আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দক্ষিণ ইউক্রেনের তুজলি লেগুনস ন্যাশনাল পার্কের প্রধান গবেষক ইভান রুসেভ জানান, ২০২২ সালে ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণ শুরু করার পর থেকে বিশাল সংখ্যক ডলফিনের মৃত্যু ঘটেছে।
ডলফিন শিকার করতে না পারলে দ্রুত ওজন হারাতে থাকে এবং চর্বি ভেঙে শক্তি সঞ্চয় করার চেষ্টা করে। কিন্তু কৃষ্ণাংশের যুদ্ধদূষিত জলে প্লাস্টিক, অ্যান্টিবায়োটিক এবং রাসায়নিকের কারণে সেই চর্বিতে আগে থেকেই বিষাক্ত পদার্থ জমে থাকে। এর ফলে শরীরের ভেতরে ক্ষতিকর রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ায় ডলফিনগুলোর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।
এ ছাড়া জেলেদের জালে আটকে দম বন্ধ হয়েও অনেক ডলফিন মারা যাচ্ছে। জাল থেকে মুক্ত করতে জেলেরা অনেক সময় ডলফিনের ডানা কেটে দিচ্ছে, যার ফলে শরীরে আঘাতের চিহ্নসহ এগুলো উপকূলে ভেসে উঠছে।
সর্বোপরি যুদ্ধবিমান, ড্রোন ধ্বংস এবং সাবমেরিন ডুবি থেকে নিঃসৃত ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও জ্বালানির কারণে কৃষ্ণ সাগরের পুরো বাস্তুতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে। খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষে থাকা ডলফিনের পাশাপাশি অন্যান্য মাছের প্রজাতির সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
একই সঙ্গে সমুদ্রের পানির বিস্ফোরণে শ্রবণশক্তি হারিয়ে লাখ লাখ মাছ মারা যাচ্ছে, যা সমুদ্রের ওপর নির্ভরশীল পরিযায়ী পাখিদের খাদ্যাভাবে ফেলছে। উত্তর ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যাতায়াতকারী এসব পাখি পর্যাপ্ত খাবার না পেয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই মারা পড়ছে, যা আগামী বছরগুলোতে পাখিদের বংশবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
উপকূলে প্রতিনিয়ত মৃত ও ক্ষতবিক্ষত ডলফিন ভেসে আসার ঘটনা ইউক্রেনের সাধারণ মানুষকে ব্যথিত করছে। ওডেসা শহরের বাসিন্দা তেতিয়ানা স্মোলচেঙ্কো জানান, সমুদ্রসৈকতে ভেসে আসা পচা ডলফিনের দেহ দেখে তাঁর আট বছরের সন্তান কেঁদে ফেলে। তিনি বলেন, মানুষ মারা যাওয়ার খবরে অভ্যস্ত হয়ে উঠলেও যুদ্ধের কারণে এই নিষ্পাপ প্রাণীগুলোর করুণ মৃত্যু দেখে চোখের পানি ধরে রাখা যায় না।

দৈনিক টার্গেট 




























