ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ধরন নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক সম্পর্ক অবশ্যই বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত, তবে সেটি কোনো নির্ভরশীলতার নয় বরং সমমর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে গড়ে উঠতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে মতপার্থক্য দীর্ঘদিনের। তার দাবি, যারা জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করেন না, তাদের রাজনৈতিক অবস্থান অতীতেও ভিন্ন ছিল এবং বর্তমানেও সেই ধারাবাহিকতা বিদ্যমান।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জনগণ প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী হলেও সেই সম্পর্ক কখনোই একতরফা বা অসম হওয়া উচিত নয়। তার ভাষায়, “বন্ধুত্ব থাকবে, কিন্তু তা নির্ভরতার নয় সমতার ভিত্তিতে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান করেছেন এবং তার বক্তব্যে দেশের বাস্তবতার প্রতিফলন রয়েছে। অতীতকে অস্বীকার না করে বর্তমান বাস্তবতাকে স্বীকার করার জন্য তিনি রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান।
নিজ দলের রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরতে গিয়ে তিনি জিয়াউর রহমান-এর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তার মতে, জাতীয় ঐক্য গঠনের ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের মূল শক্তি ছিল জাতীয়তাবাদ, যা দেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও দেশপ্রেমকে সুসংহত করেছে। তিনি বলেন, সমালোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমেই একটি রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলা সম্ভব।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে গয়েশ্বর বলেন, ১৯৭১ সালের উত্তাল সময়ে তিনি সরাসরি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-এ অংশ নেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২৭ মার্চ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার আহ্বান শুনে তিনি নিজ এলাকায় গিয়ে যুদ্ধে যোগ দেন। তার মতে, সেই আহ্বান ছিল সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার লক্ষ্য ছিল বৈষম্য ও বঞ্চনা দূর করে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। তিনি মনে করেন, সেই লক্ষ্য পূরণে এখনো কাজ বাকি রয়েছে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার ও অর্থনৈতিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার।
সমগ্র বক্তব্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জাতীয়তাবাদ, সমমর্যাদা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
















Leave a Reply