ক্যালেন্ডারের পাতায় বর্ষাকাল বিদায়ের পথে, আর প্রকৃতির ক্যানভাসে ডানা মেলছে শুভ্র শরৎ। নদীর চরে ধবধবে কাশফুলের দোল আর শুভ্র আকাশের লুকোচুরি জানান দিচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের বার্তা। তবে এই স্বাভাবিক ঋতুচক্রের মাঝেই এবার এক ব্যতিক্রমী আবহাওয়ার মুখোমুখি হয়েছে উত্তরপদের সীমান্তবর্তী জেলা ঠাকুরগাঁও। ভাদ্র আসার আগেই যেন সেখানে উপস্থিত হিমালয়ের কনকনে ঠান্ডা আমেজ।
মঙ্গলবার সকালের সূর্য ওঠার পর এক অভাবনীয় দৃশ্যের আড়ালে ঢেকে যায় পুরো ঠাকুরগাঁও। ভোর থেকে শুরু করে শ্রাবণ মাসের শেষলগ্নের বেলা ১১টা পর্যন্ত পুরো এলাকা আচ্ছাদিত ছিল ঘন সাদা কুয়াশায়। ভরদুপুরের কাছাকাছি সময় পর্যন্ত এমন ঘন কুয়াশার দাপট এই মৌসুমে স্বাভাবিক ঘটনা নয়।
কুয়াশার তীব্রতায় দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়ায় দূর-দূরান্তের যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে বেশ বেগ পেতে হয়। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এই রূপ মনোমুগ্ধকর মনে হলেও, স্থানীয় অধিবাসীদের মনে জন্ম নিয়েছে ঘোর বিস্ময়। বর্ষা পুরোপুরি বিদায় নেওয়ার আগেই কেন এভাবে কড়া নাড়ছে শীত এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
ভৌগোলিক দিক থেকে ঠাকুরগাঁও হিমালয় পর্বতমালার কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় এখানে বরাবরই একটু আগেভাগে শীতের আমেজ পাওয়া যায়। তবে ভরা শ্রাবণের বেলা ১১টা পর্যন্ত এমন কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ সাম্প্রতিক ইতিহাসে বেশ বিরল। একদিকে নদীর তীরে বাতাসে ভাসতে থাকা কাশবন, অন্যদিকে জলাশয়ের জলে ঘন কুয়াশার প্রতিবিম্ব—সব মিলিয়ে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়েছে এ জনপদে।
আবহাওয়াবিদ ও পরিবেশ সচেতনদের মতে, উত্তরবঙ্গের এই পরিবর্তন জানান দিচ্ছে যে হেমন্তের আগেই উত্তুরে হাওয়ার আমেজ ছড়িয়ে পড়ছে। বর্ষার আনুষ্ঠানিক ইতি টানার আগেই ঠাকুরগাঁওয়ে বাজতে শুরু করেছে শীতের আগাম সুর।

দৈনিক টার্গেট 






















