প্রচারিত ফটোকার্ডের ছবিতে নারী সেনা সদস্যদের শারীরিক গঠন, ইউনিফর্মের লোগো ও ব্যাজের অস্পষ্টতা দেখে ছবিটির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এ ছাড়া ছবির পেছনের সারিতে থাকা অন্যান্য ব্যক্তিদের মুখাবয়ব বেশ অস্পষ্ট এবং বিকৃত। পাশাপাশি প্রসূতি নারীদের চেহারা প্রায় একই রকম মিল লক্ষ্য করা যায়, যা মূলত এআই দিয়ে তৈরি ছবিতে দেখা যায়।
ছবিটি যাচাই করতে OpenAI-এর ‘Verify’ টুল ব্যবহার করা হয়। টুলটির বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি।
প্রচারিত দাবিটির বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে ‘Saudi Arabia, Turkiye and Pakistan agree to continue talks for peace’ শিরোনামেএকটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৬ অক্টোবর ইরানের রাজধানী তেহরানে সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন অংশ নেন। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি বৈঠকটির আয়োজন করেন। বৈঠক শেষে দেশগুলো আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদার এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে হামলার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় আঞ্চলিক অনাক্রমণ কাঠামো গড়ে তোলা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের বিষয় উঠে আসে। পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাতে এসব তথ্য জানায় রয়টার্স।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ২০২৬ সালের আগস্টে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, সদস্যদেশগুলোর একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে অন্য সদস্যদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সৌদি আরবে হুথিদের হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে দেশ তিনটির কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। তবে বৈঠকে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মতি এলেও কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। তবে প্রতিবেদনে সৌদি আরবে পাকিস্তানি নারী সেনা পাঠানো, তাঁদের মধ্যে ১২৫ জনের গর্ভবতী হয়ে দেশে ফেরার ঘটনা কিংবা এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ৮ অক্টোবর ২০২৬-এ প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সৌদি আরবে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করতে সম্মত হয়েছিল। তবে সেনার সংখ্যা, তাঁদের দায়িত্ব ও মোতায়েনের সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি। সেখানে নারী সেনার সংখ্যা সম্পর্কেও কোনো তথ্য নেই। এমনকি কি ওয়ার্ড সার্চ করে সৌদি আরব কিংবা পাকিস্তানের কোনো মূলধারার গণমাধ্যমে এমন দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, আলোচিত দাবিতে পোস্ট শেয়ার করা ফেসবুক পেজগুলোর প্রোফাইল পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সেগুলোতে নিয়মিতভাবে তথ্য-প্রমাণ ছাড়া বিভিন্ন দাবি প্রচার করা হয়।
সৌদি আরবে পাঠানো ৬০০ পাকিস্তানি নারী সেনার মধ্যে ১২৫ জন গর্ভবতী হয়ে দেশে ফিরেছেন—এমন দাবির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং প্রচারিত ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি।

দৈনিক টার্গেট 

























