ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয় থেকে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দূরের এই দুর্গম অঞ্চলে পৌঁছাতে সময় লাগে বেশ অনেকটা। কিন্তু পাহাড়ি সর্পিল পথ অতিক্রম করে তা শুয়ায় পৌঁছালে রাস্তার সব ক্লান্তি মুহূর্তেই উধাও হয়ে যায় পর্যটকদের। জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই সময়টায় তা শুয়ায় সুন্দর তুলতুলে মেঘের দেখা মেলে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে মেঘের সমুদ্রে সূর্যের আলো পড়ে যে মায়াবী রূপ তৈরি হয়, তা দেখতেই দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকেরা সেখানে ক্লউড হান্টিং বা মেঘ-শিকারে যায়।
শুধু মেঘ নয়, তা শুয়ার প্রতিটি বাঁকেই লুকিয়ে আছে প্রকৃতির এক একটি বিস্ময়। অ্যাডভেঞ্চার-প্রিয়দের জন্য এখানে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো ডাইনোসরস ব্যাকবোন। ডাইনোসরের পিঠের মতো দেখতে সরু, আঁকাবাঁকা ও খাড়া পাহাড়ি পথ ধরে নিচে শত শত মিটার গভীর উপত্যকার দৃশ্য দেখে রোমাঞ্চপ্রেমীদের গা শিউরে ওঠে। আর যাঁরা সূর্যাস্ত দেখতে ভালোবাসেন, তাঁদের গন্তব্য হওয়া উচিত তিন কিলোমিটার দূরের উইন্ডি পিক বা দিন জিউ। যেখানে পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে শেষ বিকেলের রক্তিম আলোয় মেঘের রূপ বদল দেখা যায় এক পরম প্রশান্তিতে। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে এ অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা থাকে। সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সময়টি এ অঞ্চল ট্র্যাকিংয়ের জন্য উপযুক্ত ও নিরাপদ।
একটু উঁচুতে গেলে মিলবে ২ হাজার ১২০ মিটার উঁচুতে থাকা টার্টল হেড রক বা কচ্ছপের মাথার মতো আকৃতির এক অদ্ভুত শিলাখণ্ড। সেখান থেকে পুরো পাহাড়ি উপত্যকার প্যানারোমিক ভিউ চোখে পড়ে। আর প্রকৃতিপ্রেমীদের মন ভরাবে প্রায় ১৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত তা শুয়ার প্রাচীন বনাঞ্চল।
সূত্র: ভিয়েতনাম ট্যুরিজম, এন ভলস

দৈনিক টার্গেট 


























