কোন ডিম বেশি পুষ্টিকর: বাদামি নাকি সাদা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৩:১২:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬৯ বার পঠিত হয়েছে

ডিমের খোসার রং কী হবে, তা মূলত নির্ধারিত হয় মুরগির জাত বা বংশগতির ওপর। হোয়াইট লেগহর্ন, হোয়াইট রক ও কর্নিশ জাতের মুরগি সাধারণত সাদা ডিম পাড়ে। আর প্লাইমাউথ রক, নিউ হ্যাম্পশায়ার এবং রোড আইল্যান্ড রেড জাতের মুরগি থেকে বাদামি ডিম পাওয়া যায়। আবার দক্ষিণ আমেরিকার অ্যারোকানা, আমেরিকানা, ডংক্সিয়াং এবং লুসি জাতের মুরগি নীল বা নীলচে-সবুজ রঙের ডিম পাড়ে। মুরগির শরীরে উৎপন্ন নিজস্ব রঞ্জক পদার্থের কারণে ডিমের রঙের এই ভিন্নতা তৈরি হয়। বাদামি ডিমের প্রধান রঞ্জক হলো প্রোটোপোরফাইরিন নাইন। এটি রক্তের লাল উপাদানের হিম থেকে তৈরি হয়। আর নীল ডিমের ক্ষেত্রে প্রধান রঞ্জক হলো বিলিভার্ডিন। ২০১৫ সালের একটি গবেষণা নিবন্ধে দেখা গেছে, একই জাতের মুরগি হওয়া সত্ত্বেও সেগুলোর বয়স, রোগ, মুক্ত পরিবেশ এবং ভয়ের ওপর নির্ভর করে বাদামি ডিমের রং কিছুটা হালকা বা গাঢ় হতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ডিমের খোসার রং বাদামি বা সাদা যা-ই হোক, তাদের মূল পুষ্টিগুণে কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকে না। অনেক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, খোসার রং ডিমের গুণগত মানকে প্রভাবিত করে না। একটি মাঝারি আকৃতির ডিমে প্রায় ৬০ ক্যালরি ও ৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে এবং একটি জাম্বো আকারের ডিমে ৯০ ক্যালরি ও ৮ গ্রাম প্রোটিন থাকে। এ ছাড়া নীল ডিমের ক্ষেত্রে কোলেস্টেরল কম থাকার যে দাবি করা হয়, তার পক্ষেও কোনো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি। স্বাদের ক্ষেত্রেও রং কোনো ভূমিকা রাখে না। ডিমের স্বাদ নির্ভর করে ডিমের সতেজতা, মুরগির খাদ্যতালিকা এবং রান্নার পদ্ধতির ওপর।

ডিমের পুষ্টিগুণ মূলত নির্ভর করে মুরগির খাদ্য এবং তার বসবাসের পরিবেশের ওপর। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মুরগি উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে সূর্যালোক এবং খোলা বাতাসে ঘুরে বেড়ায়, তাদের ডিমে প্রচলিতভাবে খাঁচায় লালিত মুরগির ডিমের তুলনায় ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি ভিটামিন ডি থাকে। মুরগিকে যদি ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার (যেমন ফ্ল্যাক্সসিড বা ওমেগা-৩ যুক্ত বিশেষ ফিড) বা ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার দেওয়া হয়, তবে তাদের ডিমের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিনের পরিমাণ বহু গুণে বেড়ে যায়। ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ডিম নিয়মিত খেলে রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

অতীতে বাদামি ডিম পাড়া মুরগিগুলো আকারে বড় হতো, তারা সাদা মুরগির তুলনায় বেশি খাবার খেত এবং অপেক্ষাকৃত কম ডিম দিত। ফলে উৎপাদন খরচ তোলার জন্য খামারিরা বাদামি ডিমের দাম বেশি রাখতেন। বর্তমানে উৎপাদন খরচ প্রায় সমান হলেও সাধারণ মানুষের ‘বাদামি ডিম মানেই বেশি পুষ্টিকর’ এমন ধারণা কাজে লাগিয়ে এবং অরগানিক বা ফ্রি-রেঞ্জ ডিমগুলো সাধারণত বাদামি হওয়ায় বাজারে এর দাম এখনো কিছুটা বেশি রাখা হয়।

