এই ঘটনা বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামের। তবে শুধু এই মুরগির খামার নয়। শাজাহানপুরের ডেমাজানি ব্রিজের কাছে একটি গুদামে চলে এমন কাজ। স্থানীয়দের এমন স্পর্শকাতর তথ্য হাতিয়ে নিতে কাজ করছে একটি চক্র। অভিযোগ রয়েছে, এভাবে হাজারো মানুষের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে তারা। এ নিয়ে অভিযোগ গেছে থানায়। তবে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
সম্প্রতি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মহিপুর কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষার্থী স্কুলে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে জানা যায়, তারা স্কুলে ব্যাগ রেখে সেই মুরগির খামারে গিয়েছিল। ওই শিশুদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যে খামারে শিশুরা গিয়েছিল, সেখানে তাদের ভিডিও ধারণ ও ফেস ভেরিফিকেশন করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এর সঙ্গে জড়িত স্থানীয় সাব্বির হাসান রাকিব (২৭) নামের এক তরুণ। প্রায় এক বছর ধরে তিনি এই কাজ করেন।
ওই খামারে গিয়েছিল স্থানীয় এক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। সে বলে, প্রায় তিন মাস আগে এক বন্ধুর মাধ্যমে ওই খামারে গিয়েছিল। তখন তার ভিডিও ধারণ করে ফেস ভেরিফিকেশন করা হয়। এর বিনিময়ে তাকে ২০০ টাকা দেওয়া হয়েছিল। এরপর সে টাকার বিনিময়ে অন্য শিশু-কিশোরদের সেখানে নিয়ে যাওয়া শুরু করে। তার ভাষ্য, একটি অ্যাপের মাধ্যমে ফেস ভেরিফিকেশন করা হয়।
যা হয় সেখানে শাজাহানপুর উপজেলার বামুনিয়া মণ্ডলপাড়া গ্রামের কৃষক আরিফুল ইসলাম প্রতিদিন তাঁর কৃষিজমিতে যান। তিনি বলেন, বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যার আগপর্যন্ত ওই এলাকায় ২০-২৫ জন, কখনো ৫০ জন পর্যন্ত কিশোরকে দেখা যায়।
আরিফুল ইসলাম বলেন, কিশোরদের কেউ মুরগির খামারের ভেতরে ঢোকে, আবার কেউ বাইরে ঘোরাফেরা করে। সেখানে আসার কারণ জানতে চাইলে সন্তোষজনক কোনো জবাব পাওয়া যায় না।
শাজাহানপুর উপজেলার কাটাবাড়িয়া মধ্যপাড়া এলাকার কৃষক শাহিনুল ইসলামও প্রায় তিন মাস ধরে ওই এলাকায় শিশু-কিশোরদের আনাগোনা দেখছেন বলে জানান। শেরপুর পৌরসভার উত্তর সাহাপাড়া এলাকার ১৭ বছর বয়সী কবির হোসেন বলে, প্রায় দুই মাস আগে এলাকার এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে সাত বন্ধুসহ সে ওই খামারে গিয়েছিল। সেখানে সবার ভিডিও ধারণ করা হয়। ভিডিও করার সময় তাদের ক্যামেরার দিকে সোজা হয়ে তাকাতে, পরে ডানে-বাঁয়ে ঘাড় ঘোরাতে এবং চোখের পাতা ফেলতে বলা হয়।
এমন ফেস ভেরিফিকেশন ভিডিও ধারণ প্রসঙ্গে কথা হয় সাব্বির আহমেদের সঙ্গে। তিনি আজকের পত্রিকার কাছে শিশু-কিশোরদের ফেস ভেরিফিকেশন নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। সাব্বিরের ভাষ্য, প্রায় তিন মাস আগে ‘বিগপে’ নামে একটি অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খোলার কাজ পান তিনি। প্রতিটি অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ফেস ভেরিফিকেশন প্রয়োজন হয়। প্রথমে পরিচিত ব্যক্তিদের দিয়ে কাজটি করাতেন। পরে তাদের মাধ্যমে অন্যরা তাঁর কাছে আসতে শুরু করে। কেউ কেউ তাঁর এজেন্ট হিসেবেও কাজ করে।
সাব্বিরের এই ফেস ভেরিফিকেশন কাণ্ডের খোঁজ নিতে গিয়ে কথা হয় শাজাহানপুর উপজেলার রহিমাবাদ গ্রামের পান ব্যবসায়ী হাসেন আলীর সঙ্গে। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত স্ত্রী আমেনা বেগমকে চিকিৎসার জন্য ভারতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি পাসপোর্ট করেছিলেন।
হাসেন আলী জানান, প্রায় তিন মাস আগে একই গ্রামের ২৫ বছর বয়সী সৈকত ইসলাম ও তাঁর সহযোগী মামুন তাঁর কাছে আসেন। তাঁরা হাসেন ও তাঁর স্ত্রীর পাসপোর্টের ছবি নেওয়ার বিনিময়ে ৭ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। হাসেন এতে রাজি হলে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে শাজাহানপুরের ডেমাজানি ব্রিজের কাছে একটি গুদামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের ছবি তোলা হয় এবং ফেস ভেরিফিকেশন করা হয়। একই সঙ্গে হাসেন ও তাঁর স্ত্রীর পাসপোর্টের ছবিও নেওয়া হয়।
