‘তোমাদের কৃষ্ণ বাঁকা, আমাদের রাম সোজা’— মন্তব্যে তোপের মুখে বাগেশ্বর বাবা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১১:৪৮:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ৭ বার পঠিত হয়েছে

বিতর্ক জোরদার হওয়ার পর ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী তাঁর মন্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন, তাঁর কথাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার করেরা এলাকায় আয়োজিত এক ‘রামকথা’ অনুষ্ঠানে। সেখানে উপস্থিত ভক্তদের উদ্দেশে কথা বলতে গিয়ে তিনি রামচন্দ্র ও কৃষ্ণের আচার-আচরণ, শারীরিক ভঙ্গি এবং তাঁদের নিবাস স্থান নিয়ে তুলনা করেন।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমাদের ভগবান কৃষ্ণ অত্যন্ত বাঁকা, এমনকি তাঁর নামটাও বাঁকা। আমাদের রামচন্দ্র অত্যন্ত সাদাসিধে। তিনি সোজা হাঁটেন, সোজা বসেন এবং তাঁর দৃষ্টিও সোজা।’

তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের ভগবানের দাঁড়ানো, হাঁটা এমনকি বাঁশি বাজানোর ভঙ্গিও বাঁকা—তিন জায়গা থেকে বাঁকানো। আর আমাদের ভগবান সোজা দাঁড়ান। আমাদের ভগবানের ধাম অযোধ্যাও সোজা, কিন্তু তোমাদের ধাম বৃন্দাবন।’

এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন গোষ্ঠী, কৃষ্ণভক্ত এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের অনেকেই এই মন্তব্যকে ভগবান কৃষ্ণের প্রতি অবমাননাকর বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সমালোচকদের মতে, একজন ধর্মীয় প্রচারকের কাছ থেকে হিন্দুধর্মের দুই অবতারের মধ্যে এ ধরনের ভেদাভেদমূলক এবং অবমাননাকর তুলনা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিতর্ক বৃদ্ধি পাওয়ার পর এক ভিডিও বার্তায় নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেন ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ভক্তির আবেগে ভেসে গিয়ে আমি কথাগুলো বলেছিলাম। আমার বক্তব্যের ভুল অর্থ বের করা হচ্ছে। আমি নিজে শ্রীকৃষ্ণের বিরোধী নই, আমার নিজের নামের মধ্যেও কৃষ্ণের নাম রয়েছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘ভগবানের গুণগান গাওয়ার সময় বা অনুভূতির গভীরতা থেকে কথাগুলো বলা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও যদি আমার কথায় কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকে, তবে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।’

তবে তাঁর এই ক্ষমা প্রার্থনার পরও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। সামাজিক মাধ্যমে এবং ধর্মীয় মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর দুর্গাপূজার আগে পশ্চিমবঙ্গে এসে বাঙালি হিন্দুদের পূজায় আমিষ খাওয়া ও নৈবেদ্য হিসেবে আমিষ দেওয়ার রীতি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন বাগেশ্বর বাবা। তিনি বলেন, ‘দুর্গা প্যান্ডেলের পেছনে অথবা মঞ্চের নিচে অনেকে আমিষ খাবার খায়। এদের ধার্মিক বলা যায়? আমি চাই এদের ধার্মিক নয়, পাখণ্ডি (ভণ্ড) বলে ডাকা হোক।’ এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। বাঙালি হিন্দুদের অপমান করায় তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবিও ওঠে। অবশ্য পরে বাগেশ্বর বাবা তাঁর অবস্থান থেকে সরে যান।

দিল্লিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে বাইরে থেকে গাড়ি প্রবেশ নিষেধ, এক দিনেই জরিমানা ৬৮ লাখ রুপি

দিল্লিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে বাইরে থেকে গাড়ি প্রবেশ নিষেধ, এক দিনেই জরিমানা ৬৮ লাখ রুপি

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে শীতকালীন কর্মপরিকল্পনা (উইন্টার অ্যাকশন প্ল্যান) বাস্তবায়নের প্রথম দিনেই ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ গাড়িকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এদিন বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা ও পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ বাবদ মোট ৬৮ লাখ ৪০ হাজার রুপি আদায় করেছে কর্তৃপক্ষ।

গদি ছাড়, ভোট চোর—রাহুলের নেতৃত্বে দিল্লিতে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

গদি ছাড়, ভোট চোর—রাহুলের নেতৃত্বে দিল্লিতে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা ‘ভোট চোর, গদি ছাড়’ স্লোগান দিতে দিতে নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকা থেকে রামলীলা ময়দানের দিকে মিছিল করেন। রাহুল গান্ধী খোলা ছাদের একটি জিপে করে সমাবেশস্থলে যান। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ঢোলও বাজান…

আপনি কোথাও পালাতে পারবেন না—রামলীলা থেকে মোদিকে রাহুলের হুঁশিয়ারি

আপনি কোথাও পালাতে পারবেন না—রামলীলা থেকে মোদিকে রাহুলের হুঁশিয়ারি

দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। রামলীলা থেকে মোদিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাহুল বলেছেন

জনপ্রিয় টার্গেট

বাংলাদেশের ইমার্জিং নেশনস ট্রফির দলে যাঁরা আছেন

‘তোমাদের কৃষ্ণ বাঁকা, আমাদের রাম সোজা’— মন্তব্যে তোপের মুখে বাগেশ্বর বাবা

প্রকাশ: ১১:৪৮:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

বিতর্ক জোরদার হওয়ার পর ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী তাঁর মন্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন, তাঁর কথাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার করেরা এলাকায় আয়োজিত এক ‘রামকথা’ অনুষ্ঠানে। সেখানে উপস্থিত ভক্তদের উদ্দেশে কথা বলতে গিয়ে তিনি রামচন্দ্র ও কৃষ্ণের আচার-আচরণ, শারীরিক ভঙ্গি এবং তাঁদের নিবাস স্থান নিয়ে তুলনা করেন।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমাদের ভগবান কৃষ্ণ অত্যন্ত বাঁকা, এমনকি তাঁর নামটাও বাঁকা। আমাদের রামচন্দ্র অত্যন্ত সাদাসিধে। তিনি সোজা হাঁটেন, সোজা বসেন এবং তাঁর দৃষ্টিও সোজা।’

তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের ভগবানের দাঁড়ানো, হাঁটা এমনকি বাঁশি বাজানোর ভঙ্গিও বাঁকা—তিন জায়গা থেকে বাঁকানো। আর আমাদের ভগবান সোজা দাঁড়ান। আমাদের ভগবানের ধাম অযোধ্যাও সোজা, কিন্তু তোমাদের ধাম বৃন্দাবন।’

এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন গোষ্ঠী, কৃষ্ণভক্ত এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের অনেকেই এই মন্তব্যকে ভগবান কৃষ্ণের প্রতি অবমাননাকর বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সমালোচকদের মতে, একজন ধর্মীয় প্রচারকের কাছ থেকে হিন্দুধর্মের দুই অবতারের মধ্যে এ ধরনের ভেদাভেদমূলক এবং অবমাননাকর তুলনা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিতর্ক বৃদ্ধি পাওয়ার পর এক ভিডিও বার্তায় নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেন ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ভক্তির আবেগে ভেসে গিয়ে আমি কথাগুলো বলেছিলাম। আমার বক্তব্যের ভুল অর্থ বের করা হচ্ছে। আমি নিজে শ্রীকৃষ্ণের বিরোধী নই, আমার নিজের নামের মধ্যেও কৃষ্ণের নাম রয়েছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘ভগবানের গুণগান গাওয়ার সময় বা অনুভূতির গভীরতা থেকে কথাগুলো বলা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও যদি আমার কথায় কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকে, তবে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।’

তবে তাঁর এই ক্ষমা প্রার্থনার পরও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। সামাজিক মাধ্যমে এবং ধর্মীয় মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর দুর্গাপূজার আগে পশ্চিমবঙ্গে এসে বাঙালি হিন্দুদের পূজায় আমিষ খাওয়া ও নৈবেদ্য হিসেবে আমিষ দেওয়ার রীতি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন বাগেশ্বর বাবা। তিনি বলেন, ‘দুর্গা প্যান্ডেলের পেছনে অথবা মঞ্চের নিচে অনেকে আমিষ খাবার খায়। এদের ধার্মিক বলা যায়? আমি চাই এদের ধার্মিক নয়, পাখণ্ডি (ভণ্ড) বলে ডাকা হোক।’ এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। বাঙালি হিন্দুদের অপমান করায় তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবিও ওঠে। অবশ্য পরে বাগেশ্বর বাবা তাঁর অবস্থান থেকে সরে যান।

দিল্লিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে বাইরে থেকে গাড়ি প্রবেশ নিষেধ, এক দিনেই জরিমানা ৬৮ লাখ রুপি

দিল্লিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে বাইরে থেকে গাড়ি প্রবেশ নিষেধ, এক দিনেই জরিমানা ৬৮ লাখ রুপি

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে শীতকালীন কর্মপরিকল্পনা (উইন্টার অ্যাকশন প্ল্যান) বাস্তবায়নের প্রথম দিনেই ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ গাড়িকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এদিন বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা ও পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ বাবদ মোট ৬৮ লাখ ৪০ হাজার রুপি আদায় করেছে কর্তৃপক্ষ।

গদি ছাড়, ভোট চোর—রাহুলের নেতৃত্বে দিল্লিতে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

গদি ছাড়, ভোট চোর—রাহুলের নেতৃত্বে দিল্লিতে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা ‘ভোট চোর, গদি ছাড়’ স্লোগান দিতে দিতে নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকা থেকে রামলীলা ময়দানের দিকে মিছিল করেন। রাহুল গান্ধী খোলা ছাদের একটি জিপে করে সমাবেশস্থলে যান। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ঢোলও বাজান…

আপনি কোথাও পালাতে পারবেন না—রামলীলা থেকে মোদিকে রাহুলের হুঁশিয়ারি

আপনি কোথাও পালাতে পারবেন না—রামলীলা থেকে মোদিকে রাহুলের হুঁশিয়ারি

দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। রামলীলা থেকে মোদিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাহুল বলেছেন