ঘটনাটি নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নার্সের নাম শাহানাজ পারভিন। অভিযুক্ত দুই নার্স হলেন শিল্পী আক্তার ও তাঁর বোন লিপি আক্তার। তাঁরা দুজনই ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মাসের শুরুতে নাইট ডিউটির রোস্টার নিয়ে শাহানাজ পারভিন ও শিল্পী আক্তারের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে ঘটনার দিন শিল্পীর বোন লিপি বাসা থেকে হাসপাতালে আসেন। পরে জরুরি বিভাগের পাশে দায়িত্ব পালনরত শাহানাজকে দুই বোন মিলে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। শাহানাজের চিৎকার শুনে অন্যরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী শাহানাজ পারভিন বলেন, ‘নাইট ডিউটি আগে করা নিয়ে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর লিপি বাসা থেকে এসে বোনের পক্ষ নিয়ে দুজন মিলে আমাকে মারধর করে। একসঙ্গে কাজ করলে কথা-কাটাকাটি হতেই পারে। তাই বলে আমাকে এভাবে মারধর করবে, তা স্বপ্নেও ভাবিনি। আমার চোখ-মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিল্পী ও লিপি আক্তার। তাঁদের দাবি, শাহানাজ প্রায়ই তাঁদের কটাক্ষ করে কথা বলেন এবং গালাগাল করেন। ঘটনার দিন ডিউটির রোস্টার নিয়ে শিল্পীকে কটাক্ষ করায় তাঁরা এর কারণ জানতে গিয়েছিলেন। এ সময় শাহানাজই তাঁদের ওপর আক্রমণ করেন। তাঁদের আরও অভিযোগ, শিল্পীর হাত থেকে এক ভরি ওজনের দুটি সোনার বালা এবং লিপির আট আনা ওজনের একটি সোনার চেইন ছিনিয়ে নিয়েছেন শাহানাজ। এ ঘটনায় তাঁরাও থানায় অভিযোগ করেছেন। আদালতের মাধ্যমে এর বিচার হবে বলে জানান তাঁরা।
ঘটনার সময় দায়িত্বে ছিলেন নার্স শিরিন আক্তার। তবে তাঁর দাবি, মারামারির সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। পরে বিষয়টি শুনেছেন। এমন ঘটনায় হাসপাতালের সবাই বিব্রত। তাঁরা এ ঘটনার নিন্দা জানান।
বদলগাছী থানার পরিদর্শক (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আসাদুজ্জামান নাহিদ বলেন, ‘এ ঘটনায় আমাকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন তৈরি করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানা বলেন, বিষয়টি তিনি পরে জেনেছেন। এ ঘটনায় হাসপাতালের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আসাদুজ্জামান নাহিদকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দৈনিক টার্গেট 





















