবীয় অঞ্চলে নৌযানগুলোতে হামলা…সব মিলিয়ে প্রায় সব ক্ষেত্রেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সহিংসতা আরও বাড়িয়ে তুলছেন।’

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ধরে হুতিদের সাম্প্রতিক দ্রুত অগ্রযাত্রার পেছনে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী কর্পসের (আইআরজিসি) সরাসরি নির্দেশনা ছিল বলে দাবি করেছে ইয়েমেনের সরকারি, ইরানি ও আঞ্চলিক বিভিন্ন সূত্র। তাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে নতুন একটি যুদ্ধফ্রন্ট…

ব্রেক্সিটের এক দশক পর কঠিন ও বিপজ্জনক এক বিশ্বে ব্রিটেনের নেতৃত্ব দেওয়ার এবং নিজের মূল্যবোধের পক্ষে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আমি তা কোনোভাবেই হতে দিতে প্রস্তুত নই। ব্রিটেন কোনো বিষয়ে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিক—এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে।

ইউরোপের দেশগুলো বেশ কিছুদিন ধরে অভিযোগ করছে, রাশিয়া তাদের বিরুদ্ধে এক ধরনের ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ চালাচ্ছে। রাশিয়া এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে। কিন্তু, যে ইউরোপ এই অভিযোগ করছে তারাই রাশিয়ার এই তথাকথিত ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে। এমনটাই সতর্ক করেছেন ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।