ইশরাকের ঘটনা নেতাদের জন্য সতর্কবার্তা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৭:৪৩:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৯ বার পঠিত হয়েছে

ইশরাকের ঘটনা নেতাদের জন্য সতর্কবার্তা

ইশরাকের ঘটনা ক্ষমতাসীনদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, রাজপথের আন্দোলন এবং মেয়র হওয়ার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে নিজের একটি শক্ত পরিচিতি তৈরি করেছিলেন প্রয়াত মেয়র মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন। প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া ছিল তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার বড় অর্জন। কিন্তু সেই অর্জন ধরে রাখার মতো দায়িত্বশীলতার পরিচয় শেষ পর্যন্ত তিনি দিতে পারেননি। রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তাঁর তৎপরতার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক বিতর্কের মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়েছে।

মাদক নির্মূলের উদ্দেশ্য খুবই ইতিবাচক, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। এটি এখন দেশের জন্য প্রধান সমস্যাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। লাখো পরিবারের জন্য মাদক হয়ে উঠেছে অভিশাপের মতো। ভবিষ্যৎ প্রজন্মসহ অগণিত মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলেছে ভয়াবহ নেশার সামগ্রী। কিন্তু তাই বলে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং বৈধ হলেও প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করা বেআইনি এবং নিয়মতান্ত্রিকতার সীমা অতিক্রমের শামিল নয় কি? নিশ্চয়ই ইশরাককে তারই খেসারত দিতে হয়েছে।

ইশরাক হোসেনকে সময়ক্ষেপণ না করে স্পষ্ট ভাষায় পদত্যাগ করতে বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দল ও সরকারের অন্যদের জন্য সেই বার্তাটিই দিয়েছেন। আমাদের দেশে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনেক বাড়াবাড়ি, অনিয়মই উপেক্ষিত হয়ে থাকে। সে বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত বলা যেতে পারে। ইশরাকের ঘটনা ক্ষমতাসীনদের জন্য আসলেই একটি বড় সতর্কবার্তা। আর সেই বার্তাটি হলো, সীমা ছাড়িয়ে গেলে তার মূল্য দিতে হবে।

তাই ঢাকা-৬ আসনের সাংসদ ইশরাক হোসেনের ঘটনার তাৎপর্য কেবল একজন প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের (স্বাভাবিকভাবেই অঙ্গ সংগঠনও) নেতা ও মন্ত্রীরা ক্ষমতা প্রয়োগে কোন পর্যন্ত যেতে পারবেন এবং মাত্রা ছাড়ালে কী পরিণতি হতে পারে, সে ব্যাপারে একটি অলিখিত কিন্তু স্পষ্ট নির্দেশনা তুলে ধরেছে।

মাদকের বিস্তার যে পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে, এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও সমাজের পক্ষ থেকে সর্বশক্তি দিয়ে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও বাহিনীর পাশাপাশি নাগরিক সমাজকে মাদকবিরোধী প্রচারণা ও অভিযানে যার যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। তবে মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রথমত রাষ্ট্রযন্ত্রের দায়িত্ব। এবং সে ব্যবস্থা নেবে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উদ্দেশ্য ভালো থাকলেই যে কেউ যেকোনো পদ্ধতিতে এ কাজে লিপ্ত হতে পারেন না। একজন প্রতিমন্ত্রী নিজে কেন আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদক কারবারের আখড়ায় অভিযান পরিচালনায় অংশ নেবেন? এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব প্রয়োজনে অপরাধ দমনকারী সংস্থাকে সহায়তা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার কথা। সে গণ্ডি পেরিয়ে তিনি নিজেই আইন প্রয়োগকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেন কি? এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে সাংসদ বা তাঁর সমর্থকদের পক্ষ থেকে শুধু মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থানের কথা বলে গেলে মূল বিতর্ক আড়াল করা হবে।

পদত্যাগের ঘোষণার আগে ও পরে ইশরাক হোসেন বলেছিলেন, আত্মরক্ষার জন্য তিনি লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে নিয়েছিলেন। তাঁর কাছে খবর ছিল ঘটনাস্থলে সশস্ত্র অপরাধীদের দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন। তাঁর এই বক্তব্য তদন্তে বিবেচনায় নিতে হবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও ইশরাকের বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। জুলাই নিয়ে করা তথ্যচিত্রে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি—এমন অভিযোগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা আপত্তি জানিয়েছিলেন। সেই মতপার্থক্যের জবাবে ইশরাক দায়িত্বহীন ভাষায় কথা বলেন। শহীদদের জন্য কে কী করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার বদলে উত্তেজনা বাড়িয়েছিলেন। মতবিরোধের জবাব যুক্তি দিয়ে দেওয়ার বদলে প্রতিপক্ষের অবদানকে খাটো করার প্রবণতা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ নয়।

