ফেস ভেরিফিকেশন চলছে ৮ বছর ধরে

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০১:১৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ বার পঠিত হয়েছে

ব্যক্তিগত এসব স্পর্শকাতর তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা নিয়ে ১ অক্টোবর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় আজকের পত্রিকায়। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ সূত্র বলছে, তাদের কাছে এমন অপরাধ নতুন। এসব তথ্য কী উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশও। প্রাথমিকভাবে এসব তথ্য দিয়ে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে অনলাইন জুয়ায় ব্যবহারের আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্থানীয়দের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় প্রায় অর্ধেক মানুষের তথ্য নেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালে এ কার্যক্রমের শুরু শাজাহানপুরের আড়িয়া ইউনিয়নে। ইমরান নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে শুরু হওয়া এ কাজে পরে যুক্ত হন কয়েকজন।

২০২২ সালে ইমরানের সঙ্গে তাঁদের বিরোধের পর আলাদা হয়ে একই ধরনের কাজ শুরু করেন।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ২০১৮ সাল থেকে রহিমাবাদ গ্রামের সৈকত ইসলাম, সাব্বির হাসান ও মামুন—ইমরানের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন সংগ্রহ করে তাঁরা ইমরানের কাছে নিয়ে যেতেন। বিন্নাচাপর গ্রামের অটোচালক আইয়ুব আলীও এই চক্রের সদস্য।

আইয়ুব আলী বলেন, ‘প্রায় ছয় বছর ধরে তিনি ইমরানের হয়ে লোকজন সংগ্রহ করছেন। মানিকদ্বিপা, রাঙ্গামাটি, খোদাবন্দবালা, ডোপনপুকুরসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রাম থেকে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়ে যেতেন তিনি। প্রত্যেকের জন্য ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পেতেন।’ আইয়ুব জানান, সঙ্গে আরও কয়েকজন কাজ করেন।

খরনা বাজার এলাকার ইমাম আলী বলেন, ‘আমি নিজেও ৫০০ টাকার বিনিময়ে ইমরানের কাছে গিয়েছিলাম। শাজাহানপুর ও সীমান্তবর্তী কয়েকটি উপজেলার নির্দিষ্ট এলাকায় প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের ফেস ভেরিফিকেশন করা হয়েছে। এখন অনেকেই লজ্জা ও ভয়ে মুখ খুলতে চাচ্ছে না।’

প্রায় আট বছর ধরে এলাকায় প্রকাশ্যে এ ধরনের কার্যক্রম চললেও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিল না—এমনটা মনে করেন না ডোপনপুকুর এলাকার সিরাজুল ইসলাম। তাঁর ধারণা, বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করা হয়নি। থানায় অভিযোগ হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর যৌথ বাহিনী ইমরানকে আটক করে শাজাহানপুর থানায় নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল বলেন, ‘তিনি তখন ওই থানায় কর্মরত ছিলেন না। তবে ইমরানকে আটকের কথা শুনেছেন। যৌথ বাহিনী তাঁকে থানায় সোপর্দ করেনি বলে এ-সংক্রান্ত কোনো নথি থানায় নেই।’

স্কুলশিক্ষার্থীদের নিয়ে ফেস ভেরিফিকেশন নিয়ে আজকের পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর ১ অক্টোবর শেরপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণের মামলা হয়। এজাহারভুক্ত দুই কিশোর রাব্বি ও আশিককে পরে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরপুর থানার উপপরিদর্শক কামরুল হাসান বলেন, ‘তদন্তের প্রয়োজনে কয়েক দিন শাজাহানপুরে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। ইমরানের বিষয়েও তথ্য পেয়েছেন। তবে আপাতত মামলার মূল আসামি সাব্বিরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ফেস ভেরিফিকেশনের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত এগিয়ে নিতে চান তাঁরা।’

ওসি বলেন, সংবাদ প্রকাশের সূত্র ধরে সাব্বির ও সৈকতকে খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তাঁরা পলাতক থাকায় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি।

সহকারী পুলিশ সুপার হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান বলেন, ‘আমাদের কাছে এ ধরনের অপরাধ নতুন মনে হচ্ছে। সংবাদের সূত্রধরে আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, অপরাধীরা ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অনলাইন জুয়ায় ব্যবহারের জন্য এসব তথ্য সংগ্রহ করছে।’

চলতি বছর ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের সবচেয়ে বড় অংশ বয়সে তরুণ। ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী রোগীরা মোট ভর্তির ৪২ শতাংশ। মৃত্যুর হিসাবেও তরুণদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তরুণদের বেশি আক্রান্ত হওয়ার জন্য প্রথাগতভাবে বাইরে বেশি থাকাসহ কয়েকটি কারণের কথা উল্লেখ করা হয়ে থাকে।

চাঁদাবাজি বন্ধে বিদ্যমান আইনের দুর্বলতা দূর করতে আইন সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়নের চিন্তা করছে সরকার। এতে চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তি কোনো কারণে মামলা করতে না চাইলেও পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করতে পারবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

