এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা। কোন মন্ত্রণালয় বা সংস্থা কী করবে, কত দিনের মধ্যে করবে, প্রয়োজনীয় অর্থ কোথা থেকে আসবে এবং অগ্রগতি কীভাবে মাপা হবে—সবকিছু সেখানে স্পষ্ট থাকতে হবে।
পরিকল্পনাটি কাগজে সীমাবদ্ধ রাখলে বাড়তি তিন বছরও কাজে লাগবে না। নির্দিষ্ট লক্ষ্য ধরে অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে হবে এবং জনগণের সামনে তা প্রকাশ করতে হবে।
রাজস্ব আদায় বাড়ানো, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামোর ঘাটতি কমানো এখন অগ্রাধিকারে থাকা দরকার।
এসব ক্ষেত্রে সমস্যা রেখে শুধু সময় বাড়িয়ে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা তৈরি করা যাবে না। ব্যবসার খরচ কমাতে হবে, নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে হবে।
এই পরিবর্তনের চাপ বেশি পড়তে পারে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান, শ্রমিক, নারী এবং তরুণদের ওপর। তাদের প্রযুক্তি, দক্ষতা, অর্থায়ন ও বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে হবে। প্রশিক্ষণকে চাকরির চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে, যাতে মানুষ কাজ হারানোর ঝুঁকিতে না পড়ে।
তিন বছর তাই কেবল ক্যালেন্ডারের বাড়তি সময় নয়; এটি প্রস্তুতি নেওয়ার বড় সুযোগ। সরকারকে সদিচ্ছা, সমন্বয় ও জবাবদিহি দেখাতে হবে। ব্যবসায়ী, শ্রমিক, গবেষক ও নাগরিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। উত্তরণের সাফল্য ঘোষণায় নয়, বরং রপ্তানি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও মানুষের জীবনমানে তার সুফল পৌঁছানোর মধ্যেই প্রমাণিত হবে।
লেখক: ড. ফাহমিদা খাতুন বিশেষ ফেলো, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)

দৈনিক টার্গেট 


























