জনগণ শুধু ভোটার নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যকর অংশীদার: জেএসডি

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৫:৫৯:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৩ বার পঠিত হয়েছে

আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জেএসডির ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘পুরোনো ক্ষমতা-কাঠামো বদলাও—অংশীদারত্বের গণতন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্র রূপান্তর করো’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রবের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও চরচার সম্পাদক সোহরাব হাসান। তিনি বলেন, শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের লড়াইয়ের অঙ্গীকার নিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল। তবে বর্তমানে রাষ্ট্র সংস্কারের কর্মসূচিকে সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে, যা আদর্শিক অবস্থান থেকে এক ধরনের বিচ্যুতি। এই বাস্তবতা মেনে নিয়েই জনগণকে ক্ষমতায়িত করার লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায়, এমনকি বিএনপির ৩১ দফায় উল্লেখ করা অঙ্গীকারও সরকার কার্যকর করছে না। নির্বাচিত বিএনপি সরকার জনগণের কাঙ্ক্ষিত পথে কিংবা প্রতিশ্রুতির পথে হাঁটছে না। সংবিধানের গভীর সংস্কারে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে।

এ আইনজীবী আরও বলেন, শাসনক্ষমতা ও রাষ্ট্রকাঠামো এমনভাবে বিন্যস্ত করতে হবে, যাতে সরাসরি জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব না হলেও অন্তত জনকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যায়। ক্ষমতাকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক না রেখে বিস্তৃত ও বিকেন্দ্রীভূত করতে হবে। রাষ্ট্রের তিন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার পৃথক্‌করণ নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষমতা-কাঠামোর পরিবর্তন না হলে রাষ্ট্র আবার পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. হেলালুজ্জামান আহমদ বলেন, সংসদের উচ্চকক্ষে বিকশিত সামাজিক শক্তির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হলে আইন প্রণয়নে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষমতা-কাঠামোতে ভারসাম্য সৃষ্টি হবে।

জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার সরকার ও শাসকের পরিবর্তন ঘটলেও ক্ষমতার কেন্দ্রীভূত কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। ক্ষমতার হাতবদল ঘটেছে, কিন্তু ক্ষমতার গণতান্ত্রিক পুনর্বিন্যাস হয়নি। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ, সম্পদ বণ্টন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি।

দলটির নেতা আরও বলেন, শ্রমজীবী, কর্মজীবী ও পেশাজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের শ্রম, মেধা, জ্ঞান ও সৃজনশীলতায় রাষ্ট্র ও সমাজ বিকশিত হয়। অথচ রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাঁদের যথাযথ অংশগ্রহণ নেই। দলীয় গণতন্ত্রের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কার্যকর অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে তানিয়া রব জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকার ও গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় কার্যকর করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেএসডির স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া, মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন প্রমুখ।

আমাদের দাবি আদায়ে একদফার ডাক আসতে পারে: জামায়াত আমির

আমাদের দাবি আদায়ে একদফার ডাক আসতে পারে: জামায়াত আমির

গণভোটের গণ রায় বিএনপিকে বাস্তবায়ন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। ১১ দলের লংমার্চে হাজার হাজার মুক্তিকামী মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করছে জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের গণ রায়ের সঙ্গে গাদ্দারি চলবে না। কোনো ধানাইপানাই চলবে না।

সরকার জনগণের কাঁধে স্বৈরাচার চাপিয়ে দিতে চায়: শফিকুর রহমান

সরকার জনগণের কাঁধে স্বৈরাচার চাপিয়ে দিতে চায়: শফিকুর রহমান

শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণভোটের গণ রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, গাদ্দারি করছে। সরকার জনগণের কাঁধে স্বৈরাচার চাপিয়ে দিতে চায়। আমরা জনগণের অধিকার আদায় করে ছাড়ব, ইনশা আল্লাহ।’

জনগণের অধিকার হরণ করলে এক দফার ডাক দেওয়া হবে: মামুনুল হক

জনগণের অধিকার হরণ করলে এক দফার ডাক দেওয়া হবে: মামুনুল হক

মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা এই কার্ডের সরকারকে বলে দিতে চাই শুধুমাত্র ফ্যামিলি কার্ড কৃষক কার্ডের ভেলকিবাজির মাধ্যমে জনতার অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলবার পথ যদি বন্ধ না করা হয় জনগণ চূড়ান্তভাবে তোমাদেরকে লাল কার্ড দেখাবার জন্য প্রস্তুত আছে।’

