পাকিস্তানি সিরিয়াল ‘দার-এ-নিজাত’ নিয়ে কেন এত আলোচনা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৮:০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৬ বার পঠিত হয়েছে

বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে দার-এ-নিজাত নিয়ে। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, কেবল বাংলাদেশ বা পাকিস্তানেই নয়, চিরবৈরী ভারতের নতুন প্রজন্মের কাছেও তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে এটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাষা, পারিবারিক বন্ধন ও প্রাত্যহিক জীবনের সমস্যাগুলোর মিল থাকার কারণেই গল্পটি তরুণদের এত টানছে।

দার-এ-নিজাত সিরিজের গল্প এগিয়েছে প্রেম, বিশ্বাসভঙ্গ ও পারিবারিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র যারইয়াব একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও ধনীর দুলালী, যার পুরো পৃথিবী আবর্তিত হয় ছোটবেলার বন্ধু ও প্রেমিক জামিলকে ঘিরে। এই অন্ধ ভালোবাসার কারণে যারইয়াব নিজের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সুযোগও অবলীলায় ছেড়ে দেয়। কিন্তু জামিল অন্য একজনকে বিয়ে করলে তার জীবনে নেমে আসে ঘোর অমানিশা। এরপরই গল্প মোড় নেয়। যারইয়াবকে ট্রমা থেকে বের করে আনতে বিয়ে দেওয়া হয় আবু বকরের সঙ্গে, যে কি না শান্ত স্বভাবের, ধর্মভীরু এবং হার্ভার্ড থেকে পাস করা ইঞ্জিনিয়ার।

আর এখানেই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, ২০২৬ সালে এসেও কেন একজন নারীর মানসিক নিরাময় বা পুনর্বাসনের একমাত্র উপায় হিসেবে বিয়ে বা একজন পুরুষ রক্ষাকর্তাকেই দেখানো হবে? কোনো পুরুষের সাহায্য ছাড়াই তো সে হার্ভার্ডে ফিরে গিয়ে জীবনটা নতুন করে সাজাতে পারত।

সমালোচকেরা বলছেন, ড্রামাটি তরুণীদের মনে ‘নিখুঁত পুরুষ’-এর একটি অবাস্তব স্বপ্ন তৈরি করছে। মায়ের প্রতি আবু বকরের অন্ধ ভক্তি হৃদয়স্পর্শী হলেও মায়ের জন্য সবকিছু বিসর্জন দেওয়া একজন পুরুষ তার স্ত্রীর অধিকারের জন্য আদৌ লড়তে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। অন্যদিকে, যারইয়াবের চরিত্রটিও স্বার্থপরতায় ভরপুর। মানসিক আঘাতের দোহাই দিয়ে সে আবু বকরের আবেগ ও সম্মান নিয়ে যেভাবে খেলছে, তা স্রেফ প্রতারণা।

যারইয়াব চরিত্রের অভিনেত্রী দুরেফিশান সেলিম জানিয়েছেন, তিনিও ব্যক্তিগতভাবে চাইতেন যারইয়াব হার্ভার্ডে ফিরে গিয়ে স্বাবলম্বী হোক। অন্যদিকে, আবু বকরের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করা সানিয়া সাঈদ বিবিসি উর্দুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমাদের সমাজে এখনো মেয়েদের যেকোনো সমস্যার সমাধান হিসেবে বিয়ে দেওয়াটাকেই একমাত্র পথ মনে করা হয়। এ ছাড়া, আমাদের সমাজ অন্ধভাবে আদেশ পালন করা অনুগত ছেলে খোঁজে, যা মোটেও স্বাস্থ্যকর মানসিকতা নয়। লেখিকা উমেরা আহমেদ মূলত এই ভুল ধারণাগুলোকেই পর্দায় তুলে ধরতে চেয়েছেন।’

গল্পের এই মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ও বিতর্কিত দিকগুলোই মূলত তরুণ দর্শকদের সিরিজটির সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করেছে। প্রথাগত ভাবনার বাইরে গিয়ে চরিত্রগুলোর এমন মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব তুলে ধরার কারণেই দার-এ-নিজাত কাঁটাতারের ভেদাভেদ ভুলে উপমহাদেশজুড়ে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

দার-এ-নিজাতের কেন্দ্রীয় চরিত্র আবু বকর ও যারইয়াব হিসেবে অভিনয় করছেন শেহরিয়ার মুনাওয়ার ও দুরেফিশান সেলিম। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরও রয়েছেন নামির নওয়াজ খান, সানিয়া সাঈদ, সাবা হামিদ, ফারহান তাহির, রোমাইসা খান ও নাদিয়া আফগান।

