ইবির সাজিদ হত্যা: তদন্তে বছর গেলেও শনাক্ত হয়নি খুনিরা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০২:২২:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯ বার পঠিত হয়েছে

সাজিদের পরিবারের অভিযোগ, সিআইডি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা ও তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে কিছুই জানতে পাচ্ছেন না তাঁরা। কী কারণে, কারা, কীভাবে সাজিদকে হত্যা করেছে, এক বছরেও তা অজানা রয়ে গেছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, গত বছরের ১৭ জুলাই বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের সামনের পুকুর থেকে আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ১৮ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর লাশের ময়নাতদন্ত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সাজিদের মৃত্যু ময়নাতদন্তের সময় থেকে ৩০ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ ১৬ জুলাই রাত সাড়ে ৩টার দিকে হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাজিদের মৃত্যু শ্বাসরোধে হয়েছে।

এ ঘটনায় ৪ আগস্ট সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে ইবি থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে মামলাটির তদন্ত করেন ইবি থানার পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন। পরে পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইবি থানা থেকে মামলার তদন্তভার কুষ্টিয়া সিআইডিতে ন্যস্ত করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব পান পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম। গত মে মাসে সাইফুল ইসলামকে পরিবর্তন করে সিআইডির আরেক পরিদর্শক মহব্বত হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত মামলায় কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সাজিদের মৃত্যু ময়নাতদন্তের সময় থেকে ৩০ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ ১৬ জুলাই রাত সাড়ে ৩টার দিকে হয়েছে বলে উল্লেখ করার পর সামনে এসেছে একটি রহস্যজনক ভ্যানের প্রবেশ। ঠিক ওই দিন, ওই সময়ে (রাত সাড়ে ৩টা) ইবির প্রধান ফটক দিয়ে ক্যাম্পাসে একটি ভ্যান প্রবেশ করতে দেখেন নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকা দুজন আনসার সদস্য। ভ্যানটিতে একজন শোয়ানো অবস্থায় ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন আরও চারজন।

জানা গেছে, ওই রাতে ইবির প্রধান ফটকে দায়িত্বে ছিলেন কুষ্টিয়া ব্রাঞ্চের আনসার সদস্য পঙ্কজ ও তারেক।

সম্প্রতি পঙ্কজ জানান, সাজিদের লাশ উদ্ধারের আগের দিন (১৬ জুলাই) ফজরের আগমুহূর্তে চারজন ব্যক্তি একটি ভ্যান নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। ভ্যানে একজন শুয়ে ছিলেন। বাকি তিনজনের মধ্যে একজন ছিলেন মধ্যবয়সী ভ্যানচালক। অন্য দুজন নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেন।

সাজিদের লাশ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহ আজিজুর রহমান হল কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি ঘটনা অনুসন্ধান (ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং) কমিটি গঠন করে। তবে গভীর রাতে ক্যাম্পাসে ভ্যান প্রবেশের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে আসেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি হলের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির সদস্য অধ্যাপক আবদুল বারী বলেন, ‘বিষয়টি হলের বাইরের হওয়ায় প্রতিবেদনে আনা হয়নি। তবে আনসার সদস্য পঙ্কজের বক্তব্যে আমরা দ্বিচারিতার প্রমাণ পেয়েছি। বিষয়টি এখন রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের তদন্তের দায়িত্ব।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক ও সহ-উপাচার্য অধ্যাপক এমতাজ হোসেনের কাছে সম্প্রতি জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা কুষ্টিয়া সিআইডির পরিদর্শক মহব্বত হোসেন বলেন, ইবির শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর বেশ কয়েকবার ক্যাম্পাসে গিয়েছি। কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব বিষয় বলা যাবে না।

কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাদক সেবনকালে আটক উপজেলা যুবদলের এক নেতাসহ তিন জনকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের একটি মুরগির খামারে অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনরত…

কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া চট্টগ্রামে ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) উৎপাদন ১২ দিন পর আবারও শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কারখানাটিতে পুনরায় ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিইউএফএলের কর্মকর্তা এ কে এম সেলিম রেজা চৌধুরী।

কুমিল্লার স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, আইফোন নেওয়ার জন্যই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পরিবার বলছে ভিন্ন কথা। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অপ্রতিমের বাবা

