
সর্বশেষ:
কলেজ সরকারীকরণের দুঃসহ পরিণাম
-
দৈনিক টার্গেট - প্রকাশ: ০৮:০২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- ১৫ বার পঠিত হয়েছে

কলেজ কিংবা মাধ্যমিক স্কুল সরকারীকরণের খবরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কেবল শিক্ষক-কর্মচারী নন; তাঁদের সঙ্গে শিক্ষার্থী, অভিভাবক তথা এলাকাবাসীরও মনে খুব আনন্দ। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীর পরিবারের অন্য সদস্যদের মনেও বড় স্বস্তি ভবিষ্যতের কথা ভেবে। কিন্তু বাস্তবে? ঘোষণার ১০ বছর পরও গ্যাঁড়াকলে পড়ে সরকারীকরণের ‘মহৎ’ উদ্দেশ্যটিই বিফল হতে চলেছে। না শিক্ষার অগ্রগতি কিংবা সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ, এমনকি মহান পেশার মর্যাদাটি ধরে রাখা—সবকিছুই যেন এলোমেলো; কোনোক্রমেই হিসাব মেলানো যাচ্ছে না। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও হতাশা এসে ভর করেছে সবার মাঝে। সবার মনে একই প্রশ্ন, তাহলে এ কী ধরনের সরকারীকরণ?
শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাব্যবস্থা—এবংবিধ কোনো খবর, তা গৌরব-গরিমা আর সমস্যা-সম্ভাবনা কিংবা ইতিহাস-ঐতিহ্য যা-ই হোক, বরাবরই আমার খুব আগ্রহ ও কৌতূহলের বিষয় এবং তা সেই কৈশোরবেলা থেকেই। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (২০১৪-২০১৮) উপজেলা স্তরে ধাপে ধাপে অন্তত সাড়ে ৩০০ কলেজ (সঙ্গে আরও অন্তত ৩০০ মাধ্যমিক স্কুল) সরকারীকরণ হয়। বর্তমানে দেশে সরকারি কলেজবিহীন কোনো উপজেলা নেই। সরকারীকরণের প্রক্রিয়া শুরুর আগে থেকেই কলেজগুলোর নানা দৈন্যদশা ও অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা মারাত্মক আকার ধারণ করে। সরকারীকরণের আগে ও পরে অন্তত ২০০ কলেজে (৩০০ কলেজের মধ্যে) বছরের পর বছর নিয়মিত অধ্যক্ষ না থাকায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হয়। এতে অনিয়ম-বিশৃঙ্খলার মাত্রা আরও বেড়ে যায়। একই সঙ্গে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ দুটি পদই শূন্য, তাও আবার বছরের পর বছর ধরে; কী এক দুঃসহ বিড়ম্বনাময় পরিস্থিতি!
পত্রপত্রিকায় ঘন ঘন শিরোনাম হতে থাকেন একের পর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বে থাকা অধ্যক্ষরা। ডজন ডজন কলেজ টানা আট-দশ বছর কিংবা আরও বেশি বছর পরিচালিত হয়েছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে। কোথাও কোথাও একজনই টানা ১০ বছর, কোথাও আবার বিধিবিধানের তোয়াক্কা না করে একজনের পরিবর্তে অন্যজনকে চেয়ারে বসানো। এদিকে সরকারি হওয়া কলেজগুলোতে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকসংকট (অন্তত ১০ বছর ধরে নিয়োগ কিংবা পদায়নের কোনো খবর নেই) দিনে দিনে প্রকট আকার ধারণ করলেও তা নিরসনের কার্যত কোনো উদ্যোগ বা পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
এসব কিছুর ফলে কলেজগুলোর পরীক্ষা, বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে লাগাতার ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে চলেছে। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া উপজেলা স্তরের সরকারি কলেজগুলো বলতে গেলে ঢালাওভাবে ফলাফল বিপর্যয়ে হিমশিম খাচ্ছে। এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর চারদিকে যখন জিপিএ-৫ পাওয়াদের উল্লাস-ধ্বনি শুনতে পাওয়া যায়, তখন সরকারি কলেজগুলোতে পাসের হার হয় ১৫ শতাংশ কিংবা ২৫-৩০ শতাংশ; কিংবা বড়জোর ৪০ শতাংশ। এমন চিত্র ২০-৩০টি নয়, বোধ করি বেশির ভাগ সরকারি কলেজেরই। তার মানে আলোচনা-সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু শত শত কলেজ। এ নিয়ে হাহাকারেরও কোনো শেষ নেই।
