বরগুনার আমতলী: নদী রক্ষার ব্লকে লবণাক্ত বালু

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:২৫:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ বার পঠিত হয়েছে

• দরপত্র অনুযায়ী বালুর এফএম মান ২.০০-এর বেশি থাকার কথা।

• নিম্নমানের বালুতে ব্লকের স্থায়িত্ব কমার আশঙ্কা।

• বালুর মান যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পাউবোর।

বরগুনার আমতলী: নদী রক্ষার ব্লকে লবণাক্ত বালু

ফাইল ছবি

বরগুনার আমতলীতে পায়রা নদীর ভাঙন রোধে ১৩৮ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে ব্লক নির্মাণকাজে লবণাক্ত ও নিম্নমানের বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী বালুর এফএম মান ২.০০-এর বেশি থাকার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁদের আশঙ্কা, নির্ধারিত মানের বালু ব্যবহার না করলে নির্মিত ব্লক দ্রুত ক্ষয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। পরীক্ষায় বালুর মান ঠিক না থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে ব্লক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। চাওড়া ইউনিয়নের বৈঠাকাটা ৪৩/১ এবং আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া ৪৪/বি পোল্ডারে ৪ হাজার ৫০০ মিটার ব্লক নির্মাণে ১৩টি প্যাকেজে কাজ পায় বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত দুই বছরে বেশ কয়েকটি প্যাকেজের কাজ শেষ হয়েছে।

বর্তমানে ৪৩/১ নম্বর পোল্ডারে ৩ ও ৪ নম্বর প্যাকেজে ৬০০ মিটার এবং ৪৪/বি পোল্ডারে ১৪ ও ১৫ নম্বর প্যাকেজে ৬০০ মিটার ব্লক নির্মাণকাজ চলছে। ৩ নম্বর প্যাকেজের দরপত্রের মূল্য ৩৩ কোটি ৮১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৩৫ টাকা, ৪ নম্বর প্যাকেজ দরপত্র ব্যয় ৩৪ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৭ টাকা, ১৪ নম্বর প্যাকেজের দরপত্র মূল্য ৩৪ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৭ এবং ১৫ নম্বর প্যাকেজের দরপত্র মূল্য ৩৪ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৭ টাকা। অর্থাৎ চারটি প্যাকেজ মূল্য ১৩৮ কোটি ৪৮ লাখ ৩২ হাজার ১৭৬ টাকা। ন্যাশন টেক নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই চার প্যাকেজের ব্লক নির্মাণের কাজ পায়।

স্থানীয়রা জানান, দরপত্রে উল্লেখ আছে, ব্লক নির্মাণে সিলেকশন বালু ব্যবহার করতে হবে এবং যার এফএম মান হবে ২.০০-এর ওপরে। অভিযোগ উঠেছে, ওই চার প্যাকেজের ব্লক নির্মাণ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম থেকে লবণ পানির বালু এনে স্তূপ করে রেখেছে। গত বুধবার তাদের লোকজন ওই বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। বিষয়টি পাউবোকে জানালেও তাঁরা অজ্ঞাত কারণে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ওই বালু পরিবর্তন করে সিলেকশন বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণের দাবি তাঁদের।

স্থানীয় বাসিন্দা রহমান মিয়া, হাতেম ও খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের লবণ পানির বালু এনে স্তূপ করে রেখেছে। ওই বালু দিয়ে বুধবার কাজ শুরু করেছে। এ বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করলে টেকসই হবে না। অল্প দিনের মধ্যেই ব্লক ক্ষয় হয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। এতে সরকারের মূল উদ্দেশ্যে ব্যাহত হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট বলেন, ‘পায়রা নদীর ব্লক নির্মাণে ন্যাশন টেক নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যে বালু এনে স্তূপ করে রেখেছে, ওই বালুতে প্রয়োজনীয় এফএম মান নেই। ওই বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করলে বেশি দিন টিকবে না।’

ন্যাশন টেকের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার আবুল খায়ের বলেন, ‘বালুর এফএম মান চেক করে ফিল্ডে নামিয়ে স্তূপ করে রেখেছি।

