জাবির বি ইউনিটে আইন এবং সমাজবিজ্ঞান অনুষদ এবং সি ইউনিটে কলা ও মানবিক অনুষদ এবং তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট। বিগত সালে সি ইউনিটে আইন বিভাগ অন্তর্ভুক্ত থাকলেও এবার বি ইউনিটে আইন বিভাগ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বি ও সি ইউনিটে ৯০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। ১০ নম্বর যুক্ত হবে এসএসসি ও এইচএসসির ফল থেকে। ভর্তি পরীক্ষায় ৮০টি প্রশ্ন থাকবে। মোট ৬০ মিনিট সময় পাওয়া যাবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১.১২৫, ভুল উত্তরের জন্য ০.২০ নম্বর কাটা যাবে। সেকেন্ড টাইমারদের কোনো নম্বর কাটা যাবে না।
সি ইউনিটে কলা অনুষদভুক্ত বিষয়গুলো রয়েছে। এতে বাংলায় ২০, ইংরেজিতে ২০ এবং সাধারণ জ্ঞান ও বিভাগসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ৪০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। এখানে বাংলা ও ইংরেজির জন্য বি ইউনিটের পরামর্শগুলো অনুসরণ করলেই হবে। ইংরেজির ক্ষেত্রে এনালজিও আসে। তাই এটা একটু গুরুত্বসহকারে পড়তে হবে। এখানে পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে বিভাগসংশ্লিষ্ট বিষয় বুঝতে। এতে ইতিহাস, দর্শন, প্রত্নতত্ত্ব, সাংবাদিকতা, বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, তুলনামূলক সাহিত্যতত্ত্ব থেকে বিভাগ আকারে প্রশ্ন আসে। সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নগুলো ইংরেজিতে করা হয়। ইংরেজিতে প্রশ্ন বোঝার জন্য প্রশ্নব্যাংক দেখে বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত শিফটভিত্তিক পরীক্ষা হয় এবং ছেলেমেয়েদের আলাদা পরীক্ষা হয়। শিফটভিত্তিক প্রশ্নও আলাদা করা হয়। এ জন্য একেক শিফটের প্রশ্ন একেক শিফট থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়। তা ছাড়া, এবার বি ইউনিটে আইন অনুষদের পরীক্ষা হওয়ায় এর গুরুত্ব ব্যাপক।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করতে হলে স্মার্ট প্রস্তুতির পাশাপাশি পরীক্ষার হলে মাথা ঠান্ডা রাখাও জরুরি। কোনো একটি বইয়ের ওপর নির্ভর না করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বেছে পড়তে হবে। প্রশ্নব্যাংক সমাধান ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোন বিশ্ববিদ্যালয় কোন বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, তা বুঝে সংশ্লিষ্ট টপিকগুলো বারবার ঝালাই করতে হবে। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে জানতে নিয়মিত জাতীয় দৈনিক পড়তে হবে।
বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খবর ও নিবন্ধের শিরোনাম দেখে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বিস্তারিত পড়া যেতে পারে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিয়মিত মডেল টেস্ট দিতে হবে। এতে ভুল চিহ্নিত করার পাশাপাশি সময় ব্যবস্থাপনা ও নির্ভুলভাবে উত্তর দেওয়ার দক্ষতা বাড়বে। উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে নেতিবাচক নম্বর হারাতে না হয়। মনে রাখতে হবে, ভর্তি পরীক্ষায় সফলতাই জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। এটি জীবনের নতুন একটি অধ্যায়ের শুরু। তাই হতাশ না হয়ে সঠিক পরিকল্পনা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

দৈনিক টার্গেট 



























