যা বলার তা কি বলছে গণমাধ্যম

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৭:৩৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত হয়েছে

লর্ডসে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় টেস্ট চলার মাঝেই পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম খানের সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে স্কাই স্পোর্টস। ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার মাইকেল আথারটনের নেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের কারাবাস ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিস্ফোরক সব অভিযোগ করেন তাঁর দুই ছেলে। সাক্ষাৎকারটি নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আপত্তি জানালেও তা প্রচার করায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে পাকিস্তান।

২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম সেশন শেষ হওয়ার পর মধ্যাহ্নবিরতিতে সাক্ষাৎকারটি প্রচার করা হয়। পিসিবির পক্ষ থেকে আগে থেকেই স্কাই স্পোর্টসকে সাক্ষাৎকারটি প্রচার না করার অনুরোধ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে সেই আপত্তি উপেক্ষা করে নির্ধারিত সময়েই সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করে ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যমটি। বিষয় যখন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, তখন গল্পটি প্রাসঙ্গিক।

যখন আপনি কোনো আয়নার সামনে দাঁড়ান এবং নিজেকে উত্তমকুমার-সুচিত্রা সেন বা রাজ্জাক-কবরীর মতো দেখতে লাগে—আপনি কি সেই আয়না ভাঙবেন? নাকি ভাঙার ব্যাপারে সহমত হবেন? আর যদি সেই আয়নার সামনে দাঁড়ালে নিজেকে আগ্রাসী, দানবের মতো বা ভয় পাওয়া কোনো কিছুর মতো লাগে, আপনি হয় সেই আয়না ভেঙে ফেলবেন নয়তো নিজেই এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে দূরে সরে যাবেন। প্রকৃত চেহারা দেখতে ভয় পাওয়া মানুষ শাসক বা সমাজের এটাই বাস্তবতা। যে কারণে পাকিস্তান সরকার এর প্রতিবাদ করেছিল।

ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের পাশাপাশি মিয়ানমার বা পাশের দেশগুলোতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো সম্পূর্ণ ধরা দেয়নি। তুলনামূলকভাবে কিছু দেশের অবস্থা অনেক ভালো। অনেক বেশি তথ্য আর সঠিক খবর পাওয়া যায় সেসব দেশের মিডিয়ায়। যার বড় কারণ হয়তো গণতন্ত্র। সেই সব দেশের নির্বাচন বা ফলাফল নিয়ে মিডিয়ার খবর বিশ্বাস করে না, এমন মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা। উল্টো দিকে আমাদের কথা ভাবুন। এমন একটা সময় পার হতে হয়েছিল, যখন নির্বাচন আদৌ হচ্ছে কি না তার নেই হদিস। অথচ রাতের খবরজুড়ে রমরমা জয়-পরাজয়ের গুজবের খবর। মিডিয়ার স্বাধীনতা তখন কি আসলেই ছিল? নাকি আজও আছে?

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়টি কেবল মুখের কথা না। এর জন্য আইন আছে, নিয়মকানুন আছে। কিন্তু সরকার আসে, সরকার যায়। নিয়ম দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে আর মুখ লুকায়। বিষয়টি এভাবে দেখি—বাংলাদেশের গণমাধ্যম গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। গণমাধ্যম জনগণকে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সরবরাহ করে, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সহায়তা করে, জনমত গঠন করে এবং সমাজের নানা অসংগতি তুলে ধরে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জাতীয় সংকটের সময়ে গণমাধ্যম জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক তথ্য প্রচারে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। অনলাইন এবং মূলধারার অনেক গণমাধ্যম এখনও সাহসিকতার সঙ্গে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্ব সংবাদপত্রের স্বাধীনতার গুরুত্ব অপরিসীম। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকারের বিষয়গুলোকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে। এটি সরকার, নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নিজেদের অবস্থান পর্যালোচনা করার এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দেয়।

এই কথা বলার পর যা বলতে হবে, এখনো আমাদের মিডিয়া বুক চিতিয়ে মুখ খুলে হাত খুলে না পারছে বলতে, না লিখতে। সরকারের একটি মিডিয়া থাকলে থাকুক, চালিয়ে যাক তাদের প্রচার-প্রচারণা। কিন্তু সব মিডিয়া একযোগে হুক্কাহুয়া ধ্বনি তুললে বিপদ কিন্তু সরকারের বেশি। আবারও বলি, ষোলো বছর ধরে প্রচার বা একপেশে সবকিছু কেমন নিমিষে তাসের ঘরের মতো ধসে পড়েছিল, এটা সবাই ভুলে গেলে কি সময় ছেড়ে কথা বলবে?