জনপ্রিয় টার্গেট

সৌরবিদ্যুতের প্রসারে শুরু হচ্ছে ‘সোলার এক্সপো’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

জনগণ শুধু ভোটার নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যকর অংশীদার: জেএসডি

প্রকাশ: ০৫:৫৯:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জেএসডির ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘পুরোনো ক্ষমতা-কাঠামো বদলাও—অংশীদারত্বের গণতন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্র রূপান্তর করো’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রবের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও চরচার সম্পাদক সোহরাব হাসান। তিনি বলেন, শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের লড়াইয়ের অঙ্গীকার নিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল। তবে বর্তমানে রাষ্ট্র সংস্কারের কর্মসূচিকে সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে, যা আদর্শিক অবস্থান থেকে এক ধরনের বিচ্যুতি। এই বাস্তবতা মেনে নিয়েই জনগণকে ক্ষমতায়িত করার লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায়, এমনকি বিএনপির ৩১ দফায় উল্লেখ করা অঙ্গীকারও সরকার কার্যকর করছে না। নির্বাচিত বিএনপি সরকার জনগণের কাঙ্ক্ষিত পথে কিংবা প্রতিশ্রুতির পথে হাঁটছে না। সংবিধানের গভীর সংস্কারে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে।

এ আইনজীবী আরও বলেন, শাসনক্ষমতা ও রাষ্ট্রকাঠামো এমনভাবে বিন্যস্ত করতে হবে, যাতে সরাসরি জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব না হলেও অন্তত জনকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যায়। ক্ষমতাকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক না রেখে বিস্তৃত ও বিকেন্দ্রীভূত করতে হবে। রাষ্ট্রের তিন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার পৃথক্‌করণ নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষমতা-কাঠামোর পরিবর্তন না হলে রাষ্ট্র আবার পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. হেলালুজ্জামান আহমদ বলেন, সংসদের উচ্চকক্ষে বিকশিত সামাজিক শক্তির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হলে আইন প্রণয়নে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষমতা-কাঠামোতে ভারসাম্য সৃষ্টি হবে।

জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার সরকার ও শাসকের পরিবর্তন ঘটলেও ক্ষমতার কেন্দ্রীভূত কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। ক্ষমতার হাতবদল ঘটেছে, কিন্তু ক্ষমতার গণতান্ত্রিক পুনর্বিন্যাস হয়নি। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ, সম্পদ বণ্টন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি।

দলটির নেতা আরও বলেন, শ্রমজীবী, কর্মজীবী ও পেশাজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের শ্রম, মেধা, জ্ঞান ও সৃজনশীলতায় রাষ্ট্র ও সমাজ বিকশিত হয়। অথচ রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাঁদের যথাযথ অংশগ্রহণ নেই। দলীয় গণতন্ত্রের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কার্যকর অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে তানিয়া রব জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকার ও গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় কার্যকর করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেএসডির স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া, মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন প্রমুখ।

আমাদের দাবি আদায়ে একদফার ডাক আসতে পারে: জামায়াত আমির

আমাদের দাবি আদায়ে একদফার ডাক আসতে পারে: জামায়াত আমির

গণভোটের গণ রায় বিএনপিকে বাস্তবায়ন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। ১১ দলের লংমার্চে হাজার হাজার মুক্তিকামী মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করছে জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের গণ রায়ের সঙ্গে গাদ্দারি চলবে না। কোনো ধানাইপানাই চলবে না।

সরকার জনগণের কাঁধে স্বৈরাচার চাপিয়ে দিতে চায়: শফিকুর রহমান

সরকার জনগণের কাঁধে স্বৈরাচার চাপিয়ে দিতে চায়: শফিকুর রহমান

শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণভোটের গণ রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, গাদ্দারি করছে। সরকার জনগণের কাঁধে স্বৈরাচার চাপিয়ে দিতে চায়। আমরা জনগণের অধিকার আদায় করে ছাড়ব, ইনশা আল্লাহ।’

জনগণের অধিকার হরণ করলে এক দফার ডাক দেওয়া হবে: মামুনুল হক

জনগণের অধিকার হরণ করলে এক দফার ডাক দেওয়া হবে: মামুনুল হক

মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা এই কার্ডের সরকারকে বলে দিতে চাই শুধুমাত্র ফ্যামিলি কার্ড কৃষক কার্ডের ভেলকিবাজির মাধ্যমে জনতার অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলবার পথ যদি বন্ধ না করা হয় জনগণ চূড়ান্তভাবে তোমাদেরকে লাল কার্ড দেখাবার জন্য প্রস্তুত আছে।’