ডিমের খোসার রং শুধুই একটি বাহ্যিক আবরণ। লাল, সাদা বা সবুজ—যে রঙেরই হোক, ডিম মূলত মুরগির খাদ্য ও পরিচর্যার ওপর ভিত্তি করেই পুষ্টিকর হয়ে ওঠে। তাই রঙের মোহে না পড়ে সঠিক পুষ্টিমান ও সতেজতা দেখেই ডিম নির্বাচন করা বুদ্ধিমানের কাজ। ডিম কেনার সময় খোসার রঙের চেয়ে অন্য কিছু বিষয়ের দিকে নজর দেওয়া বেশি জরুরি।

সতেজতা ও তাপমাত্রা: সব সময় রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষিত এবং পরিষ্কার, ভাঙাহীন খোসার ডিম কিনুন।

অরগানিক: যে মুরগিগুলোকে অ্যান্টিবায়োটিক বা হরমোন ছাড়া সম্পূর্ণ অরগানিক খাবার দেওয়া হয় এবং বাইরে ঘোরার সুযোগ দেওয়া হয়।

ফ্রি-রেঞ্জ ও কেজ-ফ্রি: উন্মুক্ত স্থানে ঘুরে বেড়ানো মুরগির ডিম ভিটামিন ডি-তে সমৃদ্ধ হয়।

মেয়াদ ও মান: প্যাকেটের গায়ে লেখা মেয়াদ ও মান বজায় রাখার আন্তর্জাতিক গ্রেড দেখে কেনা উচিত।

সূত্র: হেলথ লাইন, মেডিকেল নিউজ টুডে

ডিমের পুষ্টিগুণ মূলত নির্ভর করে মুরগির খাদ্য এবং তার বসবাসের পরিবেশের ওপর। ছবি: পেক্সেলস

বাড়িতে অতিথি এলে বা জন্মদিনের আয়োজনে আমাদের দেশে মিষ্টি বা পায়েস খাওয়ানোর চল বেশ পুরোনো। পরিচিত স্বাদের বাইরে নতুন কিছু দিয়ে অতিথিদের চমকে দিতে চাইলে ঘরেই তৈরি করে ফেলতে পারেন ব্রাজিলের জনপ্রিয় মিষ্টি ব্রিগাদেইরো। চকলেটে দিয়ে তৈরি এই মিষ্টি ব্রাজিলে বিভিন্ন উৎসব ও অনুষ্ঠানের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার…

একসময় ইরাক মানেই ছিল যুদ্ধ, ধ্বংস আর নিরাপত্তাহীনতার ছবি। কিন্তু ২০২৫-২৬ সালে দেশটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক পর্যটনভূমি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। শিয়া মুসলিমদের কারবালা ও নাজাফের পাশাপাশি খ্রিষ্টান তীর্থযাত্রীদের জন্যও ইরাক নতুন করে নিজেকে তুলে ধরছে। ইরাকের সবচেয়ে প্রতীকী…

উনিশ শতকের সেই অদ্ভুত ও কিছুটা বিকৃত কৌতূহল কিন্তু ইতিহাস থেকে মুছে যায়নি। আধুনিক যুগে এসে সেই আগ্রহই জন্ম দিয়েছে এক নতুন আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ধারা, যাকে বলা হচ্ছে ডার্ক ট্যুরিজম। অ্যাডভেঞ্চার ও থ্রিল-সন্ধানী একদল ভিন্নধর্মী পর্যটক এখন আর সমুদ্রসৈকত বা কোনো বিখ্যাত শহরের রাস্তায় ঘোরে না। তাদের…