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো অমূলক বা গল্পের বিষয় না। আমরা যদি অতীতের দিকে তাকাই, মাঝে মাঝে যে সময়টুকুতে আমাদের দেশের মিডিয়া ঝলসে উঠতে পেরেছিল, সে সময়টাতেই জয়ী হয়েছিল সমাজ, জয়ী হয়েছিল আমাদের স্বদেশ। আজ আমরা এমন এক সভ্যতার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছি, যখন মানুষ নিজেই একেকটি মিডিয়া। যার হাতে মোবাইল ফোন, তার হাতেই ক্যামেরা। আর ছবিও বলতে থাকা ঘটনার বিবরণ ও একধরনের মিডিয়া বৈকি। কে অস্বীকার করবে এই সোশ্যাল মিডিয়া কত রহস্য উন্মোচন করেছে, কত ঘটনা সুরাহা করার পথ দেখিয়েছে! সামাজিক মিডিয়া একদিকে যেমন শক্তিশালী তরবারি, আরেক দিকে খোলা ছুরি। এর ওপর নির্ভর বা বিশ্বাস করার একটা সীমা আছে। অন্যদিকে, মুদ্রিত ও ডিজিটাল টিভি মিডিয়া একবার যা বলে বা দেখায়, সেটাই স্থায়ী। পরে দুঃখ প্রকাশ করা বা মাফ চাইলেও যা বলার বা যা লেখার তা কিন্তু হয়েই যায়।

বলছিলাম গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে। গণমাধ্যমের প্রকৃত স্বাধীনতা আসলে ব্যক্তি বা সমাজের পাশাপাশি দেশের ওপর নির্ভরশীল। গণতন্ত্র, বাক্‌স্বাধীনতা আর চিন্তার মুক্তি ছাড়া তা অসম্ভব। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে স্বাধীনতা, তাকে অস্বীকার করলে বা তাকে সঙ্গে নিয়ে না এগোলে দেশ এগোবে কীভাবে? স্বাধীনতার এত বছর পরও আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে এক বিপন্ন বিস্ময় ও ঘোরের মধ্যে আছি। আশা করি এই ঘোর বিপদ কেটে স্বাধীনতার দীপ্তি আমাদের গণমাধ্যমকে মুক্ত আলোর পথ দেখাবে; যাতে দেশ, সমাজ ও মানুষের আস্থা আর ভালোবাসা জয়ী হবে। জয়ী হবে বাংলাদেশ।

লেখক: অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী কলামিস্ট

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর খানপাড়া এলাকায় তিন-চার বছর আগে মাছ ও মুরগির খাদ্য তৈরির জন্য একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ঘনবসতিপূর্ণ এ এলাকায় কারখানাটি গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীনভাবে।

ডা. মুশতাক হোসেন বাংলাদেশের একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) মেডিকেল প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে মেডিকেলে ভর্তি-ইচ্ছুকদের আন্দোলনে সংহতি জানানোর কারণে তাঁকে ওএসডি করা হয়েছিল।

এখন আর কোনো সন্দেহ নেই যে পৃথিবীর জলবায়ু বদলে যাচ্ছে। গত এক মাসে যদি আমরা পৃথিবীর দিকে তাকাই তাহলে তা বুঝতে মোটেই অসুবিধা হবে না। এক মাস ধরে বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া বড় ধরনের পরিবেশগত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে হিমবাহের ধসজনিত ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, প্রচণ্ড ঝড় ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত।

