ধর্মের মূল লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ ও পারস্পরিক ভালোবাসা প্রতিষ্ঠা করা এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ধর্ম কখনোই যুদ্ধ বা হিংসা উসকে দেওয়ারজন্য নয়; বরং মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ও নৈতিকতা জাগ্রত করার জন্যই এর আবির্ভাব।
শুক্রবার রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে আয়োজিত বুদ্ধ পূর্ণিমা-২০২৬ উদ্যাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ বৌদ্ধ ফেডারেশন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সমাজে শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে মানুষকে বিভাজনের পথ থেকে সরে এসে ঐক্যের পথে হাঁটতে হবে। তিনি মনে করেন, হিংসা ও সংঘাতকে একযোগে প্রত্যাখ্যান করতে না পারলে একটি সুন্দর ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
বিশ্ব পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, বিভিন্ন দেশে যুদ্ধের প্রস্তুতি এবং অস্ত্র উৎপাদনের প্রবণতা মানবতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। শান্তিপ্রিয় মানুষদের আরও সক্রিয় হয়ে এ ধরনের প্রবণতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সব ধর্মই মানুষের মঙ্গল কামনায় এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যখন সমাজে অশান্তি ও অবক্ষয় বাড়ে, তখনই মহাপুরুষরা মানবতার বার্তা নিয়ে আবির্ভূত হন এবং মানুষকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে কাজ করেন।
ধর্মীয় বিভাজনের কারণে সহিংসতা সৃষ্টি হওয়া প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তাকে আঘাত করা বা নিপীড়ন করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
বুদ্ধপূর্ণিমার তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, গৌতম বুদ্ধ মানবজাতির জন্য যে শান্তি ও সত্যেরবাণী রেখে গেছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার শিক্ষা মানুষের মধ্যে সহনশীলতা ও মানবিকতা জাগ্রত করছে।
অনুষ্ঠানে তিনি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সমাজে অবদানের প্রশংসা করেন এবং সব ধর্মের মানুষেরসম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তারা সবাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ, শুভেচ্ছা বক্তব্য এবং বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়, যা অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।
















Leave a Reply