‘অর্ডার অর্ডার’ বলার স্বপ্ন ছুঁলেন নূর

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৮:৫০:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৯ বার পঠিত হয়েছে

১৭তম বিজেএস ছিল তাঁর প্রথম পরীক্ষা। তখন বেয়ার অ্যাক্টের চেয়ে আইনপাঠ বেশি পড়তেন। ফলে দেওয়ানি কার্যবিধি ও ফৌজদারি কার্যবিধি বুঝতে সমস্যায় পড়েন। ব্যর্থতার পর সংবিধান ও পারিবারিক আইন ছাড়া বাকি সব বিষয়ে বেয়ার অ্যাক্টকে করেন মূল ভিত্তি।

১৮তম বিজেএসের সার্কুলারের আগে হাতে সময় ছিল। তাই বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা না করে প্রতি মাসের প্রথম ২৫ দিনে সব বিষয় শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করেন। বাকি পাঁচ দিন রাখতেন অসম্পূর্ণ অংশ শেষ করার জন্য।

সংবিধানের জন্য পড়তেন মূল সংবিধান, আব্দুল হালিমের বই ও ‘সহজ ভাবনায় সংবিধান’। প্রয়োজনমতো দেখতেন জসীম আলী চৌধুরী ও মাহমুদুল ইসলামের বই। মুসলিম আইনে ফয়েজ উদ্দিন ও ডি এফ মুল্লা, হিন্দু আইনে আজিজুল হক এবং উত্তরাধিকার আইনে ইকরাম স্যারের বই অনুসরণ করতেন। বুঝতে অসুবিধা হলে নিতেন আইনপাঠের সহায়তা।

প্রিলির আগে অংশ নিতেন Live MCQ এবং সিভিল জজ রাগীব মোস্তফা নাইম ও সাদিকুর রহমান রোমানের আয়োজিত পরীক্ষায়। ভালো নম্বর আত্মবিশ্বাস বাড়াত। কোথাও ক্লাস করেননি, শুধু পরীক্ষা দিয়েছেন। সাধারণ জ্ঞানে বাংলা, ইংরেজি সাহিত্য ও বিজ্ঞানে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

আয়েশা সিদ্দিকা ইমার বই ও রিটেন মাস্টার পড়ে প্রশ্নের ধরন এবং প্রশ্ন আসার জায়গা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পান। এরপর সেভাবেই প্রস্তুতি নেন।

আলাদা নোট করার অভ্যাস ছিল না। তাই বেয়ার অ্যাক্টে ধারার পাশে ছোট ছোট পয়েন্ট লিখে রাখতেন। প্রাসঙ্গিক মামলা পেলে তা-ও লিখতেন সংশ্লিষ্ট ধারার পাশে। প্রিলির বইগুলোই পড়েছেন, শুধু বাদ দিয়েছেন আইনপাঠ। প্রিলির সময় আইনগুলো হালকাভাবে পড়লেও লিখিতে গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো ভালোভাবে আয়ত্তে আনেন। দিনভর পড়তেন আইন, রাতে সাধারণ বিষয়।

প্রথমবার লিখিত দিয়েই তাঁর বিশ্বাস ছিল, সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার মতো পরীক্ষা দিয়েছেন। তবে লিখিতের পর ভাইভার প্রস্তুতিতে মন বসত না। তবু সব আইনের বেয়ার অ্যাক্ট আরেকবার দেখেছেন। ‘ভাইভা বুস্টার’ বইটি প্রি-অর্ডার করেন, হাতে পান ভাইভার কয়েক দিন আগে। প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা পড়ার সময় নিজেকে তাঁদের জায়গায় কল্পনা করতেন, যেন সত্যিই বোর্ডে বসে উত্তর দিচ্ছেন। প্রতিদিন সকালে বিজেএস কমিশনের ওয়েবসাইটে সদস্যদের ছবি দেখতেন, যাতে বোর্ডে সামনে পড়লে মুখগুলো পরিচিত লাগে। মুখস্থ করেছিলেন তাঁদের নামও।

ছোটবেলায় টিভিতে বিচারককে ‘অর্ডার অর্ডার’ বলে বিচার করতে দেখে ভাবতেন, তিনিও যদি এমন বলতে পারতেন! তখন জানতেন না, কীভাবে জজ হতে হয়। ধীরে ধীরে এই স্বপ্ন পরিবারের স্বপ্ন হয়ে ওঠে। বাবা-মা ও ভাই-বোনের স্বপ্নপূরণে জজ হওয়াই হয়ে দাঁড়ায় তাঁর অঙ্গীকার।

সিজিপিএ কম হলে করণীয় জেনে নিন

সিজিপিএ কম হলে করণীয় জেনে নিন

বিদেশে পড়ার স্বপ্ন দেখা সহজ, কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে হাঁটা দীর্ঘ এক যাত্রা। ভর্তির আবেদন ও ফলাফলের অপেক্ষায় মন ভারী হতে পারে। হতাশা আসে, বিষণ্নতাও উঁকি দেয়। এটা খুবই স্বাভাবিক। তবু ধৈর্য ধরলে যাত্রার শেষে কাঙ্ক্ষিত ফল মেলে।

অস্ট্রেলিয়ায় গবেষণায় স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশি রবিউল আলম

অস্ট্রেলিয়ায় গবেষণায় স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশি রবিউল আলম

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের (ইউকিউ) মর্যাদাপূর্ণ ‘এন ভি ভার্গিজ প্রাইজ ফর কম্পারেটিভ এডুকেশন ২০২৬’ অর্জন করেছেন বাংলাদেশি পিএইচডি গবেষক মো. রবিউল আলম। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব এডুকেশন থেকে গবেষণার মৌলিকত্ব, একাডেমিক উৎকর্ষ এবং কম্পারেটিভ এডুকেশন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁক

নাসার রোভার চ্যালেঞ্জে ৫ শিক্ষার্থীর দল

নাসার রোভার চ্যালেঞ্জে ৫ শিক্ষার্থীর দল

নাসার আন্তর্জাতিক রোভার প্রতিযোগিতা ‘হিউম্যান এক্সপ্লোরেশন রোভার চ্যালেঞ্জ’ (এইচইআরসি) ২০২৭-এর জন্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ ইন্টারপ্ল্যানেটারি রোভার টিম (বিআইআরটি)। টিম আকাশ পাঠাবোর উদ্যোগে পরিচালিত দলটি প্রতিযোগিতার মিডল/হাইস্কুল(সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়) রিমোট-কন্ট্রোলড বিভাগে অংশ নেবে।

জনপ্রিয় টার্গেট

মার্কিন কর্মকর্তাদের হত্যার গোপন মিশনের ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ ইরান, সতর্ক ওয়াশিংটন

‘অর্ডার অর্ডার’ বলার স্বপ্ন ছুঁলেন নূর

প্রকাশ: ০৮:৫০:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

১৭তম বিজেএস ছিল তাঁর প্রথম পরীক্ষা। তখন বেয়ার অ্যাক্টের চেয়ে আইনপাঠ বেশি পড়তেন। ফলে দেওয়ানি কার্যবিধি ও ফৌজদারি কার্যবিধি বুঝতে সমস্যায় পড়েন। ব্যর্থতার পর সংবিধান ও পারিবারিক আইন ছাড়া বাকি সব বিষয়ে বেয়ার অ্যাক্টকে করেন মূল ভিত্তি।

১৮তম বিজেএসের সার্কুলারের আগে হাতে সময় ছিল। তাই বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা না করে প্রতি মাসের প্রথম ২৫ দিনে সব বিষয় শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করেন। বাকি পাঁচ দিন রাখতেন অসম্পূর্ণ অংশ শেষ করার জন্য।

সংবিধানের জন্য পড়তেন মূল সংবিধান, আব্দুল হালিমের বই ও ‘সহজ ভাবনায় সংবিধান’। প্রয়োজনমতো দেখতেন জসীম আলী চৌধুরী ও মাহমুদুল ইসলামের বই। মুসলিম আইনে ফয়েজ উদ্দিন ও ডি এফ মুল্লা, হিন্দু আইনে আজিজুল হক এবং উত্তরাধিকার আইনে ইকরাম স্যারের বই অনুসরণ করতেন। বুঝতে অসুবিধা হলে নিতেন আইনপাঠের সহায়তা।

প্রিলির আগে অংশ নিতেন Live MCQ এবং সিভিল জজ রাগীব মোস্তফা নাইম ও সাদিকুর রহমান রোমানের আয়োজিত পরীক্ষায়। ভালো নম্বর আত্মবিশ্বাস বাড়াত। কোথাও ক্লাস করেননি, শুধু পরীক্ষা দিয়েছেন। সাধারণ জ্ঞানে বাংলা, ইংরেজি সাহিত্য ও বিজ্ঞানে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

আয়েশা সিদ্দিকা ইমার বই ও রিটেন মাস্টার পড়ে প্রশ্নের ধরন এবং প্রশ্ন আসার জায়গা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পান। এরপর সেভাবেই প্রস্তুতি নেন।

আলাদা নোট করার অভ্যাস ছিল না। তাই বেয়ার অ্যাক্টে ধারার পাশে ছোট ছোট পয়েন্ট লিখে রাখতেন। প্রাসঙ্গিক মামলা পেলে তা-ও লিখতেন সংশ্লিষ্ট ধারার পাশে। প্রিলির বইগুলোই পড়েছেন, শুধু বাদ দিয়েছেন আইনপাঠ। প্রিলির সময় আইনগুলো হালকাভাবে পড়লেও লিখিতে গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো ভালোভাবে আয়ত্তে আনেন। দিনভর পড়তেন আইন, রাতে সাধারণ বিষয়।

প্রথমবার লিখিত দিয়েই তাঁর বিশ্বাস ছিল, সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার মতো পরীক্ষা দিয়েছেন। তবে লিখিতের পর ভাইভার প্রস্তুতিতে মন বসত না। তবু সব আইনের বেয়ার অ্যাক্ট আরেকবার দেখেছেন। ‘ভাইভা বুস্টার’ বইটি প্রি-অর্ডার করেন, হাতে পান ভাইভার কয়েক দিন আগে। প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা পড়ার সময় নিজেকে তাঁদের জায়গায় কল্পনা করতেন, যেন সত্যিই বোর্ডে বসে উত্তর দিচ্ছেন। প্রতিদিন সকালে বিজেএস কমিশনের ওয়েবসাইটে সদস্যদের ছবি দেখতেন, যাতে বোর্ডে সামনে পড়লে মুখগুলো পরিচিত লাগে। মুখস্থ করেছিলেন তাঁদের নামও।

ছোটবেলায় টিভিতে বিচারককে ‘অর্ডার অর্ডার’ বলে বিচার করতে দেখে ভাবতেন, তিনিও যদি এমন বলতে পারতেন! তখন জানতেন না, কীভাবে জজ হতে হয়। ধীরে ধীরে এই স্বপ্ন পরিবারের স্বপ্ন হয়ে ওঠে। বাবা-মা ও ভাই-বোনের স্বপ্নপূরণে জজ হওয়াই হয়ে দাঁড়ায় তাঁর অঙ্গীকার।

সিজিপিএ কম হলে করণীয় জেনে নিন

সিজিপিএ কম হলে করণীয় জেনে নিন

বিদেশে পড়ার স্বপ্ন দেখা সহজ, কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে হাঁটা দীর্ঘ এক যাত্রা। ভর্তির আবেদন ও ফলাফলের অপেক্ষায় মন ভারী হতে পারে। হতাশা আসে, বিষণ্নতাও উঁকি দেয়। এটা খুবই স্বাভাবিক। তবু ধৈর্য ধরলে যাত্রার শেষে কাঙ্ক্ষিত ফল মেলে।

অস্ট্রেলিয়ায় গবেষণায় স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশি রবিউল আলম

অস্ট্রেলিয়ায় গবেষণায় স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশি রবিউল আলম

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের (ইউকিউ) মর্যাদাপূর্ণ ‘এন ভি ভার্গিজ প্রাইজ ফর কম্পারেটিভ এডুকেশন ২০২৬’ অর্জন করেছেন বাংলাদেশি পিএইচডি গবেষক মো. রবিউল আলম। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব এডুকেশন থেকে গবেষণার মৌলিকত্ব, একাডেমিক উৎকর্ষ এবং কম্পারেটিভ এডুকেশন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁক

নাসার রোভার চ্যালেঞ্জে ৫ শিক্ষার্থীর দল

নাসার রোভার চ্যালেঞ্জে ৫ শিক্ষার্থীর দল

নাসার আন্তর্জাতিক রোভার প্রতিযোগিতা ‘হিউম্যান এক্সপ্লোরেশন রোভার চ্যালেঞ্জ’ (এইচইআরসি) ২০২৭-এর জন্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ ইন্টারপ্ল্যানেটারি রোভার টিম (বিআইআরটি)। টিম আকাশ পাঠাবোর উদ্যোগে পরিচালিত দলটি প্রতিযোগিতার মিডল/হাইস্কুল(সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়) রিমোট-কন্ট্রোলড বিভাগে অংশ নেবে।