জনপ্রিয় টার্গেট

পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে ৯ মাসের শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুই কমিটি

কোন ডিম বেশি পুষ্টিকর: বাদামি নাকি সাদা

প্রকাশ: ০৩:১২:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিমের খোসার রং কী হবে, তা মূলত নির্ধারিত হয় মুরগির জাত বা বংশগতির ওপর। হোয়াইট লেগহর্ন, হোয়াইট রক ও কর্নিশ জাতের মুরগি সাধারণত সাদা ডিম পাড়ে। আর প্লাইমাউথ রক, নিউ হ্যাম্পশায়ার এবং রোড আইল্যান্ড রেড জাতের মুরগি থেকে বাদামি ডিম পাওয়া যায়। আবার দক্ষিণ আমেরিকার অ্যারোকানা, আমেরিকানা, ডংক্সিয়াং এবং লুসি জাতের মুরগি নীল বা নীলচে-সবুজ রঙের ডিম পাড়ে। মুরগির শরীরে উৎপন্ন নিজস্ব রঞ্জক পদার্থের কারণে ডিমের রঙের এই ভিন্নতা তৈরি হয়। বাদামি ডিমের প্রধান রঞ্জক হলো প্রোটোপোরফাইরিন নাইন। এটি রক্তের লাল উপাদানের হিম থেকে তৈরি হয়। আর নীল ডিমের ক্ষেত্রে প্রধান রঞ্জক হলো বিলিভার্ডিন। ২০১৫ সালের একটি গবেষণা নিবন্ধে দেখা গেছে, একই জাতের মুরগি হওয়া সত্ত্বেও সেগুলোর বয়স, রোগ, মুক্ত পরিবেশ এবং ভয়ের ওপর নির্ভর করে বাদামি ডিমের রং কিছুটা হালকা বা গাঢ় হতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ডিমের খোসার রং বাদামি বা সাদা যা-ই হোক, তাদের মূল পুষ্টিগুণে কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকে না। অনেক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, খোসার রং ডিমের গুণগত মানকে প্রভাবিত করে না। একটি মাঝারি আকৃতির ডিমে প্রায় ৬০ ক্যালরি ও ৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে এবং একটি জাম্বো আকারের ডিমে ৯০ ক্যালরি ও ৮ গ্রাম প্রোটিন থাকে। এ ছাড়া নীল ডিমের ক্ষেত্রে কোলেস্টেরল কম থাকার যে দাবি করা হয়, তার পক্ষেও কোনো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি। স্বাদের ক্ষেত্রেও রং কোনো ভূমিকা রাখে না। ডিমের স্বাদ নির্ভর করে ডিমের সতেজতা, মুরগির খাদ্যতালিকা এবং রান্নার পদ্ধতির ওপর।

ডিমের পুষ্টিগুণ মূলত নির্ভর করে মুরগির খাদ্য এবং তার বসবাসের পরিবেশের ওপর। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মুরগি উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে সূর্যালোক এবং খোলা বাতাসে ঘুরে বেড়ায়, তাদের ডিমে প্রচলিতভাবে খাঁচায় লালিত মুরগির ডিমের তুলনায় ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি ভিটামিন ডি থাকে। মুরগিকে যদি ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার (যেমন ফ্ল্যাক্সসিড বা ওমেগা-৩ যুক্ত বিশেষ ফিড) বা ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার দেওয়া হয়, তবে তাদের ডিমের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিনের পরিমাণ বহু গুণে বেড়ে যায়। ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ডিম নিয়মিত খেলে রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

অতীতে বাদামি ডিম পাড়া মুরগিগুলো আকারে বড় হতো, তারা সাদা মুরগির তুলনায় বেশি খাবার খেত এবং অপেক্ষাকৃত কম ডিম দিত। ফলে উৎপাদন খরচ তোলার জন্য খামারিরা বাদামি ডিমের দাম বেশি রাখতেন। বর্তমানে উৎপাদন খরচ প্রায় সমান হলেও সাধারণ মানুষের ‘বাদামি ডিম মানেই বেশি পুষ্টিকর’ এমন ধারণা কাজে লাগিয়ে এবং অরগানিক বা ফ্রি-রেঞ্জ ডিমগুলো সাধারণত বাদামি হওয়ায় বাজারে এর দাম এখনো কিছুটা বেশি রাখা হয়।

