পুলিশের ওপর হামলা, কর্তব্যকাজে বাধা, ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও সরকারি গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগে করা তিন মামলায় ২৬ জনকে বিকেলে আদালতে হাজির করে মিরপুর ও পল্লবী থানা-পুলিশ। সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন—মো. ওলিউল্লাহ অনিক (২০), মো. কামাল গাজী (৩২), আলিফ হোসেন ইমন (২৬), রমজান সরকার (১৯), মো. মহিম মোল্লা (১৯), জুবায়ের ইসলাম ওরফে জিসান (২২), মো. আরিফ আকন্দ (২৯), মোয়াজ্জেম শাহরিয়ার নিয়াজ (২৬), মো. আরিফ (১৯), মো. নাহিদ হাসান (১৮), মাহবুবুর রহমান জুয়েল (৩৮), শামীম (২৩), মো. সুমন গাজী (২৮), মো. ইউসুফ আলী (২২), রাজীব চন্দ্র দাশ (২৮), মো. জামাল সরকার (৩৩), মো. তারেক হোসেন (২৪), মো. ইমরান হোসেন (৩০), মো. আবুল কাসেম (২২), মো. মহীন উদ্দিন (২৩), কাওসার আহমেদ (২২), মো. রফিক গাজী (২১), মো. ইসমাইল (২০), মো. সাইফুল ইসলাম (২৬), মো. সজীব শেখ (২০) এবং মো. মোর্শেদ আলম (২৫)।
আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম ও এসআই আবু বক্কর এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, পল্লবী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় ১৩ জন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় পল্লবী থানায় করা আরেকটি মামলায় সাতজন এবং মিরপুর মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় ছয়জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল রোববার মিরপুর এলাকায় পোশাকশ্রমিকেরা ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন করেন। আন্দোলন মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পুলিশের ওপর হামলা, কর্তব্যকাজে বাধা, ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পাঁচটি মামলা করে। সংঘর্ষের সময় ও পরে ২৬ জনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের তিন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।
পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছিলেন।
তিন মামলার পুলিশ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হতে পারেন এবং তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

দৈনিক টার্গেট 






