জনপ্রিয় টার্গেট

ফেস ভেরিফিকেশন চলছে ৮ বছর ধরে

প্রকাশ: ০১:১৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ব্যক্তিগত এসব স্পর্শকাতর তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা নিয়ে ১ অক্টোবর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় আজকের পত্রিকায়। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ সূত্র বলছে, তাদের কাছে এমন অপরাধ নতুন। এসব তথ্য কী উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশও। প্রাথমিকভাবে এসব তথ্য দিয়ে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে অনলাইন জুয়ায় ব্যবহারের আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্থানীয়দের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় প্রায় অর্ধেক মানুষের তথ্য নেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালে এ কার্যক্রমের শুরু শাজাহানপুরের আড়িয়া ইউনিয়নে। ইমরান নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে শুরু হওয়া এ কাজে পরে যুক্ত হন কয়েকজন।

২০২২ সালে ইমরানের সঙ্গে তাঁদের বিরোধের পর আলাদা হয়ে একই ধরনের কাজ শুরু করেন।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ২০১৮ সাল থেকে রহিমাবাদ গ্রামের সৈকত ইসলাম, সাব্বির হাসান ও মামুন—ইমরানের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন সংগ্রহ করে তাঁরা ইমরানের কাছে নিয়ে যেতেন। বিন্নাচাপর গ্রামের অটোচালক আইয়ুব আলীও এই চক্রের সদস্য।

আইয়ুব আলী বলেন, ‘প্রায় ছয় বছর ধরে তিনি ইমরানের হয়ে লোকজন সংগ্রহ করছেন। মানিকদ্বিপা, রাঙ্গামাটি, খোদাবন্দবালা, ডোপনপুকুরসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রাম থেকে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়ে যেতেন তিনি। প্রত্যেকের জন্য ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পেতেন।’ আইয়ুব জানান, সঙ্গে আরও কয়েকজন কাজ করেন।

খরনা বাজার এলাকার ইমাম আলী বলেন, ‘আমি নিজেও ৫০০ টাকার বিনিময়ে ইমরানের কাছে গিয়েছিলাম। শাজাহানপুর ও সীমান্তবর্তী কয়েকটি উপজেলার নির্দিষ্ট এলাকায় প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের ফেস ভেরিফিকেশন করা হয়েছে। এখন অনেকেই লজ্জা ও ভয়ে মুখ খুলতে চাচ্ছে না।’

প্রায় আট বছর ধরে এলাকায় প্রকাশ্যে এ ধরনের কার্যক্রম চললেও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিল না—এমনটা মনে করেন না ডোপনপুকুর এলাকার সিরাজুল ইসলাম। তাঁর ধারণা, বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করা হয়নি। থানায় অভিযোগ হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর যৌথ বাহিনী ইমরানকে আটক করে শাজাহানপুর থানায় নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল বলেন, ‘তিনি তখন ওই থানায় কর্মরত ছিলেন না। তবে ইমরানকে আটকের কথা শুনেছেন। যৌথ বাহিনী তাঁকে থানায় সোপর্দ করেনি বলে এ-সংক্রান্ত কোনো নথি থানায় নেই।’

স্কুলশিক্ষার্থীদের নিয়ে ফেস ভেরিফিকেশন নিয়ে আজকের পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর ১ অক্টোবর শেরপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণের মামলা হয়। এজাহারভুক্ত দুই কিশোর রাব্বি ও আশিককে পরে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরপুর থানার উপপরিদর্শক কামরুল হাসান বলেন, ‘তদন্তের প্রয়োজনে কয়েক দিন শাজাহানপুরে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। ইমরানের বিষয়েও তথ্য পেয়েছেন। তবে আপাতত মামলার মূল আসামি সাব্বিরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ফেস ভেরিফিকেশনের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত এগিয়ে নিতে চান তাঁরা।’

ওসি বলেন, সংবাদ প্রকাশের সূত্র ধরে সাব্বির ও সৈকতকে খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তাঁরা পলাতক থাকায় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি।

সহকারী পুলিশ সুপার হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান বলেন, ‘আমাদের কাছে এ ধরনের অপরাধ নতুন মনে হচ্ছে। সংবাদের সূত্রধরে আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, অপরাধীরা ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অনলাইন জুয়ায় ব্যবহারের জন্য এসব তথ্য সংগ্রহ করছে।’

চলতি বছর ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের সবচেয়ে বড় অংশ বয়সে তরুণ। ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী রোগীরা মোট ভর্তির ৪২ শতাংশ। মৃত্যুর হিসাবেও তরুণদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তরুণদের বেশি আক্রান্ত হওয়ার জন্য প্রথাগতভাবে বাইরে বেশি থাকাসহ কয়েকটি কারণের কথা উল্লেখ করা হয়ে থাকে।

চাঁদাবাজি বন্ধে বিদ্যমান আইনের দুর্বলতা দূর করতে আইন সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়নের চিন্তা করছে সরকার। এতে চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তি কোনো কারণে মামলা করতে না চাইলেও পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করতে পারবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।