ঘুমের নতুন পদ্ধতি ‘স্ক্যান্ডিনেভিয়ান স্লিপ মেথড’, কতটা কার্যকর জেনে নিন

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৫:৩২:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৬ বার পঠিত হয়েছে

ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেনসহ স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে এ ধরনের ঘুমের ব্যবস্থা বেশ পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এটি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। তবে এটি নতুন কোনো ট্রেন্ড নয়, ঘুমের সময় দুজনের আলাদা প্রয়োজন ও আরামকে গুরুত্ব দেওয়াই এই পদ্ধতির মূলকথা।

সহজভাবে বললে, স্বামী-স্ত্রী একই বিছানায় ঘুমাবেন, কিন্তু একই চাদর, কাঁথা বা কম্বল ব্যবহার করবেন না। বিছানায় একটি ফিটেড শিট ব্যবহার করে তার ওপর দুজনের জন্য দুটি আলাদা কম্বল রাখা হয়। চাইলে নিজের পছন্দ অনুযায়ী বালিশও ব্যবহার করা যায়। ফলে একজন যদি রাতে কম্বল নিজের দিকে টেনে নেন, অন্যজনকে ঠান্ডায় থাকতে হয় না। আবার একজনের বেশি গরম লাগলে তিনি কম্বল সরিয়ে ফেলতে পারেন, অন্যজন নিজের কম্বল দিয়ে আরামে ঘুমাতে পারেন। শুনতে ছোট বিষয় মনে হলেও রাতে ভালো ঘুমের জন্য এর গুরুত্ব অনেক।

দম্পতিদের মধ্যে রাতে কম্বল নিয়ে টানাটানি খুব সাধারণ ঘটনা। একজন ঘুমের মধ্যে কম্বল নিজের দিকে টেনে নেন, এতে অন্যজনের ঘুম ভেঙে যায়। কখনো একজন পুরো শরীর কম্বলে ঢেকে ফেলেন, তাতে অন্যজনের শরীরে কম্বল থাকে না। এই ছোটখাটো বিষয়গুলো রাতের ঘুমে বারবার ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। আলাদা কম্বল ব্যবহার করলে এই সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। প্রত্যেকে নিজের কম্বল নিজের মতো করে ব্যবহার করতে পারেন। কেউ চাইলে কম্বল গায়ে জড়িয়ে ঘুমাতে পারেন, আবার কেউ চাইলে কম্বল সরিয়ে রাখতে পারেন। ফলে রাতে দুজনের ঘুম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও কমে।

একজনের ঘুমানোর সময় খুব গরম লাগে, অন্যজনের আবার ঠান্ডা লাগে—দম্পতিদের মধ্যে এটিও খুব স্বাভাবিক। একই কম্বল ব্যবহার করলে তখন একজনকে নিজের আরাম বিসর্জন দিতে হয়। একজন হয়তো কম্বল সরিয়ে রাখতে চান, অন্যজন আবার কম্বল টেনে নিতে চান। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান স্লিপ মেথডে প্রত্যেকে নিজের পছন্দের কম্বল বেছে নিতে পারেন। কারও প্রয়োজন হতে পারে পাতলা কম্বল, আবার কারও প্রয়োজন হতে পারে মোটা ডুভেট। অর্থাৎ একই বিছানায় থেকেও দুজন নিজেদের ঘুমের পরিবেশ নিজেদের মতো করে তৈরি করতে পারেন।

সব দম্পতির জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কারও ক্ষেত্রে পাশাপাশি ঘুমানো সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়, আবার কারও ক্ষেত্রে সঙ্গীর কারণে ঘুম নিয়মিত নষ্ট হতে পারে। যদি একজনের নাক ডাকার কারণে অন্যজন প্রতিদিন ঘুমাতে না পারেন, অথবা একজনের নড়াচড়ার কারণে অন্যজনের ঘুম বারবার ভেঙে যায়, তাহলে আলাদা বিছানা বা আলাদা ঘর নিয়ে ভাবা যেতে পারে। তবে এর মানে এই নয় যে সম্পর্কে ভালোবাসা কমে গেছে। অনেক সময় সমাজে একটি ধারণা তৈরি হয়—স্বামী-স্ত্রী আলাদা বিছানায় ঘুমালে বুঝি তাঁদের সম্পর্ক ভালো থাকে না। কিন্তু বাস্তবে ঘুমানোর ব্যবস্থা ব্যক্তিগত বিষয়। কোন ব্যবস্থা দুজনের জন্য ভালো, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

