নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এনসিটি ও ওসিওয়াই পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) এ চুক্তি করবে।
সরকার মনে করছে, আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে টার্মিনালটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে। এ জন্য স্বাক্ষরিতব্য কনসেশন চুক্তির খসড়া কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনকর্মীরা বিদেশিদের কাছে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার ঘোর বিরোধিতা করে আসছে।
ওভারফ্লো ইয়ার্ডসহ এনসিটি ১৫ বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রামের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার ও সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু। গতকাল এক যুক্ত বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভার মূল অ্যাজেন্ডায় না থাকা সত্ত্বেও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর একটি বিষয় ‘বিবিধ’ অ্যাজেন্ডার মাধ্যমে উত্থাপন করে আলোচনা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, এমন একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, জনস্বার্থ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ থাকা প্রয়োজন। অথচ মূল অ্যাজেন্ডার বাইরে ‘বিবিধ’ অ্যাজেন্ডার মাধ্যমে বিষয়টি উত্থাপন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
রাষ্ট্রের নিজের বিনিয়োগে নির্মিত একটি প্রতিষ্ঠিত টার্মিনাল দীর্ঘমেয়াদি কনসেশনের আওতায় বিদেশিদের দেওয়ার আগে রাষ্ট্র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এর সক্ষমতা ও আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা যাচাই করেছে কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, অটোমেশন, প্রশিক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনার সংস্কারের মাধ্যমে দেশের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ও জনবলকেও আরও সক্ষম করে তোলা সম্ভব। কোনো চুক্তি যদি রাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়, রাজস্ব ক্ষতি কিংবা ভবিষ্যতে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি করে, তাহলে তা কোনোভাবেই তাড়াহুড়ো করে চূড়ান্ত করা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে জাতীয় পর্যায়ে উন্মুক্ত আলোচনা ও সংসদীয় পর্যালোচনার ব্যবস্থা করা উচিত।
বন্দর রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ চুক্তির পূর্ণাঙ্গ খসড়া ও আর্থিক কাঠামো জনসমক্ষে প্রকাশ, স্বাধীন অর্থনৈতিক ও কারিগরি মূল্যায়ন, শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থান ও অধিকার সুরক্ষার নিশ্চয়তাদান এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁরা এনসিটি পরিচালনায় দেশের নিজস্ব সক্ষমতা ও সম্ভাব্য বিকল্প ব্যবস্থাপনা কাঠামোও বিবেচনা করার আহ্বান জানান।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এনসিটি কনসেশন চুক্তির সিদ্ধান্ত বাতিল এবং জাতীয় স্বার্থের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন ছাড়া কোনো চূড়ান্ত চুক্তি না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দেশে নিরাপত্তা মজুত গড়ে তুলতে ১ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির নীতিগত প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।
এদিকে একই দিন একই স্থানে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিরও (সিসিইএ) ৩১তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে সুনির্দিষ্টভাবে ২ লাখ ৬০ হাজার টন ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার কিনতে ২ হাজার ১০৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব এবং ঢাকার ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-১ ও লাইন-৫-এর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এ বৈঠকেও সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী।
আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ কেনার ট্যারিফ প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় ৫ টাকা ৮১ পয়সা থেকে কমিয়ে ৫ টাকা ৭৭ পয়সা করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বছরে প্রায় ৩০ কোটি ৯ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে। চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদে মোট সাশ্রয় হবে ৪৩১ কোটি ৭৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা। সংশোধিত ট্যারিফ ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে, যার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের জন্য তৃতীয় প্রজন্মের ৩ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার চক্র খাবার বড়ি কিনতে ১৯৩ কোটি ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি প্যাকেজে ১ কোটি ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার চক্র করে মোট ৩ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার চক্র খাবার বড়ি কেনা হবে। ‘সমাপ্ত চতুর্থ সেক্টর কর্মসূচির অত্যাবশ্যকীয় পরিবার পরিকল্পনা, মা, শিশু ও প্রজননস্বাস্থ্য সেবার অসমাপ্ত কার্যাবলি বাস্তবায়ন’ প্রকল্পের আওতায় সরকারি অর্থে এসব বড়ি কেনা হবে। প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।
বিশ্ববাজারে চাহিদার ধীরগতি ও দেশের অর্থনীতিতে নানা চাপের মধ্যেও রপ্তানি আয় ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশের তৈরি পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি বাবদ আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার..
আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন মো. মেহমুদ হোসেন। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৯৮৬ তম সভায় তিনি সর্বসম্মতিক্রমে চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন।
অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, বৈশ্বিক অস্থিরতা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত—কোনোটিই প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর ধারাকে থামাতে পারেনি। বরং প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে প্রবাসী আয়।
দৈনিক টার্গেট 






















