হার্ভার্ডে ভর্তির যোগ্যতা কী জানালেন আসিফ মোক্তাদির

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৭:৫০:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত হয়েছে

পারিবারিক ভিসায় আমেরিকা যাওয়ার সময় কল্পনাও করিনি যে হার্ভার্ডে পড়তে পারব। দেশে উচ্চমাধ্যমিকের পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে তিন সেমিস্টার পড়েছিলাম। আমেরিকায় গিয়ে আবার নতুন করে শুরু করতে হলো, এর জন্য অনেক মনোবল দরকার। বায়োলজিক্যাল সায়েন্সে স্নাতক শেষ করে ফিজিশিয়ান অ্যাসোসিয়েট স্টাডিজে মাস্টার্স করি, পরে মেডিকেল সায়েন্সে ডক্টরেট। চিকিৎসাকর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে মনে হলো, রোগীদের আরও ভালো সেবা দিতে হলে আরও উচ্চতর ডিগ্রি দরকার। নিজেকে যাচাই করতে কলাম্বিয়া ও হার্ভার্ডে আবেদন করি। দুটোতেই সুযোগ পেয়ে অবাক হয়েছিলাম। অনেক ভেবে হার্ভার্ড বেছে নিই।

আমি খুবই ভাগ্যবান যে স্নাতকে সরকারি সহায়তা পেয়েছিলাম। তাই নিজের পকেট থেকে খুব বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়নি। মাস্টার্স ও ডক্টরেটের সময় ঋণ নিয়েছি, যা ধীরে ধীরে শোধ করব। আমি কফি শপে কাজ শুরু করেছি, তবে টিউশন ফি দেওয়ার জন্য নয়, নিজের খরচ আর পরিবারকে কিছুটা সাহায্য করার জন্য। আমেরিকায় এটি খুবই স্বাভাবিক। অধ্যাপকের সন্তানেরাও রেস্টুরেন্ট বা রিটেইল স্টোরে কাজ করেন। আমার ইউনিভার্সিটির অ্যাডভাইজারও কফি শপে কাজ করতেন।

আমি খুব ফাঁকিবাজ ছিলাম। বেলা দুইটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত দ্বিতীয় শিফটে কাজ করতাম, তখন শ্রীলঙ্কান ম্যানেজার থাকতেন না। আমি স্টোরের পেছনে বসে ফোন চালাতাম, ময়লা ফেলতে গিয়ে বাইরে বেশি সময় কাটাতাম। সহকর্মীরা মিলে বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করে ভেতরে বসে খেতাম, যা সেখানে অনুমোদিত ছিল না।

আমি দেশে তিন সেমিস্টার সম্পন্ন করে, সেখান থেকে প্রায় ৩৫ ক্রেডিট ট্রান্সফার করতে পেরেছিলাম, তাই চার বছরের জায়গায় তিন বছরে স্নাতক শেষ করি। বিশ্ববিদ্যালয় বাসার কাছে ছিল, টিউশন ফিও তুলনামূলক কম। শুরুতে ক্লাসে ইংরেজিতে প্রশ্ন করতে ভয় পেতাম, ভুল হলে শিক্ষক-সহপাঠীরা কী ভাববে। পেছনে চুপচাপ বসে থাকতাম। পরে বুঝলাম, প্রশ্ন না করলে আর না মিশলে এগোনো যাবে না। তখন ইংরেজি বলার চর্চা শুরু করি, প্রশ্ন করি, গ্রুপ স্টাডি করি। এতে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কেও জানতে পারি।

