আজ শনিবার শহরের পাবলিক লাইব্রেরি হল মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে এ সভা হয়। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্নাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
কক্সবাজার হোটেল-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, কক্সবাজারকে নিরাপদ পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে দুটি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন (ইসিএ) আইন। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, একটি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের জন্য কমপক্ষে ১৭টি সরকারি দপ্তরে দৌড়াতে হয়। এতে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়।
মুকিম খান বলেন, ইসিএ আইনের কারণে সৈকতসংলগ্ন এলাকায় পরিবেশ ছাড়পত্র মেলে না। এর ফলে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) অনুমোদন পাওয়া যায় না।
সভায় অধিকাংশ ব্যবসায়ী ইসিএ আইন সংশোধনের পাশাপাশি পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালুর দাবি জানান। ব্যবসায়ীরা অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেওয়ার জন্য ৬ মাস সময় চেয়েছেন।
সভায় কউকের সচিব সানজিদা বেগম বলেন, ‘অধিকাংশ হোটেলে অগ্নিনির্বাপণের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকবল না থাকার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।’ তিনি কউকের আইন, নীতিমালা ও নির্দেশনা মেনে চলতে হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের আহ্বান জানান।
পর্যটন ব্যবসায়ী ও হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, নিরাপদ পর্যটন নগরী গড়ে তুলতে হলে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালুর বিকল্প নেই। এই সার্ভিস চালু হলে স্টেকহোল্ডাররা সহজেই সেবা পাবেন। এ ছাড়া পর্যটন প্রসারে ইসিএ আইন শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি বলে মত দিয়েছেন তিনি।
সভায় সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না সম্প্রতি কুমিল্লায় তাজমিন হত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘কোনো হোটেল-রিসোর্টে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া কক্ষ ভাড়া না দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ স্থাপনা ও নির্মিত হোটেল-রিসোর্টগুলোকে সময় বেঁধে দিয়ে নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন।’
কক্সবাজারের হোটেল-রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁর প্রায় চার শতাধিক অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘বৈঠকে বিভিন্ন দাবি উঠেছে। ব্যবসায়ীরা ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চেয়েছেন। এই সেন্টার কীভাবে করা যায়, তার জন্য একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিটিতে প্রতিটি সংস্থার লোক থাকবে। তাদের দেওয়া সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’ যেসব হোটেল-রিসোর্টের ন্যূনতম অনুমোদন নেই—সেসব প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

দৈনিক টার্গেট 





