এ বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করে বুয়েট টেস্ট করা হবে। টেস্টে না টিকলে ব্লক বাতিল করে দেওয়া হবে।’

ন্যাশন টেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার গোলাম ফারুক বলেন, ‘স্তূপ করা বালু দিয়েই ব্লক নির্মাণকাজ শুরু করেছি। এ বালুতে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা হলে ব্লক নির্মাণ শেষে ল্যাব টেস্ট করলেই সমস্যা ধরা পড়বে। সমস্যা ধরা পড়লে ব্লক যথাযথ কর্তৃপক্ষ বাতিল করে দেবে।’

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান বলেন, ‘বালুর এফএম মান ঠিক না থাকলে তা দিয়ে ব্লক নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুকে অটোরিকশার ধাক্কা, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু

রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুকে অটোরিকশার ধাক্কা, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু

জসিম মিয়া স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন। পূজার ছুটিতে মেয়েকে নিয়ে তিনি কাউনিয়া গ্রামে শ্বশুর আজিজ ফরাজীর বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। আজ দুপুরে জসিম মিয়ার মেয়ে এলমা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে চকলেট খাচ্ছিল। এ সময় পেছন দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্বজনেরা

আমাদের মনোনীত প্রার্থী হারলে ওই ইউনিয়নে কোনো কাজ করব না: চিফ হুইপ মনি

আমাদের মনোনীত প্রার্থী হারলে ওই ইউনিয়নে কোনো কাজ করব না: চিফ হুইপ মনি

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী না হলে আপনাদের আলমারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। অন্য কেউ জয়ী হলে আমার কাছে আসতে পারবেন না, আমি কোনো কাজ দেব না। ওই ইউনিয়নের কপাল পুড়বে। দল যাঁকে মনোনয়ন দেবে, তিনি জয়ী না হলে ওই ইউনিয়নে কোনো কাজ হবে না।’

জনপ্রিয় টার্গেট

কক্সবাজারে আগুন: ‘দূরে দাঁড়িয়ে দেখলাম স্বজনেরা পুড়ে মরছেন’

বরগুনার আমতলী: নদী রক্ষার ব্লকে লবণাক্ত বালু

প্রকাশ: ১২:২৫:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

• দরপত্র অনুযায়ী বালুর এফএম মান ২.০০-এর বেশি থাকার কথা।

• নিম্নমানের বালুতে ব্লকের স্থায়িত্ব কমার আশঙ্কা।

• বালুর মান যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পাউবোর।

বরগুনার আমতলী: নদী রক্ষার ব্লকে লবণাক্ত বালু

ফাইল ছবি

বরগুনার আমতলীতে পায়রা নদীর ভাঙন রোধে ১৩৮ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে ব্লক নির্মাণকাজে লবণাক্ত ও নিম্নমানের বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী বালুর এফএম মান ২.০০-এর বেশি থাকার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁদের আশঙ্কা, নির্ধারিত মানের বালু ব্যবহার না করলে নির্মিত ব্লক দ্রুত ক্ষয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। পরীক্ষায় বালুর মান ঠিক না থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে ব্লক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। চাওড়া ইউনিয়নের বৈঠাকাটা ৪৩/১ এবং আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া ৪৪/বি পোল্ডারে ৪ হাজার ৫০০ মিটার ব্লক নির্মাণে ১৩টি প্যাকেজে কাজ পায় বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত দুই বছরে বেশ কয়েকটি প্যাকেজের কাজ শেষ হয়েছে।