‘এমিলি ইন প্যারিস’ সিরিজকে বিদায় জানালেন লিলি কলিন্স

‘এমিলি ইন প্যারিস’ সিরিজকে বিদায় জানালেন লিলি কলিন্স

সমাপ্তির পথে নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘এমিলি ইন প্যারিস’। সম্প্রতি শেষ হয়েছে সিরিজটির ফাইনাল বা ষষ্ঠ সিজনের শুটিং। এর মধ্য দিয়ে এমিলি কুপার চরিত্রকে বিদায় জানালেন অভিনেত্রী লিলি কলিন্স। দীর্ঘ সাত বছর ধরে চরিত্রটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকার পর শেষ দিনের শুটিং শেষে আবেগঘন বার্তায় অভিনেত্রী জানান..,.

নতুন নির্মাতা ও গল্প নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘বকুলপুর সিজন ৩’

নতুন নির্মাতা ও গল্প নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘বকুলপুর সিজন ৩’

দীপ্ত টিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘বকুলপুর’। এখন পর্যন্ত প্রচার হয়েছে নাটকটির দুটি সিজন। করোনার কারণে ২৬৪ পর্বে শেষ হয়েছিল প্রথম সিজন। ২০২২ সালে শুরু হয় ‘বকুলপুর সিজন ২’। ২০২৪ সালে ৭৮৮ পর্ব দিয়ে তা শেষ হয়। দুই বছর পর আসছে ধারাবাহিকটির তৃতীয় সিজন।

শেষের পথে ‘কিউকি সাস ভি
কাভি বহু থি ২’

শেষের পথে ‘কিউকি সাস ভি
কাভি বহু থি ২’

স্টার প্লাসের মেগা সিরিয়াল ‘কিউকি সাস ভি কাভি বহু থি’ ভারতীয় টেলিভিশনের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় নাম। ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত টানা আট বছরের বেশি সময় ধরে চলেছিল এই সিরিয়াল। দীর্ঘ বিরতির পর গত বছরের জুলাইয়ে প্রচারে আসে এর দ্বিতীয় সিজন।

জনপ্রিয় টার্গেট

শেরপুরে বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রবাসফেরত যুবক নিহত, আহত ৪

পাকিস্তানি সিরিয়াল ‘দার-এ-নিজাত’ নিয়ে কেন এত আলোচনা

প্রকাশ: ০৮:০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে দার-এ-নিজাত নিয়ে। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, কেবল বাংলাদেশ বা পাকিস্তানেই নয়, চিরবৈরী ভারতের নতুন প্রজন্মের কাছেও তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে এটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাষা, পারিবারিক বন্ধন ও প্রাত্যহিক জীবনের সমস্যাগুলোর মিল থাকার কারণেই গল্পটি তরুণদের এত টানছে।

দার-এ-নিজাত সিরিজের গল্প এগিয়েছে প্রেম, বিশ্বাসভঙ্গ ও পারিবারিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র যারইয়াব একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও ধনীর দুলালী, যার পুরো পৃথিবী আবর্তিত হয় ছোটবেলার বন্ধু ও প্রেমিক জামিলকে ঘিরে। এই অন্ধ ভালোবাসার কারণে যারইয়াব নিজের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সুযোগও অবলীলায় ছেড়ে দেয়। কিন্তু জামিল অন্য একজনকে বিয়ে করলে তার জীবনে নেমে আসে ঘোর অমানিশা। এরপরই গল্প মোড় নেয়। যারইয়াবকে ট্রমা থেকে বের করে আনতে বিয়ে দেওয়া হয় আবু বকরের সঙ্গে, যে কি না শান্ত স্বভাবের, ধর্মভীরু এবং হার্ভার্ড থেকে পাস করা ইঞ্জিনিয়ার।

আর এখানেই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, ২০২৬ সালে এসেও কেন একজন নারীর মানসিক নিরাময় বা পুনর্বাসনের একমাত্র উপায় হিসেবে বিয়ে বা একজন পুরুষ রক্ষাকর্তাকেই দেখানো হবে? কোনো পুরুষের সাহায্য ছাড়াই তো সে হার্ভার্ডে ফিরে গিয়ে জীবনটা নতুন করে সাজাতে পারত।