জনপ্রিয় টার্গেট

যা বলার তা কি বলছে গণমাধ্যম

প্রকাশ: ০৭:৩৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লর্ডসে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় টেস্ট চলার মাঝেই পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম খানের সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে স্কাই স্পোর্টস। ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার মাইকেল আথারটনের নেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের কারাবাস ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিস্ফোরক সব অভিযোগ করেন তাঁর দুই ছেলে। সাক্ষাৎকারটি নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আপত্তি জানালেও তা প্রচার করায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে পাকিস্তান।

২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম সেশন শেষ হওয়ার পর মধ্যাহ্নবিরতিতে সাক্ষাৎকারটি প্রচার করা হয়। পিসিবির পক্ষ থেকে আগে থেকেই স্কাই স্পোর্টসকে সাক্ষাৎকারটি প্রচার না করার অনুরোধ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে সেই আপত্তি উপেক্ষা করে নির্ধারিত সময়েই সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করে ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যমটি। বিষয় যখন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, তখন গল্পটি প্রাসঙ্গিক।

যখন আপনি কোনো আয়নার সামনে দাঁড়ান এবং নিজেকে উত্তমকুমার-সুচিত্রা সেন বা রাজ্জাক-কবরীর মতো দেখতে লাগে—আপনি কি সেই আয়না ভাঙবেন? নাকি ভাঙার ব্যাপারে সহমত হবেন? আর যদি সেই আয়নার সামনে দাঁড়ালে নিজেকে আগ্রাসী, দানবের মতো বা ভয় পাওয়া কোনো কিছুর মতো লাগে, আপনি হয় সেই আয়না ভেঙে ফেলবেন নয়তো নিজেই এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে দূরে সরে যাবেন। প্রকৃত চেহারা দেখতে ভয় পাওয়া মানুষ শাসক বা সমাজের এটাই বাস্তবতা। যে কারণে পাকিস্তান সরকার এর প্রতিবাদ করেছিল।

ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের পাশাপাশি মিয়ানমার বা পাশের দেশগুলোতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো সম্পূর্ণ ধরা দেয়নি। তুলনামূলকভাবে কিছু দেশের অবস্থা অনেক ভালো। অনেক বেশি তথ্য আর সঠিক খবর পাওয়া যায় সেসব দেশের মিডিয়ায়। যার বড় কারণ হয়তো গণতন্ত্র। সেই সব দেশের নির্বাচন বা ফলাফল নিয়ে মিডিয়ার খবর বিশ্বাস করে না, এমন মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা। উল্টো দিকে আমাদের কথা ভাবুন। এমন একটা সময় পার হতে হয়েছিল, যখন নির্বাচন আদৌ হচ্ছে কি না তার নেই হদিস। অথচ রাতের খবরজুড়ে রমরমা জয়-পরাজয়ের গুজবের খবর। মিডিয়ার স্বাধীনতা তখন কি আসলেই ছিল? নাকি আজও আছে?

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়টি কেবল মুখের কথা না। এর জন্য আইন আছে, নিয়মকানুন আছে। কিন্তু সরকার আসে, সরকার যায়। নিয়ম দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে আর মুখ লুকায়। বিষয়টি এভাবে দেখি—বাংলাদেশের গণমাধ্যম গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। গণমাধ্যম জনগণকে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সরবরাহ করে, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সহায়তা করে, জনমত গঠন করে এবং সমাজের নানা অসংগতি তুলে ধরে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জাতীয় সংকটের সময়ে গণমাধ্যম জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক তথ্য প্রচারে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। অনলাইন এবং মূলধারার অনেক গণমাধ্যম এখনও সাহসিকতার সঙ্গে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্ব সংবাদপত্রের স্বাধীনতার গুরুত্ব অপরিসীম। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকারের বিষয়গুলোকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে। এটি সরকার, নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নিজেদের অবস্থান পর্যালোচনা করার এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দেয়।

এই কথা বলার পর যা বলতে হবে, এখনো আমাদের মিডিয়া বুক চিতিয়ে মুখ খুলে হাত খুলে না পারছে বলতে, না লিখতে। সরকারের একটি মিডিয়া থাকলে থাকুক, চালিয়ে যাক তাদের প্রচার-প্রচারণা। কিন্তু সব মিডিয়া একযোগে হুক্কাহুয়া ধ্বনি তুললে বিপদ কিন্তু সরকারের বেশি। আবারও বলি, ষোলো বছর ধরে প্রচার বা একপেশে সবকিছু কেমন নিমিষে তাসের ঘরের মতো ধসে পড়েছিল, এটা সবাই ভুলে গেলে কি সময় ছেড়ে কথা বলবে?

