সিএনএন জানায়, ম্যাকেঞ্জি গুড নিউজ ইন্টারন্যাশনাল চার্চের প্রতিষ্ঠাতা। আদালতের বিচারক ডায়ানা কাভেদজা জানান, ম্যাকেঞ্জিকে ১০০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে অনাহারে মৃত্যুর জন্য এবং আরও ১০০ বছর সরাসরি হত্যাকাণ্ডের জন্য।
নিহতদের মধ্যে ১৬১ শিশুর বয়স ছিল ৯ বছর বা তার কম। ১০ থেকে ১৩ বছর বয়সী ছিল ২২ জন এবং ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী পাঁচজন। বাকি দুজনের বয়স নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিচারক জানান, দণ্ডিত ব্যক্তিদের কয়েকজনের সন্তান এখনো নিখোঁজ। তাদের মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ১৯১ জনের মধ্যে ১৮৩ জন অনাহারে মারা যায়। তাদের মধ্যে ১৮২ জন শিশু ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক। বাকি আট শিশু শ্বাসরোধ, গলায় ফাঁস বা মারধরের কারণে মারা যায়।
ম্যাকেঞ্জি তাঁর অনুসারীদের বাড়িঘর ছেড়ে পূর্ব কেনিয়ার শাকাহোলা বনে চলে যেতে প্ররোচিত করেছিলেন। তিনি প্রচার করেছিলেন, সেখানে উপবাস করলে ঈশ্বরের নৈকট্য পাওয়া যাবে এবং স্বর্গে যাওয়ার পথ সুগম হবে। ধর্মীয় বক্তব্যের মাধ্যমে অনুসারীদের উপবাসে বাধ্য করা হতো। পাহারাদারেরা তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করত এবং বন ছেড়ে যেতে বাধা দিত। শিশুদের খাবার থেকে বঞ্চিত করা, আটকে রাখা এবং পালানোর চেষ্টা করলে শাস্তি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
কেনিয়ার সিনেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যাকেঞ্জির প্রচারের মূল ভিত্তি ছিল পৃথিবীর ধ্বংস ও মহাপ্রলয়ের বিশ্বাস। তিনি দাবি করেছিলেন, ২০২৩ সালের আগস্টে পৃথিবী ধ্বংস হবে। এই সময়কে সামনে রেখে অনুসারীদের যিশুর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশে উপবাস করতে বলেছিলেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী—পৃথিবী ধ্বংসের প্রক্রিয়ায় প্রথমে শিশু, পরে তরুণ ও নারীদের মৃত্যুর কথা ছিল।
২০২৩ সালের এপ্রিলে শাকাহোলা বনে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মরদেহ উদ্ধারের কাজ শুরু হয়। এ পর্যন্ত ৪২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাই মামলার ১৯১টি হত্যার ঘটনা ছাড়াও আরও অভিযোগ আনা হতে পারে।
রায়ের পর ম্যাকেঞ্জির অনুসারী এক নারীর মরদেহ শনাক্ত করা রজার্স শিবুতসে বলেন, এই সাজা তাঁর মায়ের জীবনের ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হতে পারে না। তবে ২০০ বছরের সাজা পাওয়া ম্যাকেঞ্জিকে নিশ্চিতভাবে একসময় কারাগারেই মরতে হবে।

দৈনিক টার্গেট 


























