গতকাল শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ১০ নম্বর হাইলধর ইউনিয়নের খাসখামা গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আলী মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আগুনে জামাল আহমদ, নজরুল ইসলাম সোনামিয়া ও আবু মনসুরের ঘর পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, নগদ ৭০ হাজার টাকাসহ তিন পরিবারের ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ আড়াই লাখ টাকা।
আজ রোববার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবেশীর সঙ্গে পূর্বের জমি বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল ও আইনি ঝামেলায় ফেলতে পরিত্যক্ত গোয়াল ঘরে আগুন দেওয়া হয়। পরে ঘটনাটিকে প্রতিপক্ষের নাশকতা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ তাঁদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গতকাল সন্ধ্যায় এলাকাবাসীর পানি ব্যবহারের সুবিধার জন্য বসানো গভীর নলকূপের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আবু নাঈম বলেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের জমি বিরোধ চলছিল। শনিবার গভীর নলকূপের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে রাতে প্রতিবেশীদের ঘায়েল ও আইনি ঝামেলায় ফেলতে পরিত্যক্ত ডেইরি ঘরে আগুন দেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত নজরুল ইসলাম ওরফে সোনা মিয়ার ছেলে মো. শোয়াইবুল ইসলাম রাকিব (২১)। তিনি বলেন, ‘আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ গরম অনুভব হওয়ায় ঘুম থেকে উঠে দেখি, আগুনের লেলিহান শিখা। বাইরে থেকেও আগুন আগুন বলে চিৎকার শুনতে পাই। এরপর ঘর থেকে বের হয়ে আর ভেতরে ঢুকতে পারিনি। আমার ঘরে টাকাসহ সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’
রাকিবের অভিযোগ, আগুন লাগার আগে প্রতিবেশীরা তাঁদের বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ নিয়ে রাতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে আনোয়ারা থানার সহকারী উপপরিদর্শক সহিদুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ দুই পক্ষকে শান্ত করে পরদিন রোববার সকাল ১১টায় থানায় গিয়ে বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দেয়।
রাকিব বলেন, ‘বৈঠকের আগে তারা আমাদের ঘরে আগুন ধরিয়ে দিল। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, খবর পেয়ে শনিবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়।
পুলিশ পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।
আনোয়ারা ফায়ার স্টেশনের লিডার মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমাদের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। আগুনের লেলিহান শিখার মধ্যেই আমাদের কর্মীরা নির্বাপণের কাজ শুরু করেন। ৪৫ মিনিটের মধ্যে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করতে সক্ষম হই। এতে আনুমানিক আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।’
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘টিউবওয়েল ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের খবর আসে ৯৯৯-এ। পুলিশ রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘরে আগুন লাগার বিষয়ে আমি অবগত নই এবং কোনো অভিযোগও আসেনি।’

দৈনিক টার্গেট 






















