পুলিশ জানিয়েছে, ভবন ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সিয়াম একাই ভবনের সিঁড়ি দিয়ে ছাদে ওঠেন। পরে সেখান থেকে লাফিয়ে নিচে পড়েন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যার ঘটনা।
নিহত সিয়াম মুলাদী সদর ইউনিয়নের খালাশিরচর গ্রামের মো. তছলিম সরদারের একমাত্র ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। প্রায় দুই মাস আগে তাঁর চাকরি চলে যায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, থানা সড়কে হাজি টাওয়ার নামে তিনটি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে সড়কসংলগ্ন একটি ভবনের পঞ্চম তলার নির্মাণকাজ চলছিল। গতকাল বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ওই ভবনের নিচে এক যুবককে পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পথে এক ব্যক্তি সিয়ামকে চিনতে পেরে তাঁর পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে তাঁর বাবা তছলিম সরদার হাসপাতালে গিয়ে ছেলের পরিচয় শনাক্ত করেন।
নিহতের চাচা (বাবার খালাতো ভাই) মো. রুহুল আমিন বলেন, সিয়াম ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। প্রায় দুই মাস আগে তাঁর চাকরি চলে যায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছিলেন। গতকাল দুপুরে বাড়িতে খাবার খেয়ে তিনি বাইরে যান। বিকেল ৪টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে সিয়ামের মরদেহ দেখতে পান তিনি।
সিয়ামের বাবা তছলিম সরদার বলেন, হাজি টাওয়ার কিংবা থানা সড়ক এলাকায় তাঁদের কোনো আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতজন নেই। ছেলে কেন সেখানে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, হাজি টাওয়ারের প্রথম ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ভবন ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে একা সিঁড়ি দিয়ে ছাদে উঠতে এবং পরে নিচে লাফিয়ে পড়তে দেখা গেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

দৈনিক টার্গেট 
























