প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সামরিক পদক্ষেপ কার্যকর করতে আপত্তি জানাচ্ছেন জামির। এমনকি, এই পদক্ষেপের আইনি অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে তিনি নেতানিয়াহুর কাছে স্বাক্ষরিত লিখিত নথিও চেয়েছেন। চ্যানেল–১২ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এই বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। তবে ইসরায়েলের সামরিক সেন্সরশিপের বিধিনিষেধ মেনেই প্রতিবেদনটি সম্প্রচার করা হচ্ছে।
চ্যানেল–১২ এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজনৈতিক সূত্রগুলি এই খবর অস্বীকার করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিরোধের মূল বিষয় ‘ইরান পরিস্থিতি।’ জামির এবং সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচনের ঠিক আগে ইরানকে ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যার ফলে ভুল হিসাব-নিকাশের কারণে ইসরায়েল বড় ধরনের সংকটে জড়িয়ে পড়বে।
এক সামরিক সূত্রের বক্তব্য উদ্ধৃত করে চ্যানেল–১২ জানিয়েছে, ‘এটি এমন একটি পদক্ষেপের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা ইরানের সঙ্গে সংঘাত বাড়িয়ে দিতে পারে। এমন একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই পদক্ষেপ পরিস্থিতি ভুলভাবে বিচার করার ঝুঁকি তৈরি করছে।’
প্রতিবেদনে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য ‘ইরান ইস্যুকে কাজে লাগানোর’ চেষ্টা করতে পারে বলে সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু ও জামিরের মধ্যে বিরোধ এবং তাঁদের সম্পর্কের অবনতির বিষয়টি আজ পালমাখিম বিমানঘাঁটিতে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওই বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে পরিবেশ ছিল ‘অত্যন্ত তিক্ত।’ চ্যানেলটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনে জামির রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট নির্দেশ পেয়েছেন। তবে নির্দেশটি ঠিক কী বিষয়ে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
এই নির্দেশ পাওয়ার পর সেটি কার্যকর করার আগে জামির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের অনুরোধ জানান। পাশাপাশি, প্রস্তাবিত পদক্ষেপের বিষয়ে নেতানিয়াহুর কাছ থেকে আইনি অনুমোদনসংক্রান্ত ‘স্বাক্ষরিত লিখিত নথি’ও চান তিনি। এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সাম্প্রতিক দিনগুলিতে জামির যে ভূমিকা পালন করেছেন, ইতিহাস তা ভুলবে না।’
এর আগে বৃহস্পতিবার চ্যানেল–১৩ জানিয়েছিল, সম্প্রতি এক ব্যক্তিগত বৈঠকে জামির বলেছেন, নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানোর কোনও সামরিক প্রয়োজনীয়তা তিনি এই মুহূর্তে দেখছেন না। জামিরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে চ্যানেল–১৩ জানিয়েছে, ‘নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানোর প্রয়োজন রয়েছে, এমন কোনও ইঙ্গিত আমরা দেখতে পাচ্ছি না। তবে ইরানে হামলা চালানো প্রয়োজন বলে যদি আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছাই, তা হলে আমরা সেই পদক্ষেপ নেব।’
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তাঁর সমালোচকদের অভিযোগ, ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে প্রভাবিত করা কিংবা নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করার চেষ্টা করছেন। তবে নেতানিয়াহু এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন বলে খবর পাওয়া গেছে, নেতানিয়াহুর ওই পোস্ট ইরানের কর্মকর্তাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল ধারণা দিতে পারে। এর ফলে ইরান কোনও হামলা চালিয়ে বসতে পারে এবং ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধে আরও বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

দৈনিক টার্গেট 

