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো অমূলক বা গল্পের বিষয় না। আমরা যদি অতীতের দিকে তাকাই, মাঝে মাঝে যে সময়টুকুতে আমাদের দেশের মিডিয়া ঝলসে উঠতে পেরেছিল, সে সময়টাতেই জয়ী হয়েছিল সমাজ, জয়ী হয়েছিল আমাদের স্বদেশ। আজ আমরা এমন এক সভ্যতার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছি, যখন মানুষ নিজেই একেকটি মিডিয়া। যার হাতে মোবাইল ফোন, তার হাতেই ক্যামেরা। আর ছবিও বলতে থাকা ঘটনার বিবরণ ও একধরনের মিডিয়া বৈকি। কে অস্বীকার করবে এই সোশ্যাল মিডিয়া কত রহস্য উন্মোচন করেছে, কত ঘটনা সুরাহা করার পথ দেখিয়েছে! সামাজিক মিডিয়া একদিকে যেমন শক্তিশালী তরবারি, আরেক দিকে খোলা ছুরি। এর ওপর নির্ভর বা বিশ্বাস করার একটা সীমা আছে। অন্যদিকে, মুদ্রিত ও ডিজিটাল টিভি মিডিয়া একবার যা বলে বা দেখায়, সেটাই স্থায়ী। পরে দুঃখ প্রকাশ করা বা মাফ চাইলেও যা বলার বা যা লেখার তা কিন্তু হয়েই যায়।

বলছিলাম গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে। গণমাধ্যমের প্রকৃত স্বাধীনতা আসলে ব্যক্তি বা সমাজের পাশাপাশি দেশের ওপর নির্ভরশীল। গণতন্ত্র, বাক্‌স্বাধীনতা আর চিন্তার মুক্তি ছাড়া তা অসম্ভব। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে স্বাধীনতা, তাকে অস্বীকার করলে বা তাকে সঙ্গে নিয়ে না এগোলে দেশ এগোবে কীভাবে? স্বাধীনতার এত বছর পরও আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে এক বিপন্ন বিস্ময় ও ঘোরের মধ্যে আছি। আশা করি এই ঘোর বিপদ কেটে স্বাধীনতার দীপ্তি আমাদের গণমাধ্যমকে মুক্ত আলোর পথ দেখাবে; যাতে দেশ, সমাজ ও মানুষের আস্থা আর ভালোবাসা জয়ী হবে। জয়ী হবে বাংলাদেশ।

লেখক: অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী কলামিস্ট

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর খানপাড়া এলাকায় তিন-চার বছর আগে মাছ ও মুরগির খাদ্য তৈরির জন্য একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ঘনবসতিপূর্ণ এ এলাকায় কারখানাটি গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীনভাবে।

ডা. মুশতাক হোসেন বাংলাদেশের একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) মেডিকেল প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে মেডিকেলে ভর্তি-ইচ্ছুকদের আন্দোলনে সংহতি জানানোর কারণে তাঁকে ওএসডি করা হয়েছিল।

এখন আর কোনো সন্দেহ নেই যে পৃথিবীর জলবায়ু বদলে যাচ্ছে। গত এক মাসে যদি আমরা পৃথিবীর দিকে তাকাই তাহলে তা বুঝতে মোটেই অসুবিধা হবে না। এক মাস ধরে বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া বড় ধরনের পরিবেশগত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে হিমবাহের ধসজনিত ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, প্রচণ্ড ঝড় ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত।