কৃষক বাবা খাদেমুল ইসলামের ছোট ছেলে রাকিব। ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন তিনি। স্বপ্ন ছিল উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশের সেবা করবেন, মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করবেন।
পরিবারের ইচ্ছা ছিল, ছেলে ভালো ফল করলে বাড়িতে মিষ্টি বিতরণ করবেন। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত দিন এসেছে এক বুক শোক নিয়ে। যে বাড়িতে আজ আনন্দের উৎসব হওয়ার কথা, সেখানে এখন শুধুই কান্না আর হারানোর বেদনা।
রাকিবের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জীবন তাঁর ছোট ভাইয়ের জিপিএ-৫ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফলাফলের এই সংবাদ পরিবারকে গর্বিত করলেও সেই গর্বের সঙ্গে মিশে আছে অসহনীয় কষ্ট।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় রাকিবকে হত্যার অভিযোগে আব্দুল্লাহ মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাকিবকে জীবিত দেখিয়ে ভিডিও তৈরি করে পরিবারের কাছে পাঠানো হয় এবং মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার চার লাখ টাকা দিলেও তাঁকে আর ফিরে পায়নি। পরে নীলফামারীর ডিমলা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আজ রাকিবের থাকার কথা ছিল সাফল্যের আনন্দে, মা-বাবার মুখে থাকার কথা ছিল গর্বের হাসি। অথচ জিপিএ-৫ পেয়েও তিনি নেই পরিবারের পাশে।
রাকিবের ফল এসেছে, কিন্তু ফেরেনি রাকিব। কৃষক বাবার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাওয়া ছেলেটি আজ শুধুই স্মৃতি। মিষ্টি বিতরণের স্বপ্ন নিয়ে অপেক্ষায় থাকা মা-বাবার চোখে আজ জমেছে অশ্রু।
নিহত রাকিবের পরিবারের এখন একটাই দাবি, হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

দৈনিক টার্গেট 
