ইশরাকের পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার ঘটনা থেকে এ ধরনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অবস্থান সম্পর্কে একটি বার্তা পাওয়া যায়। মিরপুরের রাড্ডা বারনেনের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সাম্প্রতিক পদত্যাগের কথাও ইশরাকের ঘটনা কেন্দ্র করে সামনে এসেছে। এসব ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ মাত্রা ছাড়ালে বা বড় বিতর্ক তৈরি হলে শীর্ষ নেতৃত্ব চরম ব্যবস্থা নিতে পারে। এটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখানে আরেকটি দিক আছে। দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আর প্রচলিত আইনের কাছে জবাবদিহি এক নয়। পদত্যাগের মাধ্যমে কেউ সরকারি বা দলীয় পদ হারাতে পারেন। কিন্তু তাতে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আইন ভাঙা হয়েছে কি না এবং সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি হয় না। আইনের শাসনের অর্থ ক্ষমতাবান ও সাধারণ নাগরিকের জন্য একই আইনি মানদণ্ড নিশ্চিত করা। সব মিলিয়ে ইশরাক হোসেনের গেন্ডারিয়ার কর্মকাণ্ড ছিল ক্ষমতার প্রকট প্রদর্শন ও রাজনৈতিক অপরিপক্বতার জ্বলজ্বলে উদাহরণ। জনগণ ভোটে নির্বাচিত করে কাউকে কোনো অনিয়ন্ত্রিত বিশেষ অধিকার দেয় না। নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব তখন বরং আরও বেড়ে যায়। পদমর্যাদা যত উঁচু, আচরণের দায়ও তত বেশি হয়। সেটা ভুলে গেলে চলে না।

লেখক: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আজকের পত্রিকা

উপনিবেশের কবজায় লোকজ ও দেশীয় সংস্কৃতি

উপনিবেশের কবজায় লোকজ ও দেশীয় সংস্কৃতি

২০১০ সালে ভারতের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে বোয়া সিনিয়র নামের এক বৃদ্ধা মারা যান। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে যায় ‘বো’ নামের একটি প্রাচীন ভাষা। বোয়া ছিলেন এই ভাষার শেষ জীবিত ব্যক্তি। জেনেটিক গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ৬৫ হাজার বছর আগে এই দ্বীপে বসতি স্থাপন করা এক জনগোষ্ঠী, তাদের লোককথা,

জনপ্রিয় টার্গেট

ইশরাকের ঘটনা নেতাদের জন্য সতর্কবার্তা

প্রকাশ: ০৭:৪৩:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ইশরাকের ঘটনা নেতাদের জন্য সতর্কবার্তা

ইশরাকের ঘটনা ক্ষমতাসীনদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, রাজপথের আন্দোলন এবং মেয়র হওয়ার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে নিজের একটি শক্ত পরিচিতি তৈরি করেছিলেন প্রয়াত মেয়র মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন। প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া ছিল তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার বড় অর্জন। কিন্তু সেই অর্জন ধরে রাখার মতো দায়িত্বশীলতার পরিচয় শেষ পর্যন্ত তিনি দিতে পারেননি। রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তাঁর তৎপরতার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক বিতর্কের মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়েছে।

মাদক নির্মূলের উদ্দেশ্য খুবই ইতিবাচক, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। এটি এখন দেশের জন্য প্রধান সমস্যাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। লাখো পরিবারের জন্য মাদক হয়ে উঠেছে অভিশাপের মতো। ভবিষ্যৎ প্রজন্মসহ অগণিত মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলেছে ভয়াবহ নেশার সামগ্রী। কিন্তু তাই বলে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং বৈধ হলেও প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করা বেআইনি এবং নিয়মতান্ত্রিকতার সীমা অতিক্রমের শামিল নয় কি? নিশ্চয়ই ইশরাককে তারই খেসারত দিতে হয়েছে।

ইশরাক হোসেনকে সময়ক্ষেপণ না করে স্পষ্ট ভাষায় পদত্যাগ করতে বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দল ও সরকারের অন্যদের জন্য সেই বার্তাটিই দিয়েছেন। আমাদের দেশে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনেক বাড়াবাড়ি, অনিয়মই উপেক্ষিত হয়ে থাকে। সে বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত বলা যেতে পারে। ইশরাকের ঘটনা ক্ষমতাসীনদের জন্য আসলেই একটি বড় সতর্কবার্তা। আর সেই বার্তাটি হলো, সীমা ছাড়িয়ে গেলে তার মূল্য দিতে হবে।

