ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে—সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের এই সামরিক সহায়তার প্রয়োজন নেই। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা তাদের ৪০০ কোটি ডলার দিচ্ছিলাম। কিন্তু বছরের শেষ নাগাদ এটি বন্ধ হয়ে যাবে।’ তবে সামরিক সহায়তা বন্ধ হলেও এর পরিবর্তে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত থাকবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের ৪০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ও অর্থ দিয়ে থাকি। কিন্তু তাদের এগুলোর প্রয়োজন নেই। নেতানিয়াহু আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে এসেছিলেন। গত কয়েক বছর ধরেই আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি, কারণ এটি অনেক বড় অঙ্কের অর্থ।’
এর আগে নেতানিয়াহু আগামী এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে ট্রাম্পের মঙ্গলবারের ঘোষণা কার্যকর হলে সেই সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে আসবে। ট্রাম্পের ঘোষণায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। দেশটির বিরোধী দলের নেতারা বলেছেন, এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের ওপর নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাবেরই প্রতিফলন।
নেতানিয়াহুর প্রধানমন্ত্রী পদে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্য-ডানপন্থী নেতা গাদি আইজেনকট বলেন, ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ইসরায়েলের নাগরিকেরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে কৌশলগত সম্পর্কের কাঠামোয় পরিবর্তনের খবর জানতে পারছেন। বিষয়টি প্রমাণ করে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ড প্রকৃতপক্ষেই কতটা বিপজ্জনক। আমরা আর তাঁর ওপর নির্ভর করতে পারি না। তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।’
বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়াইর গোলান বলেন, ‘একজন দায়িত্বশীল প্রধানমন্ত্রী মার্কিন সহায়তা ভেঙে দেওয়ার পরিবর্তে তা বাড়ানোর জন্য লড়াই করতেন। নেতানিয়াহু নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর করছেন এবং ইসরায়েলের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলছেন।’
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া প্রায় ৩৮০ কোটি ডলারের বেশির ভাগই বৈদেশিক সামরিক অর্থায়ন অনুদান হিসেবে পেয়েছে ইসরায়েল। এসব অর্থ দিয়ে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম কিনতে পারে। এ ছাড়া যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচির জন্য আরও ৫০ কোটি ডলার দেওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন ট্রাম্পের এ ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সমর্থন এবং দেশটির পররাষ্ট্রনীতি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মিশিগানের সিনেট নির্বাচনকে ঘিরে বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সাইয়েদ। নির্বাচিত হলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর।
গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ইসরায়েলকে অতিরিক্ত সমর্থন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক অন্যান্য জরিপেও ইসরায়েল ও নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি মার্কিন জনসমর্থনে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে।
গত জুনে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে ভ্যান্স বলেছিলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার প্রতিটি সমস্যা সমাধানের জন্য আপনি শুধু মানুষ হত্যা করে যেতে পারেন না।’
তবে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিলেও ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুর প্রতি উষ্ণ মনোভাব প্রকাশ করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইসরায়েলে নিজের জনপ্রিয়তা নিয়েও গর্ব করেন তিনি। এ সময় ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ যদি কখনো আমার ওপর বিরক্ত হয়ে যায়, তাহলে আমি ইসরায়েলে চলে যাব এবং সেখানকার প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাব।’

দৈনিক টার্গেট 

























