মাইকেল মাই চীনের ক্রাউন নিউ ম্যাটেরিয়ালস টেকনোলজি কোম্পানির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। মঙ্গলবার শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটি টেসলা ও অ্যাপলের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন ধরনের আঠাজাতীয় উপকরণ ও বন্ডিং এজেন্ট তৈরি করে।
শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী—শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য ছিল ১৬ দশমিক ৯৮ ইউয়ান (২ ডলার ৫৫ সেন্ট)। লেনদেন শুরুর পর দাম বেড়ে একপর্যায়ে ১৫০ দশমিক ৫৮ ইউয়ানে (২২ ডলার ৫৭ সেন্ট) পৌঁছায়। তবে বুধবার সকালে শেয়ারের দাম কমে প্রায় ৭৭ ইউয়ানে (১২ ডলার) নেমে আসে।
ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, কোম্পানিটিতে নিজের মালিকানাধীন শেয়ারের ভিত্তিতে ৬২ বছর বয়সী মাইকেল মাইয়ের সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ২.৫ বিলিয়ন ডলার। তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এবং হংকংয়ের স্থায়ী বাসিন্দা।
একসময় দক্ষিণ চীনের ঝংশান শহরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করতেন মাই। ২০০০ সালে সেখানেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ক্রাউন নিউ ম্যাটেরিয়ালস টেকনোলজি। তাঁর বোন ৬৪ বছর বয়সী মাই হুইশিয়াও কোম্পানিটির ভাইস চেয়ারম্যান। ফোর্বসের হিসাবে, কোম্পানিতে তাঁর মালিকানার শেয়ারের মূল্য প্রায় ২০০ কোটি বা ২ বিলিয়ন ডলার। ফলে তিনিও উঠে এসেছেন শতকোটি ডলারের সম্পদের মালিকদের তালিকায়।
চীনের বিভিন্ন স্থানে চারটি এবং ভিয়েতনামে একটি উৎপাদন কারখানা রয়েছে কোম্পানিটির। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, গাড়ির ছাদ থেকে শুরু করে স্মার্টফোনের সেমিকন্ডাক্টর—বিভিন্ন পণ্যে ব্যবহৃত উপাদান সংযুক্ত করার জন্য বিশেষায়িত আঠাজাতীয় পণ্য তৈরি করে তারা।
শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার পর মঙ্গলবার বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি সতর্ক করে বলেছে, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁদের যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
এদিকে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চীনের শেয়ারবাজারে কিছুটা মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। ভোক্তাদের ব্যয় কমে যাওয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে সম্ভাব্য বিনিয়োগ বুদ্বুদ ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা এর অন্যতম কারণ। গত জুনে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পর চীনের প্রধান শেয়ারবাজার সূচকগুলো ২০ শতাংশের বেশি পড়ে গেছে। এর মধ্য দিয়ে বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্দার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে দুই সপ্তাহ আগে চীনের সরকার এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) ১৯০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুর পর এটি চীনের শেয়ারবাজারে সরকারের সবচেয়ে বড় হস্তক্ষেপ। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।

দৈনিক টার্গেট 


