জনপ্রিয় টার্গেট

ইবির সাজিদ হত্যা: তদন্তে বছর গেলেও শনাক্ত হয়নি খুনিরা

প্রকাশ: ০২:২২:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাজিদের পরিবারের অভিযোগ, সিআইডি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা ও তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে কিছুই জানতে পাচ্ছেন না তাঁরা। কী কারণে, কারা, কীভাবে সাজিদকে হত্যা করেছে, এক বছরেও তা অজানা রয়ে গেছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, গত বছরের ১৭ জুলাই বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের সামনের পুকুর থেকে আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ১৮ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর লাশের ময়নাতদন্ত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সাজিদের মৃত্যু ময়নাতদন্তের সময় থেকে ৩০ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ ১৬ জুলাই রাত সাড়ে ৩টার দিকে হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাজিদের মৃত্যু শ্বাসরোধে হয়েছে।

এ ঘটনায় ৪ আগস্ট সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে ইবি থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে মামলাটির তদন্ত করেন ইবি থানার পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন। পরে পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইবি থানা থেকে মামলার তদন্তভার কুষ্টিয়া সিআইডিতে ন্যস্ত করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব পান পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম। গত মে মাসে সাইফুল ইসলামকে পরিবর্তন করে সিআইডির আরেক পরিদর্শক মহব্বত হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত মামলায় কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সাজিদের মৃত্যু ময়নাতদন্তের সময় থেকে ৩০ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ ১৬ জুলাই রাত সাড়ে ৩টার দিকে হয়েছে বলে উল্লেখ করার পর সামনে এসেছে একটি রহস্যজনক ভ্যানের প্রবেশ। ঠিক ওই দিন, ওই সময়ে (রাত সাড়ে ৩টা) ইবির প্রধান ফটক দিয়ে ক্যাম্পাসে একটি ভ্যান প্রবেশ করতে দেখেন নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকা দুজন আনসার সদস্য। ভ্যানটিতে একজন শোয়ানো অবস্থায় ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন আরও চারজন।

জানা গেছে, ওই রাতে ইবির প্রধান ফটকে দায়িত্বে ছিলেন কুষ্টিয়া ব্রাঞ্চের আনসার সদস্য পঙ্কজ ও তারেক।

সম্প্রতি পঙ্কজ জানান, সাজিদের লাশ উদ্ধারের আগের দিন (১৬ জুলাই) ফজরের আগমুহূর্তে চারজন ব্যক্তি একটি ভ্যান নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। ভ্যানে একজন শুয়ে ছিলেন। বাকি তিনজনের মধ্যে একজন ছিলেন মধ্যবয়সী ভ্যানচালক। অন্য দুজন নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেন।

সাজিদের লাশ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহ আজিজুর রহমান হল কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি ঘটনা অনুসন্ধান (ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং) কমিটি গঠন করে। তবে গভীর রাতে ক্যাম্পাসে ভ্যান প্রবেশের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে আসেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি হলের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির সদস্য অধ্যাপক আবদুল বারী বলেন, ‘বিষয়টি হলের বাইরের হওয়ায় প্রতিবেদনে আনা হয়নি। তবে আনসার সদস্য পঙ্কজের বক্তব্যে আমরা দ্বিচারিতার প্রমাণ পেয়েছি। বিষয়টি এখন রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের তদন্তের দায়িত্ব।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক ও সহ-উপাচার্য অধ্যাপক এমতাজ হোসেনের কাছে সম্প্রতি জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা কুষ্টিয়া সিআইডির পরিদর্শক মহব্বত হোসেন বলেন, ইবির শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর বেশ কয়েকবার ক্যাম্পাসে গিয়েছি। কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব বিষয় বলা যাবে না।

কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাদক সেবনকালে আটক উপজেলা যুবদলের এক নেতাসহ তিন জনকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের একটি মুরগির খামারে অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনরত…

কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া চট্টগ্রামে ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) উৎপাদন ১২ দিন পর আবারও শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কারখানাটিতে পুনরায় ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিইউএফএলের কর্মকর্তা এ কে এম সেলিম রেজা চৌধুরী।

কুমিল্লার স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, আইফোন নেওয়ার জন্যই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পরিবার বলছে ভিন্ন কথা। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অপ্রতিমের বাবা