গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জেএসডির রাজনৈতিক উদ্যোগের দাবি
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গণভোট-পরবর্তী রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে জাতীয় ঐকমত্যের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি। দলের সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, জনগণের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দেশের রাজনীতিতে স্থায়িত্ব ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
শুক্রবার রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসভবনে অনুষ্ঠিত জেএসডির স্থায়ী কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, গণভোট শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং এটি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই প্রক্রিয়াকে সফল করতে রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তি ও গণতান্ত্রিক পক্ষগুলোর মধ্যে নতুন সংলাপ জরুরি।
সভায় নেতারা মত দেন, গণভোটে জনগণ যে মতামত দিয়েছে সেটিকে দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক নির্দেশনা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সেই রায় বাস্তবায়নে সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে সম্পৃক্ত করে কার্যকর রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
জেএসডি মনে করে, বর্তমান সময় রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এ লক্ষ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় ঐকমত্য গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরে দলটি জানায়, বহুমতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও অংশীদারিত্বমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
দলটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ব্যক্তি ও দলকেন্দ্রিক রাজনীতির পরিবর্তে জনগণের ম্যান্ডেটভিত্তিক নীতিনির্ভর রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। জবাবদিহিতা, প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র এবং রাজনৈতিক সংস্কারকে সামনে রেখে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সাজানোর কথা জানায় জেএসডি।
সভায় বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতা কোনো একক গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভারসাম্যের ভিত্তিতে বণ্টন করতে হবে। এতে সংঘাত কমবে এবং স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হবে।
এছাড়া, গণভোট-পরবর্তী সময়কে সাংবিধানিক রূপান্তরের বিশেষ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে দলটি সংবিধান, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। রাজনৈতিক সংলাপ, জনসম্পৃক্ততা এবং নীতি-ভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। নেতারা সর্বসম্মতভাবে বলেন, জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছাই রাষ্ট্রের বৈধতার প্রধান ভিত্তি এবং অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই জেএসডির মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য।