প্রায় দুই মাস আগে আড়িয়া বাজারের চা-দোকানি মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকেও পাসপোর্টের ছবি ও ফেস ভেরিফিকেশন করেছেন সৈকত। আড়িয়া বাজারের ইলিয়াস হোসেন নামের এক ব্যক্তিও জানান, তাঁরও পাসপোর্টের ছবি নেওয়া হয় এবং ফেস ভেরিফিকেশন করা হয় ওই গুদামে। স্থানীয়রা বলছেন, সৈকত ও মামুন সহস্রাধিক ব্যক্তির পাসপোর্টের ছবি, এনআইডির তথ্য নিয়েছেন ও ফেস ভেরিফিকেশন করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চক্রের সদস্য সাব্বির হাসান বলেন, ‘আমি সৈকতের সহযোগী হিসেবে দুই বছর কাজ করেছি। এখন নিজেই প্রায় তিন মাস ধরে এই কাজ করছি। আমার কাছে অনেকেই লোকজন নিয়ে আসে। তাদের মাথাপিছু ৫০০ টাকা করে দিই।’
গত ২০ জুলাই শাজাহানপুরের রহিমাবাদ এলাকার সাবেক সেনাসদস্য আমিরুল ইসলাম থানায় একটি অভিযোগ করেন। সেখানে বলা হয়, গত ১৯ জুলাই সৈকত ইসলাম ও তাঁর তিন সহযোগী তিন স্কুলছাত্রকে সৈকতের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের স্কুলের পোশাক পরিবর্তন করিয়ে ছবি তোলা হয় এবং ফেস ভেরিফিকেশন করা হয়।
আমিরুল ইসলামের দাবি, অভিযোগের পর ২১ জুলাই পুলিশ সৈকতকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে সৈকত তাঁর কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।
সৈকত ইসলাম বলেন, তিনি আগে অনলাইনে ভুয়া পাসপোর্ট তৈরি এবং ফেস ভেরিফিকেশনের কাজ করতেন। পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়েছিল। পরে লিখিত অঙ্গীকার দেওয়ার পর তিনি ওই কাজ বন্ধ করে দেন।
তবে শাজাহানপুর থানার ওসি আশিক ইকবাল বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সৈকতকে আটক করেনি এবং থানায় বসে কোনো আপস-মীমাংসাও হয়নি। কেউ একজন মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছিলেন। পরে উভয় পক্ষ নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা করে নেয়।
তবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্ত হয়ে সৈকত তাঁর কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন। শুধু সৈকত নয়, এই এলাকার আরও অনেকে এসব কাজের সঙ্গে যুক্ত। তবে ২১ সেপ্টেম্বর শেরপুর উপজেলার মহিপুর কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ জন শিক্ষার্থীর নিখোঁজের ঘটনায় সবাই গা ঢাকা দিয়েছে।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার ওসি এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।’
গত বৃহস্পতিবার শাজাহানপুর থানার ওসি আশিক ইকবাল বলেন, ঘটনাটি অবগত হওয়ার পরে বুধবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত সাব্বিরের বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি এখন পলাতক আছেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।
রংপুরের পীরগঞ্জে শানেরহাট ইউনিয়নের তারবিয়াতুল উম্মাহ্ ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকসহ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে হুমকি, মানসিক নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগ করেছেন ওই প্রতিষ্ঠানেরই এক নারী সহকারী শিক্ষিকা। এ ঘটনায় সুবিচারের দাবি জানিয়ে পীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী…
ঝিনাইদহে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাসহ তিনজনকে আটক করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। নাশকতা ও সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যে গোপন তৎপরতার অভিযোগে তাঁদের আটকের পর মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিষয়খালী বাজার পার হয়ে একটি তেল পাম্প থেকে তাঁদের আটক করে ডিবি।
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানায় একটি মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত এবং বিচারাধীন আরেকটি মাদক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত শফিকুল ইসলাম সাতক্ষীরা আদালত থেকে পালিয়েছেন। বুধবার দুপুরের দিকে পালিয়ে যাওয়ার ৩ ঘণ্টা পর তাঁকে ফের গ্রেপ্তার করা হয়।
দৈনিক টার্গেট 



















