জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানকে নিয়ে আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন নেই। এই ব্যর্থতা যে ব্যাটারদের জন্য, সেটা নিয়েও প্রশ্ন নেই। এটা মানছেন তাওহীদ হৃদয়ও। এই ব্যর্থতা অকপটে স্বীকারের পরও হৃদয় টেনে আনছেন দেশের মাটিতে টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজ জয়ের বীরত্বগাথা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে টানা চারটি সিরিজ জয় চাট্টিখানি কথা নয়। কিন্তু কারণে-অকারণে সেই সাফল্যের কথা টেনে কি হৃদয় জিম্বাবুয়ে-আফগানিস্তানের বিপক্ষে অসহায় আত্মসমর্পণকে ‘হজমযোগ্য’ করে তুলতে চাইলেন?
কেন বাংলাদেশ ভালো করছে না—এমন আরেক প্রশ্নেও অকারণেই দেশে ভালো করার কথা টেনে আনলেন হৃদয়। বললেন, ‘কেন খারাপ করছি, এত গভীরভাবে চিন্তা করিনি। দুই সিরিজ আগেও আমরা ঘরের মাঠে ভালো খেলেছি। যে প্রশ্ন করেছেন, আমি একমত যে দেশের বাইরে ভালো খেলছি না।’
ঘরের মাঠে চারটি ওয়ানডে সিরিজের ১২ ম্যাচের একটিতেও ৩০০ করতে পারেনি বাংলাদেশ। ২৫০-এর বেশি স্কোর ছিল মাত্র পাঁচটি ম্যাচে। চার ম্যাচে দলীয় স্কোর ছিল ২২৫ রানের নিচে। আর বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচগুলোয় তো দুই শও ছোঁয়নি বাংলাদেশ।
দল খারাপ করলে কেন খারাপ করছে, সে প্রশ্ন আসবেই। তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় অধিনায়ককে। কিন্তু তাঁর উত্তরের চেয়েও বেশি উত্তর দেওয়া জরুরি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচকদের। দল নির্বাচন কি ঠিক আছে—এমন প্রশ্নে নির্বাচকেরা হয়তো বলবেন, তাঁদের হাতে বিকল্প নেই। কেন নেই—অবধারিতভাবে প্রশ্নটা যাবে বোর্ডের কাছে। ক্রিকেট থেকে কোটি কোটি টাকা আয়, বোর্ডের হাজার কোটির ব্যাংক ব্যালেন্স। কিন্তু ক্রিকেটার তৈরি কিংবা তৃণমূল থেকে মেধাবীদের তুলে আনতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে কি বোর্ড? নাকি শুধু বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের দিকে বেশি মনোযোগ তামিমের নেতৃত্বাধীন ক্রিকেট বোর্ডের। একটা সিরিজে খারাপ করলে ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামো ঢেলে সাজানোর কথা বলা হয়, স্পোর্টিং পিচে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট আয়োজনের কথা বলা হয়। কিন্তু কিছুই বদলায় না।

দৈনিক টার্গেট 