তাই ঢাকা-৬ আসনের সাংসদ ইশরাক হোসেনের ঘটনার তাৎপর্য কেবল একজন প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের (স্বাভাবিকভাবেই অঙ্গ সংগঠনও) নেতা ও মন্ত্রীরা ক্ষমতা প্রয়োগে কোন পর্যন্ত যেতে পারবেন এবং মাত্রা ছাড়ালে কী পরিণতি হতে পারে, সে ব্যাপারে একটি অলিখিত কিন্তু স্পষ্ট নির্দেশনা তুলে ধরেছে।

মাদকের বিস্তার যে পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে, এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও সমাজের পক্ষ থেকে সর্বশক্তি দিয়ে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও বাহিনীর পাশাপাশি নাগরিক সমাজকে মাদকবিরোধী প্রচারণা ও অভিযানে যার যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। তবে মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রথমত রাষ্ট্রযন্ত্রের দায়িত্ব। এবং সে ব্যবস্থা নেবে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উদ্দেশ্য ভালো থাকলেই যে কেউ যেকোনো পদ্ধতিতে এ কাজে লিপ্ত হতে পারেন না। একজন প্রতিমন্ত্রী নিজে কেন আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদক কারবারের আখড়ায় অভিযান পরিচালনায় অংশ নেবেন? এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব প্রয়োজনে অপরাধ দমনকারী সংস্থাকে সহায়তা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার কথা। সে গণ্ডি পেরিয়ে তিনি নিজেই আইন প্রয়োগকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেন কি? এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে সাংসদ বা তাঁর সমর্থকদের পক্ষ থেকে শুধু মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থানের কথা বলে গেলে মূল বিতর্ক আড়াল করা হবে।

পদত্যাগের ঘোষণার আগে ও পরে ইশরাক হোসেন বলেছিলেন, আত্মরক্ষার জন্য তিনি লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে নিয়েছিলেন। তাঁর কাছে খবর ছিল ঘটনাস্থলে সশস্ত্র অপরাধীদের দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন। তাঁর এই বক্তব্য তদন্তে বিবেচনায় নিতে হবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও ইশরাকের বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। জুলাই নিয়ে করা তথ্যচিত্রে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি—এমন অভিযোগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা আপত্তি জানিয়েছিলেন। সেই মতপার্থক্যের জবাবে ইশরাক দায়িত্বহীন ভাষায় কথা বলেন। শহীদদের জন্য কে কী করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার বদলে উত্তেজনা বাড়িয়েছিলেন। মতবিরোধের জবাব যুক্তি দিয়ে দেওয়ার বদলে প্রতিপক্ষের অবদানকে খাটো করার প্রবণতা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ নয়।

ইশরাকের পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার ঘটনা থেকে এ ধরনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অবস্থান সম্পর্কে একটি বার্তা পাওয়া যায়। মিরপুরের রাড্ডা বারনেনের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সাম্প্রতিক পদত্যাগের কথাও ইশরাকের ঘটনা কেন্দ্র করে সামনে এসেছে। এসব ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ মাত্রা ছাড়ালে বা বড় বিতর্ক তৈরি হলে শীর্ষ নেতৃত্ব চরম ব্যবস্থা নিতে পারে। এটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখানে আরেকটি দিক আছে। দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আর প্রচলিত আইনের কাছে জবাবদিহি এক নয়। পদত্যাগের মাধ্যমে কেউ সরকারি বা দলীয় পদ হারাতে পারেন। কিন্তু তাতে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আইন ভাঙা হয়েছে কি না এবং সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি হয় না। আইনের শাসনের অর্থ ক্ষমতাবান ও সাধারণ নাগরিকের জন্য একই আইনি মানদণ্ড নিশ্চিত করা। সব মিলিয়ে ইশরাক হোসেনের গেন্ডারিয়ার কর্মকাণ্ড ছিল ক্ষমতার প্রকট প্রদর্শন ও রাজনৈতিক অপরিপক্বতার জ্বলজ্বলে উদাহরণ। জনগণ ভোটে নির্বাচিত করে কাউকে কোনো অনিয়ন্ত্রিত বিশেষ অধিকার দেয় না। নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব তখন বরং আরও বেড়ে যায়। পদমর্যাদা যত উঁচু, আচরণের দায়ও তত বেশি হয়। সেটা ভুলে গেলে চলে না।

লেখক: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আজকের পত্রিকা

উপনিবেশের কবজায় লোকজ ও দেশীয় সংস্কৃতি

উপনিবেশের কবজায় লোকজ ও দেশীয় সংস্কৃতি

২০১০ সালে ভারতের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে বোয়া সিনিয়র নামের এক বৃদ্ধা মারা যান। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে যায় ‘বো’ নামের একটি প্রাচীন ভাষা। বোয়া ছিলেন এই ভাষার শেষ জীবিত ব্যক্তি। জেনেটিক গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ৬৫ হাজার বছর আগে এই দ্বীপে বসতি স্থাপন করা এক জনগোষ্ঠী, তাদের লোককথা,