ডিমের খোসার রং শুধুই একটি বাহ্যিক আবরণ। লাল, সাদা বা সবুজ—যে রঙেরই হোক, ডিম মূলত মুরগির খাদ্য ও পরিচর্যার ওপর ভিত্তি করেই পুষ্টিকর হয়ে ওঠে। তাই রঙের মোহে না পড়ে সঠিক পুষ্টিমান ও সতেজতা দেখেই ডিম নির্বাচন করা বুদ্ধিমানের কাজ। ডিম কেনার সময় খোসার রঙের চেয়ে অন্য কিছু বিষয়ের দিকে নজর দেওয়া বেশি জরুরি।

সতেজতা ও তাপমাত্রা: সব সময় রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষিত এবং পরিষ্কার, ভাঙাহীন খোসার ডিম কিনুন।

অরগানিক: যে মুরগিগুলোকে অ্যান্টিবায়োটিক বা হরমোন ছাড়া সম্পূর্ণ অরগানিক খাবার দেওয়া হয় এবং বাইরে ঘোরার সুযোগ দেওয়া হয়।

ফ্রি-রেঞ্জ ও কেজ-ফ্রি: উন্মুক্ত স্থানে ঘুরে বেড়ানো মুরগির ডিম ভিটামিন ডি-তে সমৃদ্ধ হয়।

মেয়াদ ও মান: প্যাকেটের গায়ে লেখা মেয়াদ ও মান বজায় রাখার আন্তর্জাতিক গ্রেড দেখে কেনা উচিত।

সূত্র: হেলথ লাইন, মেডিকেল নিউজ টুডে

ডিমের পুষ্টিগুণ মূলত নির্ভর করে মুরগির খাদ্য এবং তার বসবাসের পরিবেশের ওপর। ছবি: পেক্সেলস

বাড়িতে অতিথি এলে বা জন্মদিনের আয়োজনে আমাদের দেশে মিষ্টি বা পায়েস খাওয়ানোর চল বেশ পুরোনো। পরিচিত স্বাদের বাইরে নতুন কিছু দিয়ে অতিথিদের চমকে দিতে চাইলে ঘরেই তৈরি করে ফেলতে পারেন ব্রাজিলের জনপ্রিয় মিষ্টি ব্রিগাদেইরো। চকলেটে দিয়ে তৈরি এই মিষ্টি ব্রাজিলে বিভিন্ন উৎসব ও অনুষ্ঠানের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার…

একসময় ইরাক মানেই ছিল যুদ্ধ, ধ্বংস আর নিরাপত্তাহীনতার ছবি। কিন্তু ২০২৫-২৬ সালে দেশটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক পর্যটনভূমি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। শিয়া মুসলিমদের কারবালা ও নাজাফের পাশাপাশি খ্রিষ্টান তীর্থযাত্রীদের জন্যও ইরাক নতুন করে নিজেকে তুলে ধরছে। ইরাকের সবচেয়ে প্রতীকী…

উনিশ শতকের সেই অদ্ভুত ও কিছুটা বিকৃত কৌতূহল কিন্তু ইতিহাস থেকে মুছে যায়নি। আধুনিক যুগে এসে সেই আগ্রহই জন্ম দিয়েছে এক নতুন আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ধারা, যাকে বলা হচ্ছে ডার্ক ট্যুরিজম। অ্যাডভেঞ্চার ও থ্রিল-সন্ধানী একদল ভিন্নধর্মী পর্যটক এখন আর সমুদ্রসৈকত বা কোনো বিখ্যাত শহরের রাস্তায় ঘোরে না। তাদের…