আজ শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার বিভিন্ন স্থান থেকে ১৪টি এসির জায়গা ফাঁকা। বিকল হওয়ায় এসব এসি এক মাসের বেশি সময় আগে খুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে ওই তলাগুলোর বিভিন্ন অংশে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কাজ করছে না। গরমের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করতে দেখা হচ্ছে।
গ্রন্থাগারে নিয়মিত পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা জানান, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে তাদের দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে হয়। বিশেষ করে পরীক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক কাজের সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানে পড়াশোনা করেন তাঁরা। পর্যাপ্ত এসি না থাকায় স্বাভাবিক পড়াশোনার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাফি আল হাসনাত বলেন, ‘খুবই কষ্ট হচ্ছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে দীর্ঘ সময় লাইব্রেরিতে বসে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’
দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলামিন রাকিব বলেন, ‘এক মাসের বেশি সময় ধরে এই সমস্যা চলছে। যেসব শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র এখনো চালু আছে, সেগুলোও পর্যাপ্ত নয়। ফলে অতিরিক্ত গরমের মধ্যে পড়াশোনা করতে হচ্ছে।’
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের উপ-গ্রন্থাগারিক সাইফুল ইসলাম মোল্লা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে ১৪টা এসি খুলে রিপেয়ারিংয়ের জন্য নেওয়া হয়েছে। এগুলো বিজ্ঞান কারখানা থেকে, অর্থাৎ সেন্ট্রালি সার্ভিসিং হয়। ওরাই সব এসির দেখভাল করে।’ তিনি বলেন, বিজ্ঞান কারখানার মিস্ত্রিরা এসে এসিগুলো পরীক্ষা করে কোন কোন যন্ত্রাংশ প্রয়োজন এবং মেরামতে কত টাকা খরচ হবে, তার একটি প্রাক্কলন (এস্টিমেট) দিয়েছেন। সে অনুযায়ী রেজিস্ট্রার ভবনে নোট দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিলও হয়ে গেছে। এখন মেরামতের কাজ চলছে। অতি শিগগির এসিগুলোর মেরামতের কাজ শেষ হবে।
সাইফুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ‘সরকারি টাকা হওয়ায় একটা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। আগে আমাদের কাছে বার্ষিক বাজেট ছিল, তখন বাইরে থেকে সার্ভিসিং করানো যেত। ফলে এতটা সময় লাগত না তখন। এখন সেই সুযোগ নেই।’
মেরামতের কাজ সম্পন্ন হতে সময় লাগার কারণ হিসেবে সাইফুল ইসলাম মোল্লা বলেন, রেজিস্ট্রার ভবন থেকে অনুমোদন পাওয়ার পরই অর্থ বরাদ্দ করা সম্ভব হয়। অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রেজিস্ট্রার বিল্ডিং থেকে ভিসি স্যার ও ট্রেজারারের অনুমোদন হয়ে চেক আসে। ওই চেক পাওয়ার পর আমরা বিজ্ঞান কারখানায় টাকা পাঠিয়ে দেই। এরপর তারা মেরামত কাজ শুরু করে।’
গ্রন্থাগারের সহকারী গ্রন্থাগারিক আবু কাউছার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এসি মেরামতের কাজ প্রক্রিয়াধীন। আমার জানামতে বিল হয়ে গেছে। এখন বিজ্ঞান কারখানায় ঠিক করার কার্যক্রম চলমান।’ কত দিন ধরে মেরামতের জন্য বিকল এসিগুলো খুলে রাখা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এক মাসের কয়েক দিন বেশি হবে।’
এদিকে পুরোনো এসি প্রতিস্থাপন করে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও বিজ্ঞান গ্রন্থাগারে নতুন এসি স্থাপনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে লিখিত আবেদন করেছে ডাকসু। ডাকসুর কমনরুম, রিডিং রুম ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক উম্মে সালমা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ডাকসুর পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও বিজ্ঞান গ্রন্থাগারের পুরোনো এসিগুলো প্রতিস্থাপন করে নতুন এসি স্থাপনের জন্য ইউজিসির কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। ইউজিসির চেয়ারম্যান মহোদয় বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।’
উম্মে সালমা বলেন, ‘চলতি মাসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয় ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পরিচালক মহোদয়ের সঙ্গে গ্রন্থাগার-সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভার আলোচ্যসূচিতে গ্রন্থাগারের জন্য নতুন এসি ক্রয়ের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমরা আশাবাদী, এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত আসবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একই সঙ্গে, ইউজিসির মাধ্যমে নতুন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবন নির্মাণের যে সিদ্ধান্ত রয়েছে, সেটির দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতেও ডাকসুর পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।’
ডাকসুর কমনরুম, রিডিং রুম ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক আরও বলেন, ‘গ্রন্থাগারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে ডাকসু, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ইউজিসি—সকলেই অবগত রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এই প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।’
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে কবির ব্যাপারী নামের এক কৃষককে হাত পায়ের রগ ও গলা কেটে হত্যা করেছে বোরকা পরা দুর্বৃত্তরা। নিহত কৃষক কবির ব্যাপারী (৫৫) মুলাদী উপজেলার কাজীরচর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাহাদুরপুর গ্রামের হাসমত আলী ব্যাপারীর ছেলে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী বগুড়া মৎস্য আড়তে দুর্বৃত্তদের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আজ শনিবার বেলা ২টায় বগুড়া মৎস্য আড়তে সংবাদ সম্মেলন করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তিন কর্মী হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায় করতে গিয়ে আজ শনিবার উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নের চর বৈশাখী থানার হাট এলাকায় তাঁরা হামলার শিকার হন।
দৈনিক টার্গেট 




