ভালো ঘুম শুধু শরীরের জন্য নয়, দাম্পত্য সম্পর্কের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মানুষ বেশি বিরক্ত হতে পারে, ধৈর্য কমে যেতে পারে এবং যোগাযোগের দক্ষতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে ছোট একটি বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া তৈরি হতে পারে। একজন ভালোভাবে ঘুমাতে না পারলে পরদিন তাঁর মেজাজ খারাপ থাকতে পারে। দিনের পর দিন এমন চলতে থাকলে সম্পর্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই ‘একই বিছানায় ঘুমাতেই হবে’—এই সামাজিক ধারণার চেয়ে দুজনের ভালো ঘুম নিশ্চিত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান স্লিপ মেথডের মূল শিক্ষা খুব সহজ—একসঙ্গে থাকা মানেই সবকিছু একইভাবে করতে হবে না। একই বিছানায় থেকেও দুজনের আলাদা কম্বল থাকতে পারে। একজনের ঠান্ডা লাগলেও অন্যজনের গরম লাগতে পারে। একজন বেশি জায়গা নিয়ে ঘুমাতে চাইতে পারেন, অন্যজন একটু গুটিয়ে থাকতে পারেন। দাম্পত্যজীবনে এসব পার্থক্য স্বাভাবিক; বরং একে অপরের প্রয়োজনকে সম্মান করে ছোট ছোট সমাধান খুঁজে নেওয়াই সম্পর্ককে আরও আরামদায়ক করতে পারে।

পায়েস, ক্ষীর বা ফিরনি তৈরিতে দুধের ব্যবহার আমাদের দেশে বেশ পরিচিত। তবে সেই পরিচিত দুধ দিয়ে তৈরি করা যায় ভিন্ন স্বাদের এক মিষ্টি পদ। এমনই একটি মজার পদ হলো স্পেনের ঐতিহ্যবাহী ল্যাচে ফ্রিতা। এর বাংলা অর্থ ভাজা দুধ। মচমচে আর ভেতরে নরম ও ক্রিমি বিদেশি স্বাদের এই মিষ্টি খাবার হতে পারে আপনার বিকেল বা…

প্রাচীন আয়ুর্বেদে নাভিতে ঘি মাখার উপকারিতার কথা বলা রয়েছে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ঘিকে বলা হয় ‘অমৃত’। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে, নাভি আমাদের শরীরের শক্তি ও প্রাণের কেন্দ্রবিন্দু। তাই প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিতে নাভিতে ঘি দেওয়াকে শরীর নিরাময়ের এক শক্তিশালী মাধ্যম মনে করা হয়। আয়ুর্বেদ মতে, ঘিয়ের পুষ্টিকর উপাদান…

চলতি সময়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে টাইপ সি প্যারেন্টিং। এই পদ্ধতিতে সন্তানের আবেগপ্রবণ বুদ্ধিমত্তা এবং মানসিক সুস্থতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে অভিভাবকেরা সন্তানের ওপর নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার বদলে তাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা এবং আবেগ প্রকাশ করতে উৎসাহিত করেন। এই প্যারেন্টিংয়ের নাম যেহেতু…

জনপ্রিয় টার্গেট

ঘুমের নতুন পদ্ধতি ‘স্ক্যান্ডিনেভিয়ান স্লিপ মেথড’, কতটা কার্যকর জেনে নিন

প্রকাশ: ০৫:৩২:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেনসহ স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে এ ধরনের ঘুমের ব্যবস্থা বেশ পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এটি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। তবে এটি নতুন কোনো ট্রেন্ড নয়, ঘুমের সময় দুজনের আলাদা প্রয়োজন ও আরামকে গুরুত্ব দেওয়াই এই পদ্ধতির মূলকথা।

সহজভাবে বললে, স্বামী-স্ত্রী একই বিছানায় ঘুমাবেন, কিন্তু একই চাদর, কাঁথা বা কম্বল ব্যবহার করবেন না। বিছানায় একটি ফিটেড শিট ব্যবহার করে তার ওপর দুজনের জন্য দুটি আলাদা কম্বল রাখা হয়। চাইলে নিজের পছন্দ অনুযায়ী বালিশও ব্যবহার করা যায়। ফলে একজন যদি রাতে কম্বল নিজের দিকে টেনে নেন, অন্যজনকে ঠান্ডায় থাকতে হয় না। আবার একজনের বেশি গরম লাগলে তিনি কম্বল সরিয়ে ফেলতে পারেন, অন্যজন নিজের কম্বল দিয়ে আরামে ঘুমাতে পারেন। শুনতে ছোট বিষয় মনে হলেও রাতে ভালো ঘুমের জন্য এর গুরুত্ব অনেক।

দম্পতিদের মধ্যে রাতে কম্বল নিয়ে টানাটানি খুব সাধারণ ঘটনা। একজন ঘুমের মধ্যে কম্বল নিজের দিকে টেনে নেন, এতে অন্যজনের ঘুম ভেঙে যায়। কখনো একজন পুরো শরীর কম্বলে ঢেকে ফেলেন, তাতে অন্যজনের শরীরে কম্বল থাকে না। এই ছোটখাটো বিষয়গুলো রাতের ঘুমে বারবার ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। আলাদা কম্বল ব্যবহার করলে এই সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। প্রত্যেকে নিজের কম্বল নিজের মতো করে ব্যবহার করতে পারেন। কেউ চাইলে কম্বল গায়ে জড়িয়ে ঘুমাতে পারেন, আবার কেউ চাইলে কম্বল সরিয়ে রাখতে পারেন। ফলে রাতে দুজনের ঘুম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও কমে।

