হাম পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের আহ্বান

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৮:১১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
  • ১১২ বার পঠিত হয়েছে

দেশে হামের সাম্প্রতিক বিস্তারকে কেন্দ্র করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সর্বদলীয় ও বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে একটি জরুরি টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি। দলটির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, আক্রান্ত পরিবারগুলো যেন অনুভব করে—রাষ্ট্র তাদের পাশে রয়েছে।

বুধবার রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। সেখানে তিনি বলেন, হামের কারণে শিশুমৃত্যুর ঘটনা শুধু স্বাস্থ্য সংকট নয়, এটি একটি মানবিক বিপর্যয়ও।

“দায় এড়ানোর সুযোগ নেই”—ফুয়াদের মন্তব্য

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রের জন্য গভীর দায় তৈরি করে। তাই সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক দোষারোপের বাইরে গিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

দরিদ্র জনগোষ্ঠী বেশি ঝুঁকিতে

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে আক্রান্তদের বড় অংশই দরিদ্র ও গ্রামীণ পরিবারের শিশু। অপুষ্টি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি এবং স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্যকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া ৯ মাসের নিচের শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে, যাদের অনেকেই টিকা গ্রহণের বয়সে পৌঁছানোর আগেই সংক্রমিত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

টিকাদান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা

ফুয়াদ বলেন, মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলন, তথ্য ব্যবস্থাপনায় সমস্যা এবং টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার কারণে কাভারেজে কিছু প্রভাব পড়েছে। তবে সরকারি উদ্যোগে বর্তমানে টিকাদান হার ৯০ শতাংশের ওপরে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সরকারি ঘোষিত টিকাদান কাভারেজ এবং বাস্তব জরিপের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, যা দীর্ঘদিন বাস্তব পরিস্থিতিকে আড়াল করেছে।

হার্ড ইমিউনিটি ও ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে অন্তত ৯৫ শতাংশ টিকাদান কাভারেজ প্রয়োজন। তবে বাংলাদেশ এখনো সেই পর্যায়ে পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি, ফলে প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি রয়ে গেছে।

সরকারের উদ্যোগ

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে প্রায় দুই কোটি টিকার ডোজ মজুদ রয়েছে এবং জরুরি ক্যাচ-আপ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে নতুন ক্যাম্পেইন শুরুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

টিকা সরবরাহে আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন GAVI, UNICEF, WHO, বিশ্বব্যাংক ও ADB যুক্ত রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

স্বাস্থ্য খাতে জাতীয় ঐকমত্যের আহ্বান

এবি পার্টি নেতারা বলেন, স্বাস্থ্য খাতকে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে টিকাদান, পুষ্টি, মাতৃস্বাস্থ্য ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জনসাধারণকে গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয় এবং সময়মতো টিকাদান ও স্বাস্থ্য নির্দেশনা মানার ওপর জোর দেওয়া হয়।

জনপ্রিয় টার্গেট

হাম পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের আহ্বান

প্রকাশ: ০৮:১১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

দেশে হামের সাম্প্রতিক বিস্তারকে কেন্দ্র করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সর্বদলীয় ও বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে একটি জরুরি টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি। দলটির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, আক্রান্ত পরিবারগুলো যেন অনুভব করে—রাষ্ট্র তাদের পাশে রয়েছে।

বুধবার রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। সেখানে তিনি বলেন, হামের কারণে শিশুমৃত্যুর ঘটনা শুধু স্বাস্থ্য সংকট নয়, এটি একটি মানবিক বিপর্যয়ও।

“দায় এড়ানোর সুযোগ নেই”—ফুয়াদের মন্তব্য

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রের জন্য গভীর দায় তৈরি করে। তাই সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক দোষারোপের বাইরে গিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

দরিদ্র জনগোষ্ঠী বেশি ঝুঁকিতে

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে আক্রান্তদের বড় অংশই দরিদ্র ও গ্রামীণ পরিবারের শিশু। অপুষ্টি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি এবং স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্যকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া ৯ মাসের নিচের শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে, যাদের অনেকেই টিকা গ্রহণের বয়সে পৌঁছানোর আগেই সংক্রমিত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

টিকাদান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা

ফুয়াদ বলেন, মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলন, তথ্য ব্যবস্থাপনায় সমস্যা এবং টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার কারণে কাভারেজে কিছু প্রভাব পড়েছে। তবে সরকারি উদ্যোগে বর্তমানে টিকাদান হার ৯০ শতাংশের ওপরে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সরকারি ঘোষিত টিকাদান কাভারেজ এবং বাস্তব জরিপের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, যা দীর্ঘদিন বাস্তব পরিস্থিতিকে আড়াল করেছে।

হার্ড ইমিউনিটি ও ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে অন্তত ৯৫ শতাংশ টিকাদান কাভারেজ প্রয়োজন। তবে বাংলাদেশ এখনো সেই পর্যায়ে পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি, ফলে প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি রয়ে গেছে।

সরকারের উদ্যোগ

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে প্রায় দুই কোটি টিকার ডোজ মজুদ রয়েছে এবং জরুরি ক্যাচ-আপ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে নতুন ক্যাম্পেইন শুরুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

টিকা সরবরাহে আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন GAVI, UNICEF, WHO, বিশ্বব্যাংক ও ADB যুক্ত রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

স্বাস্থ্য খাতে জাতীয় ঐকমত্যের আহ্বান

এবি পার্টি নেতারা বলেন, স্বাস্থ্য খাতকে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে টিকাদান, পুষ্টি, মাতৃস্বাস্থ্য ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জনসাধারণকে গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয় এবং সময়মতো টিকাদান ও স্বাস্থ্য নির্দেশনা মানার ওপর জোর দেওয়া হয়।