আওয়ামী লীগ ফিরবে রাজনীতিতে: তৌহিদ

রাজনীতি

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন মনে করছেন, বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগ পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি এবং দলটি ভবিষ্যতে আবারও সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে ফিরতে পারে। একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও মানুষের মানসিকতার কারণে আওয়ামী লীগকে একেবারে শেষ হয়ে গেছে বলে ভাবার সুযোগ নেই। তার মতে, দেশের মানুষের রাজনৈতিক স্মৃতি দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ায় দলটি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

সাক্ষাৎকারে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনকালের নানা অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তৌহিদ হোসেন জানান, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কয়েক দফা তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা তাকে বোঝান যে, এমন সময়ে তার পদত্যাগ সরকারকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে। সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থেকে যান।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি ‘ডিপস্টেট’ বা অদৃশ্য প্রভাবশালী শক্তির ভূমিকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্ব রাজনীতির বড় ঘটনাগুলোর পেছনে অনেক সময় অদৃশ্য শক্তির প্রভাব থাকে। তবে এসব শক্তি সরাসরি পরিস্থিতির বিপরীতে অবস্থান নেয় না; বরং চলমান পরিস্থিতির ভেতর থেকেই নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।

এছাড়া সরকারের অভ্যন্তরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা ‘কিচেন কেবিনেট’ সক্রিয় ছিল বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তিনি জানান, বিশেষ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পর্দার আড়ালে একটি নির্দিষ্ট মহল কাজ করত। এমনকি একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি নিজেও সেই ধরনের একটি বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। পরে জানতে পারেন, প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে ওই গোষ্ঠীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সেখানে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো।

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina-কে দেশে ফেরানোর জন্য দিল্লির কাছে পাঠানো চিঠির প্রসঙ্গেও কথা বলেন তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, চিঠি পাঠানো হলেও ভারত ইতিবাচক কোনো সাড়া দেবে—এমন প্রত্যাশা তার ছিল না। বরং শুরু থেকেই তিনি ধারণা করেছিলেন, এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুব কম। তাই চিঠির জবাব না আসাকে তিনি অস্বাভাবিক কিছু হিসেবে দেখেননি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।