সমালোচকেরা বলছেন, ড্রামাটি তরুণীদের মনে ‘নিখুঁত পুরুষ’-এর একটি অবাস্তব স্বপ্ন তৈরি করছে। মায়ের প্রতি আবু বকরের অন্ধ ভক্তি হৃদয়স্পর্শী হলেও মায়ের জন্য সবকিছু বিসর্জন দেওয়া একজন পুরুষ তার স্ত্রীর অধিকারের জন্য আদৌ লড়তে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। অন্যদিকে, যারইয়াবের চরিত্রটিও স্বার্থপরতায় ভরপুর। মানসিক আঘাতের দোহাই দিয়ে সে আবু বকরের আবেগ ও সম্মান নিয়ে যেভাবে খেলছে, তা স্রেফ প্রতারণা।

যারইয়াব চরিত্রের অভিনেত্রী দুরেফিশান সেলিম জানিয়েছেন, তিনিও ব্যক্তিগতভাবে চাইতেন যারইয়াব হার্ভার্ডে ফিরে গিয়ে স্বাবলম্বী হোক। অন্যদিকে, আবু বকরের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করা সানিয়া সাঈদ বিবিসি উর্দুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমাদের সমাজে এখনো মেয়েদের যেকোনো সমস্যার সমাধান হিসেবে বিয়ে দেওয়াটাকেই একমাত্র পথ মনে করা হয়। এ ছাড়া, আমাদের সমাজ অন্ধভাবে আদেশ পালন করা অনুগত ছেলে খোঁজে, যা মোটেও স্বাস্থ্যকর মানসিকতা নয়। লেখিকা উমেরা আহমেদ মূলত এই ভুল ধারণাগুলোকেই পর্দায় তুলে ধরতে চেয়েছেন।’

গল্পের এই মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ও বিতর্কিত দিকগুলোই মূলত তরুণ দর্শকদের সিরিজটির সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করেছে। প্রথাগত ভাবনার বাইরে গিয়ে চরিত্রগুলোর এমন মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব তুলে ধরার কারণেই দার-এ-নিজাত কাঁটাতারের ভেদাভেদ ভুলে উপমহাদেশজুড়ে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

দার-এ-নিজাতের কেন্দ্রীয় চরিত্র আবু বকর ও যারইয়াব হিসেবে অভিনয় করছেন শেহরিয়ার মুনাওয়ার ও দুরেফিশান সেলিম। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরও রয়েছেন নামির নওয়াজ খান, সানিয়া সাঈদ, সাবা হামিদ, ফারহান তাহির, রোমাইসা খান ও নাদিয়া আফগান।

‘এমিলি ইন প্যারিস’ সিরিজকে বিদায় জানালেন লিলি কলিন্স

‘এমিলি ইন প্যারিস’ সিরিজকে বিদায় জানালেন লিলি কলিন্স

সমাপ্তির পথে নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘এমিলি ইন প্যারিস’। সম্প্রতি শেষ হয়েছে সিরিজটির ফাইনাল বা ষষ্ঠ সিজনের শুটিং। এর মধ্য দিয়ে এমিলি কুপার চরিত্রকে বিদায় জানালেন অভিনেত্রী লিলি কলিন্স। দীর্ঘ সাত বছর ধরে চরিত্রটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকার পর শেষ দিনের শুটিং শেষে আবেগঘন বার্তায় অভিনেত্রী জানান..,.

নতুন নির্মাতা ও গল্প নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘বকুলপুর সিজন ৩’

নতুন নির্মাতা ও গল্প নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘বকুলপুর সিজন ৩’

দীপ্ত টিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘বকুলপুর’। এখন পর্যন্ত প্রচার হয়েছে নাটকটির দুটি সিজন। করোনার কারণে ২৬৪ পর্বে শেষ হয়েছিল প্রথম সিজন। ২০২২ সালে শুরু হয় ‘বকুলপুর সিজন ২’। ২০২৪ সালে ৭৮৮ পর্ব দিয়ে তা শেষ হয়। দুই বছর পর আসছে ধারাবাহিকটির তৃতীয় সিজন।

শেষের পথে ‘কিউকি সাস ভি
কাভি বহু থি ২’

শেষের পথে ‘কিউকি সাস ভি
কাভি বহু থি ২’

স্টার প্লাসের মেগা সিরিয়াল ‘কিউকি সাস ভি কাভি বহু থি’ ভারতীয় টেলিভিশনের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় নাম। ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত টানা আট বছরের বেশি সময় ধরে চলেছিল এই সিরিয়াল। দীর্ঘ বিরতির পর গত বছরের জুলাইয়ে প্রচারে আসে এর দ্বিতীয় সিজন।