দেশে শিক্ষার মান যে নিম্নগামী, তা বেশ কিছুদিন ধরে সর্বস্তরে আলোচিত। এমন নিম্নগামিতার পেছনে নানা কারণ রয়েছে অবশ্যই। তবে ২০২৪ সালে উল্লেখ করা কলেজগুলোতে দু-তিন দফায় বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত ব্যক্তিকে অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করায় অন্তত অভিভাবকহীনতার কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে কলেজগুলো। কিন্তু বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ? এর তো কোনো খবরই নেই, তাহলে পরিস্থিতিটি কী দাঁড়াল?
আরও একটি নজিরবিহীন ঘটনা, অন্তরে বেশ দাগ কাটার মতো। আর কিছু যেমনই হোক, একজন শিক্ষকের জীবনে এমন অপমান ও গ্লানিময় বিষয় আর কিছু হতে পারে না। একই প্রতিষ্ঠানে টানা ৩০ বছর শিক্ষকতা করা আর তার অর্ধেক সময় অর্থাৎ ১৫ বছর শিক্ষকতা করা ব্যক্তি উভয়েরই পদবি এখন ‘প্রভাষক’ এবং দুজনের বেতন-ভাতার পরিমাণও একই। তাঁদের মধ্যে সিনিয়ররা অন্তত ১৬ বছর ধরে রীতি অনুযায়ী
৭ম গ্রেডে ২৯ হাজার টাকার বেতন স্কেল পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালের সরকারীকরণের ‘কৃপায়’ বর্তমানে সিনিয়র-জুনিয়র সবার গ্রেড এখন নবম করা হয়েছে। তার মানে সিনিয়রদের দুই ধাপ অবনমন হলো! সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মুখেই শুনেছি, তাঁদের পদটিকে ‘ব্লক পোস্ট’ করা হয়েছে। ব্লক পোস্ট মানে তাঁদের কখনো পদোন্নতি (সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যাপক) হবে না।
উল্লেখ্য, জনবল প্যাটার্ন অনুযায়ী এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের পদোন্নতি হয়। কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের প্রভাষক থেকে আনুপাতিক হারে সহকারী অধ্যাপক হওয়ার বিধানটি যথারীতি চলমান রয়েছে।
গণিত যেমনই হোক; পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক ২০২১ সালে অবসরে গেলে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় একজনকে, প্রায় পাঁচ বছর ধরে পুরো ডিপার্টমেন্ট একা তাঁকেই (খণ্ডকালীন শিক্ষক) সামলাতে হচ্ছে (উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি পাস স্তর)। রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজকর্ম ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অনার্স চলমান থাকলেও প্রতিটি বিভাগে নিয়মিত শিক্ষক রয়েছেন একজন করে। একে একে দুইজন অবসরে গেলে ইতিহাস বিভাগও চলছে নিয়মিত একজন শিক্ষক দিয়ে। এমন কিংবা এর চাইতেও ভয়াবহ উদাহরণ ডজন ডজন নয়, বোধ করি শ ছাড়িয়ে যাবে।
শিক্ষকেরা ত্যক্ত-বিরক্ত, হতাশ; একই সঙ্গে রয়েছে তাঁদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকস্বল্পতায় শিক্ষা লাটে ওঠার উপক্রম হয়েছে। শিক্ষার মান ও নতুন সরকারি হওয়া কলেজগুলোর পারফরমেন্স বছর বছর পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলটা আসনের দিকে দৃষ্টি দিলেই আন্দাজ করা যায়। এমন দুঃসহ পরিণাম কারও কাম্য ছিল না। তবে বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করার সময় একেবারে শেষ হয়ে যায়নি।

মুখোশের আড়ালে মানুষ
আমাদের সমাজে মুখোশ এখন আর লুকানোর জিনিস নয়, দেখানোর জিনিস। কে কেমন মানুষ, সেটি জানার চেয়ে কে কেমন মানুষ সেজেছেন, সেটিই যেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তবজীবনে মন খারাপ, ফেসবুকে হাসি; পকেটে টাকা নেই, কিন্তু রেস্তোরাঁয় ছবি; সংসারে আগুন, স্ট্যাটাসে ‘আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ অনেক ভালো রেখেছেন’। মনে হয়, আমাদের

সংকট মোকাবিলায় এই মুহূর্তে যা করণীয়
বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে উল্লেখ আছে, বাংলাদেশে বর্তমানে ৬ কোটি ২০ লাখ লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে আছে। আইএমএফের আরেকটি প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৩.২ শতাংশ। এই চিত্র খুব একটা সুখকর না আগামী দিনের পথ চলার জন্য। আমাদের
জনপ্রিয় টার্গেট
