বর্তমানে ৪৩/১ নম্বর পোল্ডারে ৩ ও ৪ নম্বর প্যাকেজে ৬০০ মিটার এবং ৪৪/বি পোল্ডারে ১৪ ও ১৫ নম্বর প্যাকেজে ৬০০ মিটার ব্লক নির্মাণকাজ চলছে। ৩ নম্বর প্যাকেজের দরপত্রের মূল্য ৩৩ কোটি ৮১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৩৫ টাকা, ৪ নম্বর প্যাকেজ দরপত্র ব্যয় ৩৪ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৭ টাকা, ১৪ নম্বর প্যাকেজের দরপত্র মূল্য ৩৪ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৭ এবং ১৫ নম্বর প্যাকেজের দরপত্র মূল্য ৩৪ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৭ টাকা। অর্থাৎ চারটি প্যাকেজ মূল্য ১৩৮ কোটি ৪৮ লাখ ৩২ হাজার ১৭৬ টাকা। ন্যাশন টেক নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই চার প্যাকেজের ব্লক নির্মাণের কাজ পায়।

স্থানীয়রা জানান, দরপত্রে উল্লেখ আছে, ব্লক নির্মাণে সিলেকশন বালু ব্যবহার করতে হবে এবং যার এফএম মান হবে ২.০০-এর ওপরে। অভিযোগ উঠেছে, ওই চার প্যাকেজের ব্লক নির্মাণ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম থেকে লবণ পানির বালু এনে স্তূপ করে রেখেছে। গত বুধবার তাদের লোকজন ওই বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। বিষয়টি পাউবোকে জানালেও তাঁরা অজ্ঞাত কারণে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ওই বালু পরিবর্তন করে সিলেকশন বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণের দাবি তাঁদের।

স্থানীয় বাসিন্দা রহমান মিয়া, হাতেম ও খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের লবণ পানির বালু এনে স্তূপ করে রেখেছে। ওই বালু দিয়ে বুধবার কাজ শুরু করেছে। এ বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করলে টেকসই হবে না। অল্প দিনের মধ্যেই ব্লক ক্ষয় হয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। এতে সরকারের মূল উদ্দেশ্যে ব্যাহত হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট বলেন, ‘পায়রা নদীর ব্লক নির্মাণে ন্যাশন টেক নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যে বালু এনে স্তূপ করে রেখেছে, ওই বালুতে প্রয়োজনীয় এফএম মান নেই। ওই বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করলে বেশি দিন টিকবে না।’

ন্যাশন টেকের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার আবুল খায়ের বলেন, ‘বালুর এফএম মান চেক করে ফিল্ডে নামিয়ে স্তূপ করে রেখেছি।

এ বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করে বুয়েট টেস্ট করা হবে। টেস্টে না টিকলে ব্লক বাতিল করে দেওয়া হবে।’

ন্যাশন টেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার গোলাম ফারুক বলেন, ‘স্তূপ করা বালু দিয়েই ব্লক নির্মাণকাজ শুরু করেছি। এ বালুতে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা হলে ব্লক নির্মাণ শেষে ল্যাব টেস্ট করলেই সমস্যা ধরা পড়বে। সমস্যা ধরা পড়লে ব্লক যথাযথ কর্তৃপক্ষ বাতিল করে দেবে।’

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান বলেন, ‘বালুর এফএম মান ঠিক না থাকলে তা দিয়ে ব্লক নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুকে অটোরিকশার ধাক্কা, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু

রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুকে অটোরিকশার ধাক্কা, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু

জসিম মিয়া স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন। পূজার ছুটিতে মেয়েকে নিয়ে তিনি কাউনিয়া গ্রামে শ্বশুর আজিজ ফরাজীর বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। আজ দুপুরে জসিম মিয়ার মেয়ে এলমা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে চকলেট খাচ্ছিল। এ সময় পেছন দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্বজনেরা

আমাদের মনোনীত প্রার্থী হারলে ওই ইউনিয়নে কোনো কাজ করব না: চিফ হুইপ মনি

আমাদের মনোনীত প্রার্থী হারলে ওই ইউনিয়নে কোনো কাজ করব না: চিফ হুইপ মনি

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী না হলে আপনাদের আলমারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। অন্য কেউ জয়ী হলে আমার কাছে আসতে পারবেন না, আমি কোনো কাজ দেব না। ওই ইউনিয়নের কপাল পুড়বে। দল যাঁকে মনোনয়ন দেবে, তিনি জয়ী না হলে ওই ইউনিয়নে কোনো কাজ হবে না।’