একজনের ঘুমানোর সময় খুব গরম লাগে, অন্যজনের আবার ঠান্ডা লাগে—দম্পতিদের মধ্যে এটিও খুব স্বাভাবিক। একই কম্বল ব্যবহার করলে তখন একজনকে নিজের আরাম বিসর্জন দিতে হয়। একজন হয়তো কম্বল সরিয়ে রাখতে চান, অন্যজন আবার কম্বল টেনে নিতে চান। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান স্লিপ মেথডে প্রত্যেকে নিজের পছন্দের কম্বল বেছে নিতে পারেন। কারও প্রয়োজন হতে পারে পাতলা কম্বল, আবার কারও প্রয়োজন হতে পারে মোটা ডুভেট। অর্থাৎ একই বিছানায় থেকেও দুজন নিজেদের ঘুমের পরিবেশ নিজেদের মতো করে তৈরি করতে পারেন।

সব দম্পতির জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কারও ক্ষেত্রে পাশাপাশি ঘুমানো সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়, আবার কারও ক্ষেত্রে সঙ্গীর কারণে ঘুম নিয়মিত নষ্ট হতে পারে। যদি একজনের নাক ডাকার কারণে অন্যজন প্রতিদিন ঘুমাতে না পারেন, অথবা একজনের নড়াচড়ার কারণে অন্যজনের ঘুম বারবার ভেঙে যায়, তাহলে আলাদা বিছানা বা আলাদা ঘর নিয়ে ভাবা যেতে পারে। তবে এর মানে এই নয় যে সম্পর্কে ভালোবাসা কমে গেছে। অনেক সময় সমাজে একটি ধারণা তৈরি হয়—স্বামী-স্ত্রী আলাদা বিছানায় ঘুমালে বুঝি তাঁদের সম্পর্ক ভালো থাকে না। কিন্তু বাস্তবে ঘুমানোর ব্যবস্থা ব্যক্তিগত বিষয়। কোন ব্যবস্থা দুজনের জন্য ভালো, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

ভালো ঘুম শুধু শরীরের জন্য নয়, দাম্পত্য সম্পর্কের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মানুষ বেশি বিরক্ত হতে পারে, ধৈর্য কমে যেতে পারে এবং যোগাযোগের দক্ষতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে ছোট একটি বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া তৈরি হতে পারে। একজন ভালোভাবে ঘুমাতে না পারলে পরদিন তাঁর মেজাজ খারাপ থাকতে পারে। দিনের পর দিন এমন চলতে থাকলে সম্পর্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই ‘একই বিছানায় ঘুমাতেই হবে’—এই সামাজিক ধারণার চেয়ে দুজনের ভালো ঘুম নিশ্চিত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান স্লিপ মেথডের মূল শিক্ষা খুব সহজ—একসঙ্গে থাকা মানেই সবকিছু একইভাবে করতে হবে না। একই বিছানায় থেকেও দুজনের আলাদা কম্বল থাকতে পারে। একজনের ঠান্ডা লাগলেও অন্যজনের গরম লাগতে পারে। একজন বেশি জায়গা নিয়ে ঘুমাতে চাইতে পারেন, অন্যজন একটু গুটিয়ে থাকতে পারেন। দাম্পত্যজীবনে এসব পার্থক্য স্বাভাবিক; বরং একে অপরের প্রয়োজনকে সম্মান করে ছোট ছোট সমাধান খুঁজে নেওয়াই সম্পর্ককে আরও আরামদায়ক করতে পারে।

পায়েস, ক্ষীর বা ফিরনি তৈরিতে দুধের ব্যবহার আমাদের দেশে বেশ পরিচিত। তবে সেই পরিচিত দুধ দিয়ে তৈরি করা যায় ভিন্ন স্বাদের এক মিষ্টি পদ। এমনই একটি মজার পদ হলো স্পেনের ঐতিহ্যবাহী ল্যাচে ফ্রিতা। এর বাংলা অর্থ ভাজা দুধ। মচমচে আর ভেতরে নরম ও ক্রিমি বিদেশি স্বাদের এই মিষ্টি খাবার হতে পারে আপনার বিকেল বা…

প্রাচীন আয়ুর্বেদে নাভিতে ঘি মাখার উপকারিতার কথা বলা রয়েছে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ঘিকে বলা হয় ‘অমৃত’। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে, নাভি আমাদের শরীরের শক্তি ও প্রাণের কেন্দ্রবিন্দু। তাই প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিতে নাভিতে ঘি দেওয়াকে শরীর নিরাময়ের এক শক্তিশালী মাধ্যম মনে করা হয়। আয়ুর্বেদ মতে, ঘিয়ের পুষ্টিকর উপাদান…

চলতি সময়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে টাইপ সি প্যারেন্টিং। এই পদ্ধতিতে সন্তানের আবেগপ্রবণ বুদ্ধিমত্তা এবং মানসিক সুস্থতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে অভিভাবকেরা সন্তানের ওপর নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার বদলে তাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা এবং আবেগ প্রকাশ করতে উৎসাহিত করেন। এই প্যারেন্টিংয়ের নাম যেহেতু…