শুধু ফাঁকিবাজি নয়, সিদ্ধান্তের ভুলও ছিল। দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিস্টারে ২০-২২ ক্রেডিট নিতাম। আমেরিকায় সাধারণত ১২, ১৫ বা ১৮ ক্রেডিট নেয়, সেটা বুঝিনি। জেদ করে অনেক কঠিন কোর্স নিয়েছিলাম। ভাষার ভয়, নতুন শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো, কাজের পাশাপাশি পড়াশোনা আর লাইফস্টাইল ব্যালান্স—সব মিলিয়ে কঠিন হয়ে পড়েছিল। ড্রপআউট করতে চাইনি, কোনোমতে পাস করার চেষ্টা করেছি।

স্নাতকের পর ফিজিশিয়ান অ্যাসোসিয়েট স্টাডিজে মাস্টার্স করি, যে ডিগ্রি দিয়ে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রোগী দেখা, প্রেসক্রিপশন লেখা ও ডায়াগনস্টিক টেস্ট অর্ডার করা যায়। এরপর মেডিকেল সায়েন্সে ডক্টরেট শেষ করে হার্ভার্ডে আবেদন করি। এখন পাবলিক হেলথে প্রথম সেমিস্টারে পড়ছি।

আমার লক্ষ্য ছিল আইভি লিগে পড়া। কলাম্বিয়ার ফল আগে আসে, তাতে আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। তবে আবেদনের সময়ই ঠিক করেছিলাম, হার্ভার্ডে না হলে আর পড়ব না। বোস্টন শহর আমার পছন্দ, হার্ভার্ডের ব্র্যান্ড ভ্যালু আর বিশ্বজোড়া অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক আছে। বড় বড় বিজ্ঞানী ও বিখ্যাত ব্যক্তি সেমিনার করতে আসেন। আরেকটা বড় কারণ ক্রস-রেজিস্ট্রেশন: পাবলিক হেলথে পড়েও বিজনেস স্কুল, মেডিকেল স্কুল, এমনকি এমআইটিতেও ক্লাস নেওয়া যায়।

আমি মাস্টার্সের কথা বলতে পারি। এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ, স্নাতকের সিজিপিএ, স্টেটমেন্ট অব পারপাস আর রেকমেন্ডেশন লেটার ভালো রাখতে হয়। হার্ভার্ড শুধু জিপিএ দেখে না, দেখতে চায় আপনি কেন নির্দিষ্ট বিষয়ে পড়তে চান।

আমরা অনেকে এক সপ্তাহ বা এক মাস আগে লেখা শুরু করি। অনেকে চার-ছয় মাস আগে শুরু করার পরামর্শ দেন। আমি বলব, যত আগে সম্ভব লেখা শুরু করা উচিত। কারণ বারবার এডিট করতে হয়। অ্যাডমিশন রিভিউ কমিটি আপনাকে চেনে না, এসওপিই তাদের কাছে আপনাকে পরিচয় করানোর একমাত্র মাধ্যম। এআই বা অনলাইন টেমপ্লেট কপি করলে চলবে না, কারণ আপনার কারণ আর আমার কারণ আলাদা। জীবনের কোন ঘটনা আপনাকে এই বিষয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছে, সেই গল্প তুলে ধরতে হবে। সিজিপিএ কম থাকলে সংক্ষেপে কারণ উল্লেখ করা যায়। ‘আমি খুব পরিশ্রমী, মানুষকে সাহায্য করতে চাই’ ধরনের জেনেরিক লেখা হলে হবে না। এমনভাবে লিখতে হবে, যেন রিভিউ কমিটি বলেন, ‘এই শিক্ষার্থীকে আমি আমার বিভাগে চাই।’

আমার মতে, যিনি আপনাকে ভালোভাবে চেনেন। খ্যাতিমান অধ্যাপক আপনাকে না চিনলে জেনেরিক চিঠি লিখবেন, এমন হাজার হাজার চিঠি কমিটির কাছে থাকে। যিনি চেনেন, তিনি আপনার গবেষণা, দুর্বলতা কীভাবে কাটিয়েছেন, শক্তির জায়গা আর পাঁচ বছর পর আপনি কোথায় থাকতে পারেন, সুন্দরভাবে তুলে ধরতে পারবেন। আর অবশ্যই অনেক আগে অনুরোধ করতে হবে, কারণ অধ্যাপকেরা ব্যস্ত থাকেন।

এগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেকগুলোতে জড়িয়ে সব উল্লেখ করা ভুল বলে আমি মনে করি। এতে মনে হয় আপনার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল নেই, এক থেকে আরেকটিতে লাফিয়েছেন। যে বিষয়ে পড়বেন, তার সঙ্গে সম্পর্কিত কাজ করুন, যেমন অলিম্পিয়াড, ডিবেট, কোডিং প্রতিযোগিতা বা বই লেখা। নাচ-গান শখের জায়গা থেকে করতেই পারেন, তবে মূল ফোকাস ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের সঙ্গে মিলিয়ে হওয়া উচিত।

লেখালেখি পছন্দ করি, ২০২২ ও ২০২৩ সালের বইমেলায় আমার দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে। রেফারেলের পর অনেক রোগী ভাষাগত বা অন্য কারণে ফলোআপ করে না। তাদের সাহায্যে ‘রেফারেল অ্যাসিস্ট’ নামে একটি নন-প্রফিট সংগঠন পরিচালনা করি, যেখানে স্বেচ্ছাসেবকেরা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ও মনে করিয়ে দিতে সাহায্য করে। আরেকটি নন-প্রফিট ‘অ্যাচিভ’-এর লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার বাছাইয়ে সেমিনার আয়োজন। সাংবাদিকতাও করেছি।

জবিতে সাইকোলজি প্রফেশনাল মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি

জবিতে সাইকোলজি প্রফেশনাল মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জানুয়ারি-জুন সেশনের এক বছর মেয়াদি ‘স্পেশালাইজড ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি’ প্রফেশনাল মাস্টার্স প্রোগ্রামের পঞ্চম ব্যাচে ভর্তির আবেদন আহ্বান করা হয়েছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

হার্ভার্ডে ভর্তির যোগ্যতা কী জানালেন আসিফ মোক্তাদির

প্রকাশ: ০৭:৫০:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

পারিবারিক ভিসায় আমেরিকা যাওয়ার সময় কল্পনাও করিনি যে হার্ভার্ডে পড়তে পারব। দেশে উচ্চমাধ্যমিকের পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে তিন সেমিস্টার পড়েছিলাম। আমেরিকায় গিয়ে আবার নতুন করে শুরু করতে হলো, এর জন্য অনেক মনোবল দরকার। বায়োলজিক্যাল সায়েন্সে স্নাতক শেষ করে ফিজিশিয়ান অ্যাসোসিয়েট স্টাডিজে মাস্টার্স করি, পরে মেডিকেল সায়েন্সে ডক্টরেট। চিকিৎসাকর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে মনে হলো, রোগীদের আরও ভালো সেবা দিতে হলে আরও উচ্চতর ডিগ্রি দরকার। নিজেকে যাচাই করতে কলাম্বিয়া ও হার্ভার্ডে আবেদন করি। দুটোতেই সুযোগ পেয়ে অবাক হয়েছিলাম। অনেক ভেবে হার্ভার্ড বেছে নিই।

আমি খুবই ভাগ্যবান যে স্নাতকে সরকারি সহায়তা পেয়েছিলাম। তাই নিজের পকেট থেকে খুব বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়নি। মাস্টার্স ও ডক্টরেটের সময় ঋণ নিয়েছি, যা ধীরে ধীরে শোধ করব। আমি কফি শপে কাজ শুরু করেছি, তবে টিউশন ফি দেওয়ার জন্য নয়, নিজের খরচ আর পরিবারকে কিছুটা সাহায্য করার জন্য। আমেরিকায় এটি খুবই স্বাভাবিক। অধ্যাপকের সন্তানেরাও রেস্টুরেন্ট বা রিটেইল স্টোরে কাজ করেন। আমার ইউনিভার্সিটির অ্যাডভাইজারও কফি শপে কাজ করতেন।

আমি খুব ফাঁকিবাজ ছিলাম। বেলা দুইটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত দ্বিতীয় শিফটে কাজ করতাম, তখন শ্রীলঙ্কান ম্যানেজার থাকতেন না। আমি স্টোরের পেছনে বসে ফোন চালাতাম, ময়লা ফেলতে গিয়ে বাইরে বেশি সময় কাটাতাম। সহকর্মীরা মিলে বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করে ভেতরে বসে খেতাম, যা সেখানে অনুমোদিত ছিল না।

আমি দেশে তিন সেমিস্টার সম্পন্ন করে, সেখান থেকে প্রায় ৩৫ ক্রেডিট ট্রান্সফার করতে পেরেছিলাম, তাই চার বছরের জায়গায় তিন বছরে স্নাতক শেষ করি। বিশ্ববিদ্যালয় বাসার কাছে ছিল, টিউশন ফিও তুলনামূলক কম। শুরুতে ক্লাসে ইংরেজিতে প্রশ্ন করতে ভয় পেতাম, ভুল হলে শিক্ষক-সহপাঠীরা কী ভাববে। পেছনে চুপচাপ বসে থাকতাম। পরে বুঝলাম, প্রশ্ন না করলে আর না মিশলে এগোনো যাবে না। তখন ইংরেজি বলার চর্চা শুরু করি, প্রশ্ন করি, গ্রুপ স্টাডি করি। এতে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কেও জানতে পারি।

শুধু ফাঁকিবাজি নয়, সিদ্ধান্তের ভুলও ছিল। দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিস্টারে ২০-২২ ক্রেডিট নিতাম। আমেরিকায় সাধারণত ১২, ১৫ বা ১৮ ক্রেডিট নেয়, সেটা বুঝিনি। জেদ করে অনেক কঠিন কোর্স নিয়েছিলাম। ভাষার ভয়, নতুন শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো, কাজের পাশাপাশি পড়াশোনা আর লাইফস্টাইল ব্যালান্স—সব মিলিয়ে কঠিন হয়ে পড়েছিল। ড্রপআউট করতে চাইনি, কোনোমতে পাস করার চেষ্টা করেছি।

স্নাতকের পর ফিজিশিয়ান অ্যাসোসিয়েট স্টাডিজে মাস্টার্স করি, যে ডিগ্রি দিয়ে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রোগী দেখা, প্রেসক্রিপশন লেখা ও ডায়াগনস্টিক টেস্ট অর্ডার করা যায়। এরপর মেডিকেল সায়েন্সে ডক্টরেট শেষ করে হার্ভার্ডে আবেদন করি। এখন পাবলিক হেলথে প্রথম সেমিস্টারে পড়ছি।

আমার লক্ষ্য ছিল আইভি লিগে পড়া। কলাম্বিয়ার ফল আগে আসে, তাতে আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। তবে আবেদনের সময়ই ঠিক করেছিলাম, হার্ভার্ডে না হলে আর পড়ব না। বোস্টন শহর আমার পছন্দ, হার্ভার্ডের ব্র্যান্ড ভ্যালু আর বিশ্বজোড়া অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক আছে। বড় বড় বিজ্ঞানী ও বিখ্যাত ব্যক্তি সেমিনার করতে আসেন। আরেকটা বড় কারণ ক্রস-রেজিস্ট্রেশন: পাবলিক হেলথে পড়েও বিজনেস স্কুল, মেডিকেল স্কুল, এমনকি এমআইটিতেও ক্লাস নেওয়া যায়।

আমি মাস্টার্সের কথা বলতে পারি। এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ, স্নাতকের সিজিপিএ, স্টেটমেন্ট অব পারপাস আর রেকমেন্ডেশন লেটার ভালো রাখতে হয়। হার্ভার্ড শুধু জিপিএ দেখে না, দেখতে চায় আপনি কেন নির্দিষ্ট বিষয়ে পড়তে চান।

আমরা অনেকে এক সপ্তাহ বা এক মাস আগে লেখা শুরু করি। অনেকে চার-ছয় মাস আগে শুরু করার পরামর্শ দেন। আমি বলব, যত আগে সম্ভব লেখা শুরু করা উচিত। কারণ বারবার এডিট করতে হয়। অ্যাডমিশন রিভিউ কমিটি আপনাকে চেনে না, এসওপিই তাদের কাছে আপনাকে পরিচয় করানোর একমাত্র মাধ্যম। এআই বা অনলাইন টেমপ্লেট কপি করলে চলবে না, কারণ আপনার কারণ আর আমার কারণ আলাদা। জীবনের কোন ঘটনা আপনাকে এই বিষয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছে, সেই গল্প তুলে ধরতে হবে। সিজিপিএ কম থাকলে সংক্ষেপে কারণ উল্লেখ করা যায়। ‘আমি খুব পরিশ্রমী, মানুষকে সাহায্য করতে চাই’ ধরনের জেনেরিক লেখা হলে হবে না। এমনভাবে লিখতে হবে, যেন রিভিউ কমিটি বলেন, ‘এই শিক্ষার্থীকে আমি আমার বিভাগে চাই।’

আমার মতে, যিনি আপনাকে ভালোভাবে চেনেন। খ্যাতিমান অধ্যাপক আপনাকে না চিনলে জেনেরিক চিঠি লিখবেন, এমন হাজার হাজার চিঠি কমিটির কাছে থাকে। যিনি চেনেন, তিনি আপনার গবেষণা, দুর্বলতা কীভাবে কাটিয়েছেন, শক্তির জায়গা আর পাঁচ বছর পর আপনি কোথায় থাকতে পারেন, সুন্দরভাবে তুলে ধরতে পারবেন। আর অবশ্যই অনেক আগে অনুরোধ করতে হবে, কারণ অধ্যাপকেরা ব্যস্ত থাকেন।

এগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেকগুলোতে জড়িয়ে সব উল্লেখ করা ভুল বলে আমি মনে করি। এতে মনে হয় আপনার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল নেই, এক থেকে আরেকটিতে লাফিয়েছেন। যে বিষয়ে পড়বেন, তার সঙ্গে সম্পর্কিত কাজ করুন, যেমন অলিম্পিয়াড, ডিবেট, কোডিং প্রতিযোগিতা বা বই লেখা। নাচ-গান শখের জায়গা থেকে করতেই পারেন, তবে মূল ফোকাস ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের সঙ্গে মিলিয়ে হওয়া উচিত।

লেখালেখি পছন্দ করি, ২০২২ ও ২০২৩ সালের বইমেলায় আমার দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে। রেফারেলের পর অনেক রোগী ভাষাগত বা অন্য কারণে ফলোআপ করে না। তাদের সাহায্যে ‘রেফারেল অ্যাসিস্ট’ নামে একটি নন-প্রফিট সংগঠন পরিচালনা করি, যেখানে স্বেচ্ছাসেবকেরা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে ও মনে করিয়ে দিতে সাহায্য করে। আরেকটি নন-প্রফিট ‘অ্যাচিভ’-এর লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার বাছাইয়ে সেমিনার আয়োজন। সাংবাদিকতাও করেছি।

জবিতে সাইকোলজি প্রফেশনাল মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি

জবিতে সাইকোলজি প্রফেশনাল মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জানুয়ারি-জুন সেশনের এক বছর মেয়াদি ‘স্পেশালাইজড ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি’ প্রফেশনাল মাস্টার্স প্রোগ্রামের পঞ্চম ব্যাচে ভর্তির আবেদন আহ্বান করা